প্রিন্সদের বিচারে নিরপেক্ষ থাকবে কি সৌদি আরব ?

Badsha Salman
Share Button

সৌদি আরবে দুর্নীতির অভিযোগে আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকজন প্রিন্সসহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা আর ধনকুবেরদের ।

সোমবার (১৩ নভেম্বর) জাতিসংঘে নিয়োজিত সৌদি দূত আবদাল্লাহ আল-মোয়াল্লিম জানিয়েছেন, যথাযথ বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সৌদি রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ সূত্রকে উদ্ধৃত করে মিডল ইস্ট আই-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আটককৃতদের একাংশের ওপর শারীরিক নিপীড়নের কথা। তাই সৌদির প্রতিশ্রুতিতে ভরসা করতে পারছেন না অনেকেই।
সৌদি আরবে সাম্প্রতিক দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে রাজপরিবার থেকে ২০১ জনকে আটকের কথা জানানো হলেও রাজ দরবারের অভ্যন্তরীণ সূত্রকে উদ্ধৃত করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদ পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ ওয়েবসাইট মিডল ইস্ট আই তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানায়, আটককৃতদের প্রকৃত সংখ্যা ৫ শতাধিক।
রাজদরবারের অভ্যন্তরীণ সূত্রকে উদ্ধৃত করে এদের মধ্যে কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তির ওপর বেধড়ক পিটুনি ও নির্যাতন চালানোর কথা উঠে আসে ওই প্রতিবেদনে। তবে জাতিসংঘের সৌদি দূত দাবি করেছেন, নিরপেক্ষ বিচারকই আটককৃতদের বিরুদ্ধে শুনানি করবেন।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সোমবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে জানতে চাইলে আবদাুল্লাহ আল-মোয়াল্লিম বলেন, ‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি যে যারাই আটক হচ্ছেন তাদের সবাই স্বাভাবিক বিচার প্রক্রিয়ায় বিচার পাওয়ার সুযোগ পাবেন।’

তবে কতজনকে আটক করা হয়েছে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। বলেন, ‘আপনাদেরকে জানানোর মতো কোনও সংখ্যা আমার জানা নেই। সঠিক সময় আসলে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তা ঘোষণা করবে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে সমর্থন জানিয়েছেন। তার দাবি, যারা আটক হয়েছে তারা বছরের পর বছর ধরে দেশকে শুষে খাচ্ছিল। অবশ্য, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এ ব্যাপারে ‘সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ’ বিচার প্রক্রিয়া চালানোর জন্য রিয়াদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচও আটকের আইনি ভিত্তি ও অভিযোগের প্রমাণ হাজিরের মধ্য দিয়ে যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া অনুসরণে সৌদি আরবকে তাগিদ দিয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ৪ নভেম্বর সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দিয়ে নতুন একটি দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠন করেন। পরে এক দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ১১ জন রাজপুত্র, চারজন দায়িত্বরত মন্ত্রী, বেশ ক’জন সাবেক মন্ত্রী, ডেপুটি ও ব্যবসায়ীদের আটক করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ ও নিরাপত্তা বাহিনীতেও বড় ধরনের রদবদল আনা হয় ।

যুবরাজ হওয়ার আগে মোহাম্মদ বিন সালমান শপথ নিয়ে বলেছিলেন: ‘আমি আপনাদেরকে আশ্বস্ত করছি, দুর্নীতির মামলায় কেউ টিকতে পারবে না-সে যেই হোক না কেন। এমনকি তিনি যদি রাজপুত্র কিংবা মন্ত্রীও হন , তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

যারা এখনও আটক হননি তারা যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন তার জন্য তাদের প্রাইভেট ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন মোহাম্মদ বিন সালমান।

রিয়াদের এক সূত্রের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই জানায়, বন্ধ করে দেওয়া অ্যাকাউন্ট এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় পড়া ব্যক্তিদের সংখ্যা আটককৃতদের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

হাউস অব সৌদের এতো জ্যেষ্ঠ রাজপুত্রদের ওপর এই মাত্রার ধরপাকড় অভিযান চালানো হবে তা কেউ ভাবেনি। আর সেকারণেই তারা পালানোর সময় পায়নি এবং ধরা পড়েছে।

সূত্রকে উদ্ধৃত করে মিডল ইস্ট আই সম্প্রতি জানিয়েছে, গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের সময় এতোটাই বাজেভাবে পেটানো ও নির্যাতন চালানো হয়েছে যে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে।

সব মিলে আটককৃতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts