মুসুর চিংড়ি ও কিমা ডাল রেসিপি

মুসুর চিংড়ি ও কিমা ডাল
Share Button
শীতে বাজার ভরে যায় শীতকালীন ফল, সবজি ও মাছে। রকমারি রান্না খেতে ভাল লাগে এই মরশুমে। আমি আজ দু’টি আমিষ ডাল রান্নার রেসিপি শেয়ার করছি আপনাদের সঙ্গে— আশা করি ভাল লাগবে। সকলেই আজকাল স্বাস্থ্য সচেতন। তাই ডেইলি মেনুতে রাখেন এমন খাবার যা খাদ্যগুণে ভরপুর। ডালের খাদ্যগুণের কথা সকলেরই জানা। একবাটি ডাল থেকে অনেকটা প্রোটিন পাওয়া যায়। কিন্তু ডাল যেহেতু দৈনিক খাদ্য তালিকায় থাকে তাই মাঝেমধ্যে একটু অন্য রকম স্বাদ না পেলে কি আর ভাল লাগে? তেমনই দু’টি আমিষ ডালের রেসিপি দিলাম। যাঁরা আমিষ খান না তাঁরা চিংড়ি ও কিমা বাদ দিয়ে রান্না করতে পারেন।

মুসুর চিংড়ি

উপকরণ:

মাঝারি চাবড়া চিংড়ি— ২৫০ গ্রাম (মাথা ও লেজ বাদ দেওয়া)
মুসুর ডাল— ২০০ গ্রাম
পেঁয়াজ কুচি— ২টি পেঁয়াজ
রসুন কুচি— দেড় টেবিলচামচ
আদাবাটা— ১ চা-চামচ
টম্যাটো কুচি— ১টি বড় টম্যাটো
নুন— স্বাদমতো
চিনি— ১ চা-চামচ
গোটা জিরে— ১ চা-চামচ
গরমমশলা গুঁড়ো— ১ চা-চামচ
হলুদগুঁড়ো— ১/২ চা-চামচ
লঙ্কাগুঁড়ো— ১ চা-চামচ
কাঁচালঙ্কা কুচি— ১ চা-চামচ
কিসমিস— ২০টি
ঘি— ৫০ গ্রাম
সর্ষের তেল— ৩ টেবিলচামচ

প্রণালী: ডাল ধুয়ে জলে ভিজিয়ে রাখুন ১ ঘণ্টা। মাছ ধুয়ে নুন মাখিয়ে রাখুন। কড়াইতে তেল ও ঘি মিশিয়ে গরম করুন। তেল গরম হলে তাতে জিরে ও তেজপাতা ফোড়ন দিন। ফোড়ন হয়ে গেলে তার মধ্যে পেঁয়াজ ও রসুন কুচি দিয়ে হাল্কা করে ভাজুন। পেঁয়াজ হাল্কা ভাজা হলে তাতে চিংড়িমাছ দিন। মাছগুলো একটু গোলাপি রং ধরলে তাতে ভিজিয়ে রাখা ডাল দিন জল ঝরিয়ে এবং ভাল করে কষতে থাকুন। মুসুরডাল কষানোর সময় একে একে আদাবাটা, টম্যাটো কুচি, লঙ্কাগুঁড়ো ও হলুদগুঁড়ো দিন ও আরও খানিকক্ষণ কষতে থাকুন। ডাল বেশ ভাজা ভাজা হলে নুন, চিনি ও ১ কাপ জল দিন। ঢাকা দিয়ে রান্না করুন। মাঝে-মধ্যে নেড়ে দিন। ডাল বেশ ফাটা ফাটা ও সেদ্ধ হয়ে এলে ঢাকা খুলে দিন। এই সময় কিসমিস, কাঁচালঙ্কা ও গরমমশলা দিন ও আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন। এই ডাল একটু শুকনো শুকনো হয় এবং ভাত অথবা রুটির সঙ্গে খুব ভাল লাগে। একইভাবে এই ডাল রান্না করতে পারেন চিংড়িমাছ ছাড়াও।

 

কিমা দিয়ে ছোলার ডাল

উপকরণ:

ছোলার ডাল— ২০০ গ্রাম
মটন কিমা— ২০০ গ্রাম
মটরশুটি— ১/২ কাপ
কিসমিস— ২০টি
পেঁয়াজকুচি— ১/২ কাপ
রসুনকুচি— ১ টেবিলচামচ
আদাবাটা— ২ চা-চামচ
টম্যাটো কুচি— ১/২ কাপ
কাঁচালঙ্কা কুচি— ২ চা-চামচ
হলুদগুঁড়ো— ১/২ চা-চামচ
লঙ্কাগুঁড়ো— ১/২ চা-চামচ
নুন— স্বাদমতো
চিনি— ১ চা-চামচ
ঘি— ২ টেবিলচামচ
সর্ষের তেল— ৬ টেবিলচামচ
ধনেগুঁড়ো— ১/২ চা-চামচ
গরমমশলা গুঁড়ো— ১ চা-চামচ
গোটা জিরে— ১ চা-চামচ
তেজপাতা— ২টি
শুকনো লঙ্কা— ১টি

প্রণালী: ১ কাপ জল দিয়ে কিমা সেদ্ধ করতে দিন। একটু নুন দিতে ভুলবেন না। ডাল ভিজিয়ে রাখুন ঘণ্টাখানেক। কিমা সেদ্ধ হলে জল ছেঁকে নিন। কিমাসেদ্ধর জলটা রেখে দিন আলাদা করে। কিমাসেদ্ধর জলের সঙ্গে আরও ১/২ কাপ জল ও অল্প নুন দিয়ে ডাল সেদ্ধ করে নিন। দেখবেন যেন বেশি সেদ্ধ না হয়ে যায়। এর পর কড়াইতে তেল গরম করুন ও তাতে জিরে, তেজপাতা ও শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন। ফোড়ন হয়ে গেলে তাতে পেঁয়াজকুচি ও রসুনকুচি দিয়ে হাল্কা করে ভাজুন। এই সময় পেঁয়াজের সঙ্গে সেদ্ধ কিমা দিয়ে কষতে থাকুন। কিমা যখন একটু ভাজা ভাজা হয়ে আসবে তখন একে একে টম্যাটো কুচি, আদাবাটা, হলুদগুঁড়ো, লঙ্কাগুঁড়ো, ধনেগুঁড়ো, নুন ও চিনি দিন ও বেশ ভাল করে কষে নিন। কিমা বেশ কষানো হলে তাতে সেদ্ধ ডাল ও কিসমিস দিন ও ভাল করে ফুটতে দিন। বেশ ঘন হয়ে এলে ঘি, গরমমশলা গুঁড়ো ও কাঁচালঙ্কা কুচি দিন। ডালের সঙ্গে কিমা ভালভাবে মিশে গেলে নামিয়ে সার্ভ করুন গরম গরম। ইচ্ছা হলে এই ডাল কিমা বাদ দিয়েও করতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে দিতে হবে ৪ টেবিলচামচ নারকেলের কুচি। এই ডাল লুচি, রুটি ও পরোটার সঙ্গে খুব ভাল লাগে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts