আম্মুর জন্য কাঁদছে তাবাচ্ছুম

babul akter's familly cry for mitu
Share Button

চট্টগ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত পুলিশ সুপার আবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতুর খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়ায় বাবার বাড়িতে এখনো শোকের মাতম। স্ত্রীকে হারিয়ে পপাগলপ্রায় বাবুল আক্তার সন্তানদের নিয়ে আছেন শশুড়বাড়িতেই। তিনি বারবারই স্ত্রী মিতুর জন্য বিলাপ করে উঠছেন।

তাদের ছেলে, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শিশু আক্তার মাহমুদ মাহির (৫) কারো সঙ্গে কথা বলছে না। সে কিছু সময় পরপর শুধু ঢুকরে কেঁদে উঠছে। আর চার বছরের মেয়ে তাবাচ্ছুম তাজনীন বারবার মায়ের খোঁজ করছে। ‘আম্মু’ বলে কেঁদে উঠলে স্বজনরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে মিতুর স্বজনরা বলছেন, মাহিরের স্কুলের নামে মোবাইল ফোনে মিথ্যা ম্যাসেজ দিয়ে রোববার সকালে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগে মিতুকে বাসা থেকে বের করা হয়। আগে যাওয়ার কারণে বডিগার্ডও তখন ছিল না। ফলে ওই ম্যাসেজটি খুনিরা পাঠিয়েছে বলেই দাবি স্বজনদের।

স্বজনরা জানান, মিতুর মরদেহ নিয়ে বাবুল আক্তার, তার দুই সন্তান মেরাদিয়ায় পৌঁছলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বাড়িজুড়ে কান্নার রোল পড়ে এসময়। দুইদিন পরও মেয়ারিদয়ার ওই বাসায় গিয়ে শোকাবহ সেই পরিবেশই দেখা গেছে। বাড়ির দ্বিতীয় তলায় প্রায় অচেতন পড়ে আছেন বাবুল। মাঝে-মধ্যেই তিনি মিতুর নাম করে বিলাপ করে উঠছেন। মাহিরকে ঘিরে আছেন স্বজনরা। সে কারো সঙ্গে কথা বলতে চাইছে না। তার দুই চোখ ছলছল।

মিতুর ছোট বোন শায়লা মোশারফের কোলে থেকেও বারবার মার জন্য কাঁদছে তাবুসসুম। ‘আম্মু’ বলে কেঁদে উঠলে মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার শান্ত্বনা দিচ্ছেন খালা। শায়লা কেঁদে বলেন, ‘দুই সন্তান ছিল আমার বোনের জানপ্রাণ। আমরা ওদের ক্যামনে বাঁচাবো?’

মিতুর বাবা মোশারফ হোসেন বলেন, ‘শুনেছি মাহিরের স্কুলে থেকে মিথ্যা ম্যাসেজ দেয়া হয়েছিল তাকে (মিতু)। ওই ম্যাসেজে নির্ধারিত এক ঘণ্টা আগে মাহিরকে স্কুলে পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। ওই ম্যাসেজ আর কোনো অভিভাবককে পাঠানো হয়নি। অন্যদিন একজন বডিগার্ড মাহিরকে বাসা থেকে নিয়ে যায়। নির্ধারিত সময়ের একঘণ্টা আগে যাওয়ার কথা থাকায় সেদিন তখনো বডিগার্ড আসেনি। কারা মিথ্যা ম্যাসেজ দিয়েছে তা বের করা দরকার।’

মিতুর মা শাহিদা আক্তার নীলা বিলাপ করে বলেন, ‘মা তোর সন্তানদের এখন কে দেখবে? আমিতো ওদের তোর মতো ভালোবাসা দিতে পারবো না মা। তুইতো চলে গেলি, আমরাতো বেঁচে থেকেও মরে গেছি মা। আমিও পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী ছিলাম। আমার তো এমন হলো না। তোর কেন এমন হলো?

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts