ভারতে স্ত্রী নির্যাতনের হার বাড়ছে

ভারতে স্ত্রী নির্যাতনের হার বাড়ছে
Share Button

বধূ নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার ঘটনায় দেশ জুড়ে কমছে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার (সাজা হওয়ার) শতকরা হার। বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তুলনামূলক বিচারে এই হার কমে যাওয়া যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে। দেখা যাচ্ছে, দেশের তুলনায় রাজ্যে সাজা হওয়ার হার অনেক কম। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮ এ ধারা তাই গুরুত্ব হারাচ্ছে বলেই মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ।

তথ্য বলছে, ২০১৭ সালে (৩০ জুন পর্যন্ত) রাজ্যের নিম্ন আদালতগুলিতে মামলা দায়ের হয়েছে ২১৫২টি। সেখানে সাজা হয়েছে মাত্র ৪.২৪ শতাংশ। ২০১৬ সালে মামলা দায়ের হয়েছিল ৪১০২টি। ২.৭৭ শতাংশ সাজা হয়েছে। ২০১৫ সালে মামলা হয়েছিল ৩২৫৩টি। ওই বছর সাজা হয় মাত্র ৩.০১ শতাংশ। দেশের তুলনায় এই হার অত্যন্ত কম।

দেশে ২০১৫ সালে ৪৯৮ এ ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল ১,১৩,৪০৩টি (২০১৪ সালে সংখ্যাটি ছিল ১,২২,৮৭৭টি)। পশ্চিমবঙ্গে সেই সংখ্যা ছিল মাত্র ২০,১৬৩টি। ওই বছর দেশে ৪৯৮ এ ধারায় দায়ের হওয়া মাত্র ৪৬,২১৭টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছিল। সাজা হয় মাত্র ৬,৫৫৯ জনের। মোট মামলা বিচারাধীন থেকে যায় ৪,৭৭,৯৮৬টি। শতকরা হিসাবে দোষী সাব্যস্ত হয় ১৪.২ শতাংশ।

২০০৬ সালের সঙ্গে ২০১৫ সালের তুলনা করলে দেখা যাবে, গত দশ বছরে সাজা হওয়ার সংখ্যা কমছে ক্রমাগত। ২০০৬ সালে দোষী সাব্যস্ত হয় যেখানে ২১.৯ শতাংশ সেখানে ২০১৫ সালে সাজা হয়েছিল মাত্র ১৪.২ শতাংশ।

আইনজীবীরা এর পিছনে একাধিক কারণ দেখছেন। অনেকের মতে, বছরের পর বছর মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ার প্রভাব পড়ছে। দীর্ঘদিন বাদে আদালতে সেভাবে নির্যাতন বা আত্মহত্যায় প্ররোচনার প্রমাণ দাখিল করা যাচ্ছে না।

কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এই আইনের অপপ্রয়োগ হচ্ছিল কি না, তা তর্ক সাপেক্ষ। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছে, অভিযোগ পেলেই গ্রেফতার করা যাবে না। এই নির্দেশ কোথাও যেন আইনকেই শিথিল করে দিয়েছে।’’ আইনজীবী অনিন্দ্যসুন্দর দাসের কথায়, ‘‘এই ধারায় বিচারের ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে। অপরাধের শিকার পরিবারগুলি সঠিক সময়ে বিচার পাচ্ছে না। বিচারে বিলম্ব কিছুটা সাজা হওয়ার হারকে
কমিয়ে দিচ্ছে।’’

কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘‘আইনের অপব্যবহার যেমন হচ্ছে তেমনই পুলিশি তদন্তেও কোথাও কোথাও ফাঁক থেকে যাচ্ছে। এই সবের কারণেই সাজা হচ্ছে কম।’’

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts