মা-মেয়েকে অতিথি দিয়ে ধর্ষণ করাতো সৌদি কূটনৈতিক

মা-মেয়েকে ধর্ষণ
Share Button

দ্বিতীয় দফা ডাক্তারি পরীক্ষাতেও দুই নেপালি নারীকে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে ভারতে নিযুক্ত সৌদি কূটনীতিকের বিরুদ্ধে। ভারতের গুরগাঁও সিভিল হাসপাতালের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, ডাক্তারি পরীক্ষায় দেখা গেছে, নেপালি দুই নারী মারাত্মক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তারা যে মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন তা স্বাভাবিক হতে কয়েক বছর লাগবে।

আর দ্বিতীয় দফা ডাক্তারি পরীক্ষার পরই ভারত সরকার ঘটনা তদন্তে সৌদি আরবকে সহযোগিতা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
গত সোমবার রাতে দিল্লির পাশে অভিজাত এলাকা গুরগাঁওয়ে সৌদির এক কূটনীতিকের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থেকে ওই দুই নেপালি নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের একজনের বয়স ২০। অপরজনের ৪৪। তারা সম্পর্কে মা-মেয়ে।
২০ বছর বয়সী ওই নারীর ভাষায়, ‘শেষ চারমাস ছিল আমাদের জন্য অভিশাপ। এটা ছিল খুবই কুৎসিত…। ভাবছিলাম আমরা মরেই যাচ্ছি। পরিবার আমাদের মৃতদেহও খুঁজে পাবে না।’

ওই নেপালি নারী জানান, কখনো ৭-৮ জন পুরুষ আমাদের সারাদিন ধর্ষণ করতো। তারা সবাই সৌদি আরবের। আমরা বাধা দিলে ওই কূটনীতিক ও তার পরিবার আমাদের হত্যার হুমকি দিতো। বলতো লাশ স্যুয়োরেসে ভাসিয়ে দেয়া হবে।
নির্যাতিত মা বলেন, এমনই এক ঘটনায় আমি বাধা দেয়ার পর সৌদি কূটনীতিক ছুরি দিয়ে আমার বাহু কেটে দেন।
ধর্ষিতা ওই দুই নারী আরো জানান, কখনো সারাদিন তাদের খাবারই দেয়া হয়নি। কিন্তু কূটনীতিকের অতিথিদের মনোরঞ্জনের আগে তাদের গোসল করতে হতো। অতিথিরা তাদের ধর্ষণ করতো। কখনো পায়ুপথেও নির্যাতন চালানো হতো।

ধর্ষিতারা জানান, সৌদি ওই কূটনীতিকের স্ত্রী তাদের এই অত্যাচার থেকে রক্ষার কোনো চেষ্টা করেনি। বরং সে তাদের পেটাতো। আমরা সকাল থেকে রাত অবধি গৃহের সব কাজ করতাম। আর রাত শেষে নেমে আসতো নির্যাতনের খড়গ। প্রায় সময়ই তাদের রুটি, বিস্কুট ও চা খেয়ে থাকতে হয়েছে। তাদের কখনোই বাড়ির বাইরে যেতে দেয়া হতো না।
ধর্ষিতাদের অভিযোগ, সৌদি কূটনীতিক তাদের গুরগাওঁয়ের বাইরে নৈনিতাল ও আগ্রায় নিয়েও নিপীড়ন চালিয়েছে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts