ভয়াবহ যুদ্ধের সামনে মধ্যপ্রাচ‌্য

যুদ্ধের সমুক্ষে দাড়িয়ে

গত কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলছে নানা মেরুকরণ।পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই মেরুকরণে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে নিয়ে ইরান-লেবানন ও ইয়েমেনের বিরুদ্ধে নতুন খেলা শুরু করেছে বলে ধারণা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের। আর এ ক্ষেত্রে পেছনে থেকে কলকাঠি নাড়ছেন মিশরের সামরিক প্রেসিডেন্ট সিসি।সবমিলেই পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ সঙ্কটের দিকে আগাচ্ছে।

ইসরাইল যে কোনো মুহূর্তে লেবাননে আক্রমণ করতে পারে। সৌদি আরবও ইয়েমেনে প্রবেশ করতে পারে। ইসরাইল আক্রমণ হানার আগেই গেম চেঞ্জ করতে ইরান হিজবুল্লাহকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতে পারে। সৌদি আরব ও ইসরাইলের সঙ্গে থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত কাতারকে হয়রানি করতে পারে।

যখন এই সব কিছু ঘটেছে অথবা ঘটছে,তখন তেহরান সরাসরি দুবাই আক্রমণ করতে পারে এবং এর কিছু পরেই ইরাকের কুয়েত আক্রমণ আবারো আলোচনায় আসতে পারে। ইসরাইলও সিরিয়ার গোলান মালভূমি এলাকায় আক্রমণ করতে পারে।

এই যুদ্ধ লোহিত সাগর থেকে পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন ফ্রন্টে একযোগে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সৌদি উপদ্বীপ অগ্নিকুণ্ডে আচ্ছন্ন হতে পারে।

আপনি অব্যাহতভাবে মনে করতে পারেন যে সৌদি আরবে বর্তমানে যা ঘটেছে তা হচ্ছে দুর্নীতি বা সিংহাসন বা অর্থের জন্য লড়াই। আপনি অব্যাহতভাবে মনে করতে পারেন যে, ‘একটি তরুণ সৌদি অভিজাত সম্প্রদায়’ গঠনে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান পুরানো স্টাফদের ছেঁটে ফেলার চেষ্টা করছেন। আপনি অব্যাহতভাবে মনে করতে পারেন যে, যাদের আটক করা হয়েছে তাদের কাছ থেকে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

যে গর্জন আমরা গত সপ্তাহে প্রত্যক্ষ করেছি এর মধ্য এটিও অন্তভুক্ত আছে। ঐতিহ্যগত সৌদি প্রশাসন, সৌদি ব্যবসায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল থেকে যারা কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন, তাদের প্রত্যেককেই আটক ও বরখাস্ত করা হয়েছে এবং হচ্ছে। যারা আঞ্চলিক যুদ্ধের বিরুদ্ধে, একইভাবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

যারা সৌদি-ইরান সংঘাতের বিরুদ্ধে, তাদেরও আটক কিংবা বরখাস্ত করা হচ্ছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নতুন করে ঢেলে সাজানো সৌদি শাসন ব্যবস্থায় যাদের আপত্তি জানানোর সক্ষমতা রয়েছে- এমন সবাইকে ছুঁড়ে ফেলা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা নিশ্চিত যে রিয়াদের নতুন প্রশাসনের আটক ও বরখাস্তের তালিকা সিআইএ এবং মোসাদ কর্তৃক সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তা সৌদির হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। যেমনটি ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই তুরস্কের অভ্যুত্থানের জন্য কারা থাকবে সিআইএ ও মোসাদ কর্তৃক তার তালিকা তৈরি করা হয়েছিল।

কিন্তু এই সবের পরেও অন্য আরেকটি বিষয় রয়েছে। আর এই বিষয়টি নিয়ে আসলেই বিশ্লেষকরা চিন্তিত। পশ্চিমারা সমগ্র অঞ্চলটি ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছে। এই ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনাজুড়ে নতুন গেমটি সাজানো হয়েছে। এই অঞ্চলে যুদ্ধ ও সঙ্কট এখন আর খুব বেশি দূরে নয়। নতুন এই সঙ্কট একটি ঝড় হিসাবে সমগ্র অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত হবে।

তারা এখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সৌদি প্রশাসনের পুনর্বিন্যাস করছে। যারাই এই দৃশ্যকল্পের বিরুদ্ধে তাদের সবাইকে একে একে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। রিয়াদ ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইসরাইলের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে। ইসরাইলের সঙ্গে একত্রে তারা প্রথমেই লেবাননকে আক্রমণ করতে অগ্রসর হচ্ছে।

আমিরাত-সৌদি -মিশর এই ত্রয়ীকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের তৈরি বর্ম এই অঞ্চলের ধ্বংস করবে। এটা এমন একটি ফ্রন্ট যা সৌদি আরবকে আত্মহত্যার জন্য টেনে নিয়ে যাবে। তারা দেশটিকে পুরোপুরি ধ্বংস করেছাড়বেে।

ইরানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শোডাউনের জন্যই এই ফ্রন্ট গঠিত হয়েছে। তবে, তাদের বাহিনী ইরানে পৌঁছানোর আগে তা লেবানন এবং ইয়েমেনকে মুছে ফেলবে। অন্যদিকে কাতারও তাদের প্রতিশোধ নিতে চাইবে।

উল্লেখ্য, ইরাক আক্রমণ, সিরিয়ার যুদ্ধ, ইয়েমেনের সংঘর্ষ নতুন এই সঙ্কট ও নতুন আঞ্চলিক যুদ্ধের পরিস্থিতির বাইরে নয়। এসব একই সূত্রে গাঁথা।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts