বছরে প্রায় দুই কোটি গর্ভপাত হয় ভারতে!

কোটির বেশি গর্ভপাত
Share Button

সম্প্রতি এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে , ভারতে বছরে দেড় কোটিরও বেশি গর্ভপাত করানো হয়। সোমবার দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ মেডিকাল জার্নালে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সমীক্ষায় জানা গেছে, ২০১৫ সালে সারা ভারতে মোট ১ কোটি ৫৬ লাখ গর্ভপাত হয়েছে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে গত ১৫ বছর ধরে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই সংখ্যাটি ৭ লাখের আশপাশে বলা হয়। এখানেই শেষ নয়, হাসপাতালে গিয়ে গর্ভপাত করানোর থেকে বাড়িতেই ওষুধের সাহায্যে গর্ভপাত করিয়ে থাকেন প্রায় ৮১ শতাংশ নারী।

মুম্বাইয়ের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ পপুলেশন সায়েন্সেস-এ কর্মরত এবং এই গবেষণার প্রধান ডা. চন্দ্র শেখর জানিয়েছেন, ‘সরকারি যে তথ্য প্রকাশ করা হয় তাতে শুধুমাত্র সরকারি হাসপাতালে করানো গর্ভপাতের হিসেব থাকে। বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র অথবা বাড়িতে করানো গর্ভপাতের কোনো হিসেব এখানে দেয়া হয় না।’
জার্নালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ওষুধ খেয়ে গর্ভপাতের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ। প্রায় ২২ লাখ গর্ভপাত হয় অস্ত্রপচার করিয়ে এবং ৮০ হাজার গর্ভপাত হয় অন্যান্য বিপজ্জনক পদ্ধতিতে।

এই বিষয়ে বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেছিল টাইমস অব ইন্ডিয়া। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, গর্ভপাতের যে সংখ্যা সামনে এসেছে তাতে তারা বিন্দুমাত্র আশ্চর্য হননি। সরকারি হাসপাতালের এক চিকিৎসাক জানিয়েছেন, এর আগেও মুম্বাই এবং চেন্নাইয়ে বেশ কিছু সমীক্ষা করা হয়েছিল। সেখান থেকে পাওয়া তথ্যেও বোঝা গিয়েছিল যা জানানো হয় এবং ভাবা হয়, ভারতে গর্ভপাতের সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি।

এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নোজের শেরিয়ার জানিয়েছেন, ‘গর্ভপাতের জন্য বিক্রি হওয়া ওষুধের হারই বলে দেয় ভারতের চিত্রটা ঠিক কী।’

এই গবেষণায় উঠে এসেছে আরো একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। তা হলো- ২০১৫ সালে ৪ কোটি ৮১ লাখ গর্ভধারণের মধ্যে অর্ধেকই ছিল অবাঞ্ছিত। জার্নালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ভারতে প্রজনন বয়সের মধ্যে থাকা ১,০০০ জন নারীর মধ্যে ৪৭ জনের গর্ভপাত হয়ে থাকে। পাকিস্তানে এই সংখ্যা ৫০, নেপালে ৪২ এবং বাংলাদেশে ৩৯। অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ আটকাতে গর্ভনিরোধ এবং ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের উপর আরো জোর দেয়ার কথাই বলেছেন ডা. চন্দ্র শেখর।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts