ভোট না দিলে সরকারি সুবিধা বন্ধের হুমকি

image

পঞ্চায়েত অফিসে ‘কৃষকবন্ধু’র চেক বিলি করছিলেন প্রধান। বারে বারেই তার মুখে শোনা যাচ্ছিল হুমকি। লোকসভা নির্বাচনে শাসকদল তৃণমূলের প্রার্থীকে ভোট না দিলে সরকারি কোনও সুযোগ সুবিধা আর মিলবে না। ভোটটা তৃণমূলকেই দিতে হবে। না হলে কেড়ে নেওয়া হবে কৃষকদের পরিচয়পত্র। ভবিষ্যতে মিলবে না কৃষকবন্ধুর চেক। মৃত্যুর পর পরিবার পাবে না ক্ষতিপূরণও। গোটা ঘটনায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভোগালী-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মোদাস্সর হোসেনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যাবে বলে জানিয়েছে বিরোধীরা।

রাজ্য সরকার কয়েক মাস আগেই কৃষকদের জন্য একটি প্রকল্প ঘোষণা করে। রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, এক একর জমি চাষের জন্য বছরে চাষিদের দেওয়া হবে ৫ হাজার টাকা। জমির পরিমাণ অনুযায়ী বছরে সর্বনিম্ন দু’হাজার টাকা মিলবে। ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে কোনও কৃষক মারা গেলে এককালীন দু’লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। গত ১ জানুয়ারি থেকে এই প্রকল্প কার্যকর হয়েছে। সোমবার সেই প্রকল্পেরই প্রথম দফার চেক বিলি করছিলেন মোদাস্সর। প্রায় ৬০০ চেক বিলি করার কথা ছিল। সেখানে মোদাস্সর উপস্থিত কৃষকদের বলেন, ‘‘আগামী যে লোকসভা নির্বাচন আসছে, প্রত্যেকের যেন মাথায় থাকে, চেকটা দিচ্ছি আমরা। ভোটটাও আমাদের দিতে হবে।’’

ওই প্রকল্পের আওতাধীন কৃষকদের সরকারের তরফে একটি পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। এ দিন চেক দেওয়ার সময় সেই পরিচয়পত্রের ফোটোকপি নেওয়া হচ্ছিল। মোদাস্সর হুমকি দিয়ে বলেন, ‘‘পরিষ্কার বলছি, আজ জেরক্স নিচ্ছি। আগামী দিনে চেক দেওয়ার সময় পরিচয়পত্রের অরিজিনাল কেড়ে নেব।’’ কৃষকের মৃত্যু হলে যে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা সরকারি প্রকল্পে রয়েছে, তা-ও দেওয়া হবে না বলে মুদাস্সর জানিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘‘মৃত্যুর পর ২ লাখ টাকা করে পাওয়ার কথা। সেই টাকাও আর পাবে না।’’ পেতে গেলে কী করতে হবে, সে কথাও বলেন তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান। তিনি বলেন, ‘‘ভোটটা আমাদের দিতে হবে। আমাদের প্রার্থী মিমি চক্রবর্তী। তাঁকে জোড়াফুল চিহ্নে ছাপ দিতে হবে।’’

ওই পঞ্চায়েতে সব গ্রাম মিলিয়ে প্রায় ১১ হাজার ভোটার রয়েছে। সব ভোট যাতে তৃণমূলের বাক্সে পড়ে সে ব্যাপারে পঞ্চায়েতে দাঁড়িয়ে নির্দেশ দেন মুদাস্সর। তিনি জানান, এটা লোকসভা নির্বাচন। তাই অন্য দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করা যাবে না। না হলে পঞ্চায়েত নির্বাচনের মতো প্রার্থী প্রত্যাহার করিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দখল করে নিতেন। তাঁর কথায়, ‘‘আগের বার প্রার্থী প্রত্যাহার করিয়ে আমরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পঞ্চায়েত দখল করে নিয়েছি। লোকসভা বলে সেটা সম্ভব নয়।’’

ভাঙড়ের ওই পঞ্চায়েত যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। সেখানে তৃণমূলের প্রার্থী মিমি চক্রবর্তী। মুদাস্সরের এ দিনের ‘নির্দেশ’ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে যাদবপুরের বিজেপি প্রার্থী অনুপম হাজরা বলেন, ‘‘কী ভাবে ওই চেকবিলি হচ্ছিল সেটা ভেবেই অবাক হচ্ছি! এ ভাবে করা যায় নাকি। সরকারি অফিসে দাঁড়িয়ে কোনও প্রধান দলের প্রচার করতেও পারেন না। রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছি। কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো হবে।’’

রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের দিন ক্ষণ ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর সাধারণত সরকারি প্রকল্পের কোনও চেকই বিলি করা যায় না। এ ক্ষেত্রে কী হয়েছে তা খতিয়ে দেখছে কমিশন। এ দিন রাজ্যের অতিরিক্ত নির্বাচনী আধিকারিক সঞ্জয় বসু বলেন, ‘‘আমাদের মিডিয়া ওয়াচের মাধ্যমে বিষয়টি নজরে এসেছে। জেলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে ইতিমধ্যেই রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে।’’



 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts