প্রেসিডেন্টের ওপর কোনো প্রভাব খাটাবেন না সু চি

myanmar-su-chi
Share Button

মিয়ানমারের পরবর্তী প্রেসিডেন্টের ওপর কোনো প্রভাব খাটাবেন না সু চি। এমনকি প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে নাক গলানোর কোনো ইচ্ছেও তার নেই। বৃহস্পতিবার সুচির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে এনএলডির শপথের সময় বেসরকারিভাবেই শপথ নিয়েছিলেন সু চি। তাই ধারণা করা হয়েছিল সু চি তার প্রতিনিধি হিসেবে একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন। আর ছায়া হয়ে নিজেই প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট সু চির কথামতো চলবেন এমন গুঞ্জন উঠেছিল। কিন্তু এসব কথা উড়িয়ে দিলেন সু চি। নতুন প্রেসিডেন্ট নিজের মতোই চলবেন। সেখানে কোনো হস্তক্ষেপ করবেন না সু চি।

মিয়ানমারে দীর্ঘদিনের সামরিক শাসনের অবসান হয়েছে। আর প্রথমবারের মতো নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার কিভাবে কাজ করবে সে বিষয়ে বৃহস্পতিবার এনএলডির সদস্যরা বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেছেন।

দল থেকে সু চির অনুগত দুই সদস্যকে পরবর্তী প্রেসিডেন্টের জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমেই যার নাম রয়েছে তিনি হচ্ছেন থিন কিয়াও (৭০)।

এ মাসেই পার্লামেন্ট সদস্যদের মধ্যে ভোট গ্রহণের মাধ্যমে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। আর নতুন প্রেসিডেন্ট ১ এপ্রিল থেকেই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এনএলডির নেতা খিন সু সু কি বলেন, আমি সত্যিই খুব খুশি এবং খুব আনন্দিত। আমি বিশ্বাস করি দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য থিন কিয়াও অং সাং সু চির সঙ্গে একত্রে কাজ করবেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্টের মনোনয়নের অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না সু চি। কিন্তু নিজের ফেসবুক পেজ থেকে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে একটি বার্তা পোস্ট করেন তিনি। সেখানে সু চি দলের জন্য এই মনোনয়নকে প্রথম পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা জনগণের কল্যাণে কাজ করতে আপ্রাণ চেষ্টা করবো।

তবে সু চি প্রেসিডেন্ট হোক বা না তার দলের সদস্যরা সব সময় তার সমর্থন চান এটা স্পষ্ট। কেননা এনএলডির উচ্চকক্ষের সদস্য কিয়া থিথা বলেন, নতুন প্রেসিডেন্ট সু চির কাছ থেকে পরার্ম গ্রহণ করবে। সু চি প্রেসিডেন্ট হিসেবে না থাকলেও সবকিছু তিনিই নিয়ন্ত্রণ করবেন। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যার ছত্রছায়ায় আমরা জনগণের জন্য কাজ করব।

মিয়ানমারের বড়মাপের রাজনীতি বিশ্লেষক তো কিয়ার লেইং বলেন, দেশের জনগণের এধরনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। মানুষ পরিবর্তনের জন্য ভোট দিয়েছে। তাই একজন বেসামরিক ব্যক্তি যখন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিযুক্ত হবেন তখন জনগণ তাকে সমর্থন করবে। এই প্রেসিডেন্ট বিকল্প হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে কিনা সেটা নিয়ে কেউ মাথা ঘামাবে বলে আমি মনে করি না।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারে সামরিক শাসন অবসান করতে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করেছেন সু চি। তিনি প্রায় ১৫ বছর গৃহবন্দী ছিলেন।




 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment