বিস্কুটের বাক্সে ভরে শিশু পাচার : পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার ১৪

বিস্কুটের বাক্সে ভরে শিশু পাচার
Share Button

পশ্চিমবঙ্গে একটি বড়সড় শিশু পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলি থেকে এখনও অবধি ১৪জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
উত্তর চব্বিশ পরগণার বাদুড়িয়াতে প্রথম এই চক্রটির সন্ধান পায় পুলিশের সি আই ডি।

সি আই ডি জানিয়েছে, বিস্কুটের বাক্সে ভরে তিনটি সদ্যোজাতকে পাচার করার চেষ্টা হচ্ছিল সেই সময়ে। শেষ মুহূর্তে খবর পেয়ে বাদুড়িয়ার একটি নার্সিং হোমে পৌঁছিয়ে সি আই ডি হাতে নাতে ধরে ফেলে পাচারকারীদের।
গ্রেপ্তার করা হয় নার্সিং হোমের মালিক, নার্স, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্ত্রী, আদালত-কর্মী সহ মোট আট জনকে। একজন চিকিৎসক পলাতক।

ধৃতদের জেরা করে সি আই ডি-র অনুমান গত বছর তিনেকে প্রায় তিরিশটি শিশুকে এভাবেই পাচার করে দেওয়া হয়েছে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে। একটি শিশুকে বিদেশেও পাচার করা হয়েছে বলে ধৃতেরা জেরায় জানিয়েছে।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই গত দুদিনে তল্লাশি চলেছে মধ্য কলকাতা ও দক্ষিণ পশ্চিম কলকাতার দুটি নার্সিং হোমে। আজ বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার হয়েছে আরও দুজন। এদের মধ্যে একজন বেহালা অঞ্চলের একটি নার্সিং হোমের কর্ত্রী, অন্যজন মধ্য কলকাতার কলেজ স্ট্রিট এলাকার একটি নার্সিং হোমের মালিক।

সি আই ডি জানিয়েছে কখনও মৃত সন্তান প্রসব করেছেন মা, এমনটাই জানানো হত পরিবারকে। তারপরে জীবিত সদ্যজাতের বদলে মৃত শিশু পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হত। পরিবারের মুখ বন্ধ রাখতে টাকাও দেওয়া হত অনেক ক্ষেত্রে, এমনটাই জানিয়েছে সি আই ডি।

আবার কখনও গর্ভপাত করাতে আসা নারীদের বুঝিয়ে সন্তান প্রসব করানো হত, তারপরে টাকার বিনিময়ে সেই সদ্যোজাতকে নার্সিং হোমেই রেখে দেওয়া হত যতক্ষণ না তাকে দত্তক নেওয়ার মতো পরিবার পাওয়া যাচ্ছে।
কন্যা সন্তান আর পুত্র সন্তানের জন্য আলাদা হারে টাকা দেওয়া হত, যার পরিমাণ এক থেকে তিন লক্ষ টাকা।
দত্তক দেওয়ার কাজটি যাতে ঠিকমতো করা যায়, তার জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও খুলেছিল বাদুড়িয়া থেকে ধৃত ব্যক্তিরা।
গোটা পাচার চক্রে আরও অনেকে জড়িত আছে বলেই সি আই ডি-র সন্দেহ। আরও বেশ কয়েকটি নার্সিং হোম, হাসপাতাল এবং চিকিৎসকের ওপরে নজর রাখছে বলে জানিয়েছে সি আই ডি।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts