তারুণ্য ধরে রাখার কিছু জাদুকরী উপায়!

তারুণ্য ধরে রাখার কিছু জাদুকরী উপায়!
Share Button

সৌন্দর্যপিপাসু মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই যেমন সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উপায় বের করেছে, তেমনি চেষ্টা করেছে তারুণ্যকে দীর্ঘদিন ধরে রাখতে!

বিজ্ঞানের এই অত্যাধুনিক যুগে এসেও সে চেষ্টা বিন্দুমাত্র কমেনি। বাজারে এখন হরেক রকমের কসমেটিকস পাওয়া যায় তারুণ্যকে ধরে রাখার!

কিন্তু আসলেই কি সেগুলো কাজে দেয়? তার পরিবর্তে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলেই তারুণ্যকে দীর্ঘায়িত করা যায়, বার্ধক্যকে করা যায় বিলম্বিত!

 

ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

বর্তমানে সৌন্দর্যের দুনিয়ায় একটি কথা প্রায়ই শোনা যায়। আর তা হলো পজিটিভ থিংকিং! সোজা বাংলায় যাকে বলে ইতিবাচক চিন্তা! জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক করে তুলতে পারলে অনেক মুশকিলই আসান হয়ে যায়।

দুশ্চিন্তার প্রভাব অনেকটা পারমানবিক বোমার মতোই! সুদূরপ্রসারী ছাপ ফেলে যায় সবকিছুতেই। এর প্রভাবে ত্বক, চুল নষ্ট হতে শুরু তো করেই শরীরের প্রধান অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন হৃত্‍পিণ্ড, কিডনি, লিভার ইত্যাদির ওপরেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

সব সময় হাসিখুশি থাকলে নিজের জীবনটা যেমন স্বস্তিদায়ক হয়, তেমনি তারুণ্যও হয় দীর্ঘায়িত। সব ধরনের প্রতিকূলতায় যে ব্যক্তি সাহসে বুক বেঁধে চলতে পারে যৌবনের আশীর্বাদ তার ভাগ্যেই জোটে!

 

দূরে থাক মানসিক চাপ

শরীর ও মনের ক্ষতি করতে মানসিক চাপের জুড়ি মেলা ভার! যত যাই হোক, তারুণ্য ধরে রাখতে এই চাপ থেকে দূরে থাকতেই হবে! তবে বলা যতটা সহজ, দূরে থাকাটা ততটাই কঠিন। তাই কীভাবে মানসিক চাপ কমানো যায় সেটা ভাবাই বরং বেশি সহজ!

অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফলে শরীরে এক ধরনে হরমোন ক্ষরণ হয় যা শরীরে টক্সিন ছড়ায় এবং এটা রক্তনালিকে সরু করে দেয়। যার ফলে রক্তচাপ বাড়ে, মস্তিষ্ক ও হৃত্‍পিণ্ডে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে।

ফলে ত্বক খসখসে হয়ে যাওয়া, চুল পড়ে যাওয়া, অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়া এবং ত্বকে বলিরেখা পড়া ইত্যাদি সমস্যার উদ্ভব ঘটে। মানসিক চাপ কমানোর জন্য নিজের পছন্দমতো কোনো কাজ থাকলে সেটা করা উচিত। যেমন জীবজন্তু পোষা, বই পড়া, গান শোনা, বেড়াতে যাওয়া ইত্যাদি। এসব কাজে মনের ভার অনেকাংশেই লাঘব হয়।

 

জাদুকরী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট

তারুণ্য ধরে রাখতে যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর তা হল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। আমাদের শরীরেই অনেক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্ষিত থাকে। কিন্তু বর্তমান লাইফস্টাইল যেমন অতিরিক্ত ফাস্টফুড খাওয়া, স্ট্রেস, মাত্রাতিরিক্ত টেনশন, ধূমপান, কায়িক পরিশ্রমে অনীহা ইত্যাদি আমাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।

এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাদ্য। শাকসবজি ও ফলমূলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যতটা ইচ্ছে খেতে পারেন! এর ফলে অকাল বার্ধক্য ও নানান অসুখবিসুখ থেকে দূরে থাকতে পারবেন।

তবে যদি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ট্যাবলেট খেতে চান তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়াটা জরুরি। গবেষণায় দেখা গিয়েছে ফলমূল, শাকসবজি গ্রহণে যেখানে ১০০ ভাগ সুফল মেলে, সেখানে মাত্র ২৫ ভাগ কাজ হয় ট্যাবলেট বা ক্যাপসুলে।

অনেকেই কোনো কিছু ভাজার পর পোড়া তেলটুকু রেখে দেন অন্যকিছু রান্না করার জন্য। এই পোড়া তেলের ব্যবহার শরীরের জন্য শুধু কুফলই বয়ে নিয়ে আসে। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তৈরিতে সহায়ক এনজাইমগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বয়স বাড়ার সাথে রেড মিট খাওয়াটাও কমিয়ে দেয়া উচিত। কারণ রেড মিট বেশি খেলে শরীরে আয়রনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের প্রক্রিয়া বিনষ্ট করে।

তারুণ্য দীর্ঘদিন ধরে রাখতে হলে শুধু রূপচর্চাই যথেষ্ট নয়! প্রয়োজন অভ্যাসের পরিবর্তন ও সুষ্ঠু খাদ্যাভ্যাস।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts