ভারতে বৈধতা পাচ্ছে বাল্যবিয়ে?

বাল্য বিয়ে
Share Button

বাংলাদেশের পর এবার ভারতও বাল্যবিয়েকে বৈধতা দিতে যাচ্ছে মোদি সরকার। বাল্যবিয়েকে পরোক্ষ সমর্থন দিতে আদালতে একটি মামলাও করা হয়েছে। ১৮ বছরের নীচে বিবাহিত মেয়েদের সঙ্গে যৌন সঙ্গমকে যাতে অপরাধ বলে আইনে প্রতিপন্ন করা হয় তার জন্য দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

কারণ নাবালিকাদের যৌন নিপীড়নের হাত থেকে রক্ষা করতে ভারতীয় সংবিধানে একাধিক ধারা আছে। এমনকী, ১৮ বছরের নীচে মেয়েদের বিয়েকেও অবৈধ এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলেও উল্লেখ করা আছে। এমন ধারা থেকে বাচতে বা ধারা বাতিল করেত এ মামলা বলে জানা গেছে।

এই জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক যে এফিডেভিট দায়ের করেছে তা চোখ কপালে তুলে দিতে বাধ্য। এফিডেভিটে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সাফ জানিয়েছে, ১৫ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে বিবাহিত মেয়েদের সঙ্গে যৌন সঙ্গমকে ‘অপরাধ’ বলাতে তাদের আপত্তি আছে। কারণ, দেশের সামাজিক কাঠামোয় অধিকাংশ পরিবার ১৮ বছরের নীচেই মেয়ের বিয়ে দিতে বাধ্য হন। মেয়েটিও নাকি নিজের মতে স্বামীর ঘরে যায় এবং বৈবাহিক সুখে সংসার ধর্ম পালন করে। বৈবাহিক আচরণের ভিত্তিতেই নাবালিকা বধূ তার স্বামীর সঙ্গে যৌন সঙ্গমে আবদ্ধ হয়। একে কোনওভাবেই ‘অপরাধ’ বলা যায় না বলে এফিডেভিটে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বরং সংবিধানের ৩৭৫-এর সংশোধীত ২ নম্বর ধারায় ১৫ থেকে ১৮ বছরের বিবাহিত নাবালিকাদের সঙ্গে যৌন সঙ্গমকে ছাড় দিতে চায় বলেও এফিডেভিটে উল্লেখ করেছে। কিন্তু, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এই অবস্থান নাবালিকাদের বিবাহ এবং এর সঙ্গে জুড়ে থাকা বহু সামাজিক সমস্যাকে শুধু সামনে নিয়ে আসেনি, সেইসঙ্গে আইনের দ্বিচারিতা থেকে সরকারের মানসিকতাকেও প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

‘ক্রিমিনাল ল (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট ২০১৩’-তে বলা হয়েছে ১৮ বছর বয়স হলে তবেই মেয়েরা যৌন সঙ্গমে আইনি বৈধতা পাবে। ‘দ্য প্রবিশন অফ চাইল্ড ম্যারেজ অ্যাক্ট ২০০৬’— এ বলা হয়েছে মেয়েদের বিবাহ যোগ্য বয়স ১৮ বছর। ‘প্রোটেকশন অফ চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সেস অ্যাক্ট, ২০১২’-তে বলা হয়েছে, ১৮ বছরের নীচে সকলেই নাবালক, নাবালিকা। আর নাবালক, নাবালিকাদের মন বা শরীর যৌন সঙ্গমে অংশ নেওয়ার মতো পরিপক্ক হয়ে ওঠে না।
বিশ্বজুড়েই, বিশেষ করে উন্নয়নশীল এবং গরিব দেশগুলিতে ‘বাল্য বিবাহ’ একটা গুরুতর সামাজিক সমস্যা। এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে ১৮ বছরের নীচে বিয়ে হওয়ার মেয়ের সংখ্যা প্রায় ৭০০ মিলিয়ন। এরমধ্যে ২৫০ মিলিয়ন মেয়ে ১৫ বছর বয়স হওয়ার আগেই মা হয়েছে। এই সংখ্যার এক তৃতীয়াংশই ভারতে।

ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায়, ১৮৬০ সালের সংশোধনীতে বলা হয়েছিল কোনও পুরুষ যদি ১৮ বছরের নীচে কোনও মেয়ের ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হয় তাহলেও তাকে ধর্ষণ বলে গণ্য হবে। অথচ, ৩৭৫ ধারায় পরবর্তীকালে ২ নং সংশোধনী এনে ১৫ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে বিবাহিত নাবালিকার সঙ্গে যৌন সঙ্গমকে ধর্ষণ বলে গণ্য না করার ছাড় দেওয়া হয়।

একদিকে যেখানে নাবালিকাদের অধিকার সুরক্ষা করার কথা বলা হচ্ছে অপরদিকে বিবাহিত নাবালিকাদের সঙ্গে যৌন সঙ্গমকে বৈধ করার সিলমোহর দেওয়া হয়েছে।

আইনের এই দ্বিচারিতা নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। ‘আরআইটি ফাউন্ডেশন’ বলে যে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এই মামলা করেছে তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক যে এফিডেভিট দায়ের করেছে তার জেরে সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারায় বর্ণিত মৌলিক অধিকার এবং ২১ নম্বর ধারায় বর্ণিত সমমর্যাদার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।
গোটা বিষয়েই ১৭ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে দিল্লি হাইকোর্ট।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts