লিটনকে হত্যা করার পর খুনিদের সঙ্গে কাদের খানের ফোনালাপ

bdnews
Share Button

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে হত্যা করার পর খুনিদের অবস্থান জানতে চেয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলেন একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. কর্নেল (অব.) আবদুল কাদের খান। কিলিং মিশন শেষ হওয়ার ২২ মিনিট পর কিলার গ্রুপের সদস্য রাশেদুল ইসলাম ওরফে মেহেদি হাসানকে ফোন দেন তিনি। এ সংক্রান্ত ফোনালাপের চাঞ্চল্যকর ভয়েসকল এখন তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছে সংরক্ষিত আছে। পুলিশ সদর দফতরের এলআইসি (ল’ফুল ইন্টার সেকশন) শাখা এরই মধ্যে ওই কথোপকথনের রেকর্ড সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন কোম্পানির কাছ থেকে সংগ্রহ করেছে।

পুলিশ সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে রাশেদুল ইসলাম ওরফে মেহেদি হাসানকে ফোন দেন সাবেক সংসদ সদস্য কাদের খান। তবে কথা বলার সময় তিনি (কাদের খান) নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার করেননি। ওই সময় তিনি তার গাড়িচালক হান্নানের মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। কাদের খান ফোনকল দিয়ে প্রথমে বলেন, ‘তোমরা এখন কোথায়? জবাবে মেহেদি বলে, আমরা বামনডাঙ্গা বাজার পার হচ্ছি।’ এরপর কাদের খান জানতে চান, ‘ওদিকের খবর কী বলো?’ জবাবে মেহেদি তাকে জানায়, ‘এতক্ষণে সব শেষ হয়ে গেছে।’ এরপর কাদের খান মেহেদিকে বলেন, ‘তোমরা তাড়াতাড়ি চলে আসো।’

এর আগে একই মোবাইল ফোন থেকে ৫টা ১২ মিনিটে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও সাংবাদিক পরিচয়দানকারী চন্দন কুমার রায়ের সঙ্গে কথা বলেন কাদের খান। এ সময় তিনি সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের বাড়িতে কারা আছে, তা জানতে চান। কিলিং মিশনের আগে সংসদ সদস্যের বাড়ি ফাঁকা আছে বলে চন্দনই ক্লিয়ারেন্স দিয়েছেন কাদের খানকে।

সদর দফতরের ওই কর্মকর্তা জানান, সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন নিহত হওয়ার তিনদিন আগে ও পরে ওই এলাকায় ব্যবহৃত প্রায় ১০ হাজার মোবাইল ফোনের কললিস্ট যাচাই-বাছাই করা হয়। এর মধ্যে আড়িপেতে সন্দেহভাজন ৩৮টি মোবাইল ফোন চিহ্নিত করে এসব নম্বরের মালিকানা যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোবাইল কোম্পানির কাছ থেকে ভয়েস রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়। এসব ভয়েস রেকর্ডের মধ্যে ৮টিতে হত্যা পরিকল্পনা ও কিলিং মিশন সংক্রান্ত কথোপকথন পাওয়া যায়। এসব কথোপকথনের সূত্র ধরেই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা এবং ঘাতকদের চিহ্নিত করা হয় বলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, দেশে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাদের গ্রাহকদের ভয়েস রেকর্ড সংরক্ষণ করতে পারে। সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন কোম্পানির গ্রাহক সংখ্যা ও সার্ভার ক্যাপাসিটির ওপর ভয়েস রেকর্ড সংরক্ষণ সক্ষমতা নির্ভর করে। এক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজন মনে করলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকে যে কোনো মোবাইল ফোনের ভয়েস রেকর্ড সংগ্রহ করতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর অনেক অপরাধের পেছনে জড়িতদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts