মেয়ের বিয়েতে বাবা-মায়ের অভিনব উপহার

মেয়ের বিয়েতে বাবা-মায়ের অভিনব উপহার
Share Button

অফিসে যাওয়ার পথে অ্যাম্বুল্যান্সটি চোখে পড়েছিল জনৈক দেবাশিস গুপ্তের। যার গায়ে লেখা, ‘অল্পার (তিন্নি) শুভ বিবাহ উপলক্ষে আর্ত মানুষের সেবায় এই সেবাযানটি নিবেদিত হল’। বিয়ের ‘উপহার’টির ছবি সম্প্রতি ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি। তার পরেই সেটি ছড়িয়ে পড়ে ইন্টারনেটে। পেয়েছে অজস্র ‘লাইক’।
কোন্নগরের নবগ্রামের বাসিন্দা অলোক নাথ বসুর মেয়ে অল্পার বিয়ে হয়েছে গত মার্চে। তাঁর বিয়ে উপলক্ষেই অ্যাম্বুল্যান্স কিনতে নবগ্রামের একটি সংস্থাকে টাকা দিয়েছিলেন অলোক। আর পুরো ব্যাপারটিই করেছেন প্রচারের আড়ালে থেকে। দামোদরভ্যালি কর্পোরেশনের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী অলোক সোমবার বলেন, ‘‘আগে থেকেই ভেবেছিলাম, তিন্নির বিয়েতে অ্যাম্বুল্যান্স দান করব। সেই মতো ওই সংস্থাকে টাকা দিয়েছিলাম।’’ তাঁর কথায়, ‘‘বিয়ের আগে ওই ব্যাপারে কারও সঙ্গে বেশি আলোচনা করেনি। শুধু মেয়ে, আমার স্ত্রী তনুশ্রী এবং সংস্থার কয়েকজন এই বিষয়ে জানতেন।’’

অলোক প্রচার না চাইলেও সংস্থার তরফে পরে ওই বার্তাটি অ্যাম্বুল্যান্সের গায়ে লিখে দেওয়া হয়। যা থেকেই দেবাশিসের মতো আরও হাজারো মানুষ জানতে পেরেছেন অলোকের ওই উদ্যোগের কথা।

মেয়ের বিয়েতে অ্যাম্বুলেন্স উপহার
মেয়ের বিয়েতে অ্যাম্বুলেন্স উপহার

বাবার উদ্যোগে গর্বিত অল্পা। বর্তমানে কলকাতার বাসিন্দা অল্পা বলেন, ‘‘এমন বাবা-মায়ের সন্তান হয়ে গর্বিত। সমাজ থেকে এত কিছু পাই আমরা। সমাজকেও আমাদের কিছু ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।’’ অবশ্য এই প্রচেষ্টা প্রথম নয়। অল্পা জানান, এর আগে ঠাকুমা মারা যাওয়ার সময় শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে আত্মীয়দের না খাইয়ে তাঁর বাবা বেলুড়ের এক হাসপাতালে লক্ষাধিক টাকা দিয়েছিলেন। এছাড়া, আরও কয়েকটি সংস্থাকে সে সময় অক্সিজেন সিলিন্ডার, নেবুলাইজার মেশিন, এয়ার বেড দিয়ে সাহায্য করেছিলেন আলোক।

এদিন কথা বলতে গিয়ে আবেগঘন হয়ে পড়েন অলোক। তাঁর কথায়, ‘‘৫০০ জন মানুষের একজনও যদি সমাজ নিয়ে ভাবেন বা সমাজের জন্য কিছু করতে চান, তাহলে সেটা অনেক ব়ড় প্রাপ্তি।’’

বিশিষ্ট সমাজকর্মী শাশ্বতী ঘোষ এ ব্যাপারে বলেন, ‘‘খুবই ভাল উদ্যোগ। বিয়ের আড়ম্বরতা কমিয়ে, পণ দেওয়া-নেওয়ায় না গিয়ে এ ধরনের পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আমাদের সকলেরই এমন চেষ্টা করা উচিত।’’

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts