আজ বসন্ত

আজ বসন্ত
Share Button

‘মধুর বসন্ত এসেছে মধুর মিলন ঘটাতে/মধুর মলয়-সমীরে মধুর মিলন রটাতে।’ ফাল্গুনের প্রথম দিন শনিবার, শীত শীত আমেজের মধ্যে প্রকৃতিতে ‘ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত।’

শীতের রুক্ষ প্রকৃতিতে বর্ণিলতা ছড়িয়ে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে রঙের ছোঁয়া লাগে বাঙালির মনেও। বসন্তের হাত ধরে একদিন পরেই (১৪ ফেব্রুয়ারি) আসবে ভালবাসার উৎসব।

ফাল্গুনে বনে বনে ঝড়া পাতার জীর্ণতা পেরিয়ে কচি পাতায় পাতায় নতুন প্রাণের জয়োগান মুখরতা। বসন্তের প্রকৃতিতে অবশেষে সুর খুঁজে পাবে কোকিল। বসন্তেই বুনো ফুলের ঘ্রাণে মোহিত মৌমাছির চঞ্চল ওড়াউড়ি। ফাল্গুন এলেই ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকের সুর আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সবুজে সবুজে।

ফাল্গুন করুণ স্মৃতিতে মনে বিষাদের সুরও তোলে। রাষ্ট্র ভাষা বাংলার জন্য জীবন ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত আট ফাল্গুন (একুশে ফেব্রুয়ারি)। ফাল্গুলের পলাশ-শিমুল-কৃষ্ণচূড়ার লালে ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য রফিক, জব্বার, শফিউর, সালামের ত্যাগের স্মৃতি খুঁজেছেন বহু কবি-সাহিত্যিক, গীতিকার।

নাগরিক জীবনে ঋতুরাজ বৈচিত্র্য নিয়ে ধরা না দিলে কোথাও পথের ধারে কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম শোভা নানা যন্ত্রণাক্লিষ্ট ব্যস্ত নাগরিকেদের হঠাৎই মনে করিয়ে দেবে বসন্তের কথা। নগরীর বৃক্ষনিবিড় কোন পার্কে কোকিলের ডাক ক্ষণিকের জন্য মুগ্ধ করবে কখনো। কিন্তু বসন্ত বরণ উৎসবের মধ্যমণি কিন্তু এ নগরই। উন্মুখ তারুণরা উচ্ছ্বাসে বসন্ত বরণ করে নেবে।

ফাল্গুনের প্রথম দিন রাজধানীতে তরুণ-তরুণীরা বাংলা একাডেমি মেলা প্রাঙ্গণে একুশের বইমেলা, চারুকলা চত্বর, টিএসসি, পাবলিক লাইব্রেরি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শাহবাগ, মাতিয়ে রাখবে। বোটানিক্যাল গার্ডেন, রমনা পার্কসহ বিভিন্ন স্থানেও তারুণ্যের উচ্ছ্বাস চোখে পড়বে।

বাসন্তী পোশাকে সাজবে তারা। তরুণীদের বাসন্তী রঙের শাড়ির সঙ্গে খোঁপায় থাকবে গাঁদা, গোলাপসহ নানা ফুল, থাকবে ফুলের মালা। তরুণরা বাসন্তী রঙের পাঞ্জাবি ও ফতুয়ায় সাজাবে নিজেদের। শনিবার রাজধানীর পথে পথেই দেখা মিলবে তাদের।

আমাদের সৃষ্টিশীলতায় ফাল্গুন ও চৈত্র মাস জুড়ে বসন্তের প্রভাব ব্যাপক। এ ঋতুটি আমাদের ভাবের জগৎকে বিপুলভাবে সমৃদ্ধ করেছে।
ফেসবুক, মুঠোফোনসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুক্রবার দিনভরই চলবে বসন্তের শুভেচ্ছা বিনিময়।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment