হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষনা আব্দুল্লাহ সালেহের সন্তানের

আহমেদ আলি সালেহ

ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আলি আব্দুল্লাহ সালেহকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তার ছেলে আহমেদ আলি সালেহ। সৌদি টেলিভিশিন চ্যানেল আল-একবারিয়ার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) হুথিদের হামলায় নিহত হন সালেহ। প্রায় তিন বছর ধরে এ হুথিদের সঙ্গে জোট গড়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন সালেহ ও তার সমর্থকরা।

তবে ২ ডিসেম্বর সালেহ এক টেলিভিশন ভাষণে ইয়েমেনের উপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য সৌদি জোটের প্রতি আহ্বান জানান। আনুষ্ঠানিকভাবে হুথিদের সঙ্গেকার জোটও ভেঙে দেন তিনি।

সৌদি জোটের সঙ্গে সংলাপে বসার ব্যাপারেও আগ্রহ প্রকাশ করেন সালেহ। একে সালেহর পক্ষ পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করে হুথিরা। সানায় শুরু হয় হুথি ও সালেহ সমর্থকদের সংঘর্ষ। কয়েকদিন ধরে সংঘর্ষ চলার পর সোমবার নিহত হন সালেহ।

প্রতিবেদেনে আহমেদ আলী সালেহকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘ইয়েমেন থেকে সর্বশেষ হুথিকে তাড়ানো পর্যন্ত আমি যুদ্ধে নেতৃত্ব দেব। এসময় হুথি মিলিশিয়াদের কাছ থেকে ইয়েমেনকে বাঁচাতে তার বাবার অনুসারীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সালেহ’র ছেলে আহমেদ আলী সালেহ সংযুক্ত আরব আমিরাতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এখন তাকে আবুধাবির একটি বাড়িতে বন্দি রাখা হয়েছে। তবে বন্দি হওয়ার পর তার প্রথম বক্তব্য প্রকাশের খবরে ধারণা করা হচ্ছে, হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তার সাবেক শত্রু আরব আমিরাত তাকে ছেড়ে দেবে।

ইয়েমেনের রিপাবলিকান গার্ডের সাবেক কমান্ডার আহমেদ আলী সালেহ তার পরিবারের সর্বশেষ প্রভাবশালী ব্যক্তি। ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ৬ দিন ধরে চলা যুদ্ধের পর তার অন্যান্য নিকটাত্মীয়ের কোনও খবর এখনও পাওয়া যায়নি।

সালেহর মৃত্যু ইয়েমেনের বহুপক্ষীয় গৃহযুদ্ধকে আরও সংকটের দিকে নিয়ে গেল। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তার মাধ্যমে দ্বন্দ্ব শেষ করতে চেয়েছিল। ইয়েমেনে সেনা কর্মকর্তা, সশস্ত্র উপজাতি নেতাসহ অনেক অনুসারী রয়েছে সালেহর। তারা এখনও যুদ্ধে ব্যাপক প্রভাব রাখে।

এদিকে সালেহর মৃত্যুকে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি শত্রুদের রাষ্ট্রদ্রোহী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বিজয় বলে অভিহিত করেছেন হুথি নেতা আব্দুল মালিক আল হুথি। ইয়েমেনে সালেহ’র রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ আন্দোলন তাদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য নয়।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে তুমুল বিক্ষোভের মুখে তিন দশকের ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন সালেহ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন নিয়ে গণভোটের ধাঁচে আয়োজিত এক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় বসেন উপ-প্রেসিডেন্ট আব্দ-রাব্বু মানসুর হাদি। আর তার বিরুদ্ধে জোট গঠন করে সালেহ সমর্থক ও হুথিরা।

২০১৪ সালে রাজধানী সানার দখল নেয় হুথিরা। ২০১৫ সালে দেশজুড়ে ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীদের উত্থানের মুখে দেশ ছাড়েন মানসুর হাদি। ২৬ মার্চ ২০১৫ থেকে ইয়েমেনে ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান পরিচালনা শুরু করে সৌদি আরব ও তার মিত্র দেশগুলো।

ইয়েমেনের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আব্দ-রাব্বু মানসুর হাদির কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ বিমান অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts