করিমগঞ্জের শামসুদ্দিনসহ ৪ রাজাকারের ফাঁসির আদেশ

Shamsuddin+Nasir+Mannan2

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের শামসুদ্দিন আহমেদসহ ৪ আসামির বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া বাকি একজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল ৩৩০ পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শেষে এ আদেশ দেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, লুণ্ডন ও নির্যাতনের অভিযোগে আনা ৭টির মধ্যে ৪টি (১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর) অভিযোগ প্রামাণিত হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- কিশোরগঞ্জ জেলা বারের আইনজীবী মো. শামসুদ্দিন আহমেদ ও তার ভাই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মো. নাসিরউদ্দিন আহমেদ। এছাড়া মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত অন্য দুই আসামি হলেন- গাজী আব্দুল মান্নান ও হাফিজ উদ্দিন।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন- আজহারুল ইসলাম।

দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে শামসুদ্দিন আহমেদ কারাগারে আটক রয়েছেন।তার উপস্থিতিতেই আজ এই মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। তবে মামলার বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

এর আগে গতকাল সোমবার এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য ট্রাইব্যুনাল আজকের দিন ধার্য করেন।

২০১৫ সালের ১২ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে কিশোরগঞ্জের এই পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বিচার শুরু হয় ট্রাইব্যুনালে।

এরপর গত ১১ এপ্রিল এই মামলায় পাঁচ আসামির বিষয়ে যুক্তিতর্ক শেষ করে রাষ্ট্র এবং আসামিপক্ষ।

প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জন এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। তবে আসামিপক্ষে কোনো সাক্ষী ছিল না।

এরপরে যে কোনো দিন রায় ঘোষণা করা হবে বলে সিএভি (অপেক্ষামান) ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

অবশেষে আজ এই মামলার রায় ঘোষণা করা হল। ২০১০ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরুর পর এটি ২৩তম রায়।

কিশোরগঞ্জের এই ৫ আসামির বিরুদ্ধে আনা সাত অভিযোগ হলো:

অভিযোগ ১: ১৯৭১ সালের ১২ নভেম্বর দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানার বিদ্যানগর ও আয়লা গ্রামের মোট আট জনকে হত্যা ও একজনকে আহত করা।

এ ঘটনায় পাঁচজনকেই আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ।

অভিযোগ ২: ১৩ নভেম্বর আয়লা গ্রামের মিয়া হোসেনকে হত্যা।

আসামি নাসিরের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে এ ঘটনায়।

অভিযোগ ৩: একই উপজেলার মো. আব্দুল গফুরকে অপহরণ করে ২৬ সেপ্টেম্বর খুদির জঙ্গল ব্রিজে নিয়ে হত্যা।

এ ঘটনায় পাঁচজনকেই আসামি করা হয়েছে। অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ ৪: ২৩ অগাস্ট করিমগঞ্জ উপজেলা ডাকবাংলোতে শান্তি কমিটির কার্যালয়ে আতকাপাড়া গ্রামে মো. ফজলুর রহমান মাস্টারকে অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যা।

এ ঘটনায় পাঁচজনকেই আসামি করা হয়েছে। অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ ৫: ৭ সেপ্টেম্বর রামনগর গ্রামের পরেশ চন্দ্র সরকারকে হত্যা।

আসামি শামসুদ্দিনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে এ ঘটনায়।

অভিযোগ ৬: ২৫ অগাস্ট পূর্ব নবাইদ কালিপুর গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক ও রূপালীকে অপহরণ করে নির্যাতন ও হত্যা।

আসামি মান্নানের বিরুদ্ধে অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে এ ঘটনায়।

অভিযোগ ৭: ১৫ সেপ্টেম্বর আতকাপাড়া গ্রামে আক্রমণ করে ২০-২৫টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ।

আসামি মান্নানের বিরুদ্ধে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে এ ঘটনায়।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts