এমপি লিটন হত্যায় জড়িত স্বজনরা?

Share Button

গাইবান্ধা: ৬ দিনেও উদ্ধার হয়নি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন এমপি হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য। ঘটনার পর থেকে র্যা ব, পুলিশ, বিজিবি, পিবিআইসহ দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের গোয়েন্দারা হত্যাকাণ্ডের মূল ক্লু উদ্ঘাটনের জন্য রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু তারা এখনো হত্যাকাণ্ডের আসল কারণ উদঘাটন করতে পারেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের আসল কারণ উদঘাটন করতে না পারলেও তারা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চিহ্নিত করতে পেরেছে। যা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে মূল ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করতে পারে। আর সেদিকেই হাঁটছে তারা।

গোয়েন্দা তদন্তে জড়িত সংশ্লিষ্টদের একটি সূত্র জানিয়েছে, তদন্তকারীরা এখন পরিবার ও সহচরদের দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে এমপি লিটনের সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক সহচর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলামকে র‌্যাব আটক করে। এছাড়া গাইবান্ধায় মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন এমপি হত্যার পর তার স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতির ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ঘটনার পর থেকে তাদেরকে আর এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। ওই ব্যক্তিরা স্ত্রীর মাধ্যমেই তাদের সঙ্গে লিটনেরও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল। লিটন হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এ তাদেরকে সুন্দরগঞ্জে আর দেখা যাচ্ছে না। এ কারণে এ তাদেরকে নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গাইবান্ধা পুলিশের একটি সূত্র সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অপরদিকে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিচালক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক জানিয়েছেন, এমপি লিটন হত্যার মোটিভ উদ্ধার হয়নি। তদন্ত চলছে। এদিকে লিটনের বাড়ির সামনের গাব গাছের নিচ থেকে কালো রঙের একটি ক্যাপ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এখন এ ক্যাপের সূত্র ধরেই চলছে তদন্ত। এরই মধ্যে ওই ক্যাপের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পুলিশের অপরাধ বিভাগের (সিআইডি) ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সময় দুর্বৃত্তদের ব্যবহৃত কালো রঙের পালসার মোটরসাইকেলের মালিককে খুঁজে বের করতে র্যা বের একটি দল সুন্দরগঞ্জে তৎপর রয়েছে।

র্যা বের একটি সূত্র জানিয়েছে, এলাকার কালো রঙের সব পালসার মোটরসাইকেল মালিকদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ছায়া তদন্তের সঙ্গে জড়িত একটি সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, দুর্বৃত্তদের ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেলের একটির মালিকের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

জেলা পুলিশের সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল ফারুক বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, নানা বিষয় নিয়েই তদন্ত চলছে। মোটরসাইকেল মালিকদেরও খোঁজা হচ্ছে।

জানা গেছে, প্রাণের সংশয়ের কথা একাধিকবার ঘনিষ্ঠজনদের বলেছিলেন লিটন। এমপির ঘনিষ্ঠরা জানান, গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবদুস সামাদকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনুরোধ করে আসছিলেন তার লাইসেন্স করা পিস্তলটি যেন ফিরিয়ে দেয়া হয়।

এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে মনোমালিন্যও হয়। ২০১৪ সালে শিশু সাহাদাত হোসেন সৌরভকে নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে গুলি করেছিলেন এমপি লিটন। তখন তার লাইসেন্স স্থগিত করে অস্ত্রটি জেলা প্রশাসন হেফাজতে নেয়।

এ বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবদুস সামাদ  বলেন, পিস্তল ফিরিয়ে দিতে এমপি লিটন জেলা প্রশাসনের কাছে কোনো আবেদন করেননি। তবে আদালতের কাছে তিনি এ বিষয়ে জানিয়েছিলেন।

লিটনের ঘনিষ্ঠ একজন বলেন, নভেম্বরের শেষদিকে লিটন ঢাকা থেকে ডিসিকে মোবাইল ফোনে তার লাইসেন্স করা অস্ত্রটি ফিরিয়ে দেয়ার অনুরোধও জানিয়েছিলেন। তখন ডিসিকে বলেছিলেন, তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি পাচ্ছেন।

তার ধারণা ছিল,  তাকে কেউ টার্গেট করেছে। তাই পিস্তলটি ফিরিয়ে দিতে তিনি ডিসিকে অনুরোধ করেন। তবে লিটনের স্ত্রী মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, বিভিন্ন সময় লিটনকে মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়ে হুমকি দেয়া হলেও ২০১৬ সালে কেউ তাকে হুমকি দেয়নি।

গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম  বলেন, এমপি লিটনের বাড়ির সামনে থেকে উদ্ধার হওয়া কালো রঙের ক্যাপের সূত্র ধরে খুনিদের শনাক্তে চেষ্টা চলছে। ক্যাপটি ডিএনএ টেস্টের জন্য ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

জেলা পুলিশের একটি সূত্র  জানায়, এমন কয়েকজনকে খোঁজা হচ্ছে যারা এমপির স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে  এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছিল।

সুন্দরগঞ্জের ঠিকাদারির বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করত তার স্ত্রী স্মৃতি। ওই ব্যক্তিরা স্মৃতির মাধ্যমে ঠিকাদারি কাজ ভাগিয়ে নিত। তারা লিটন হত্যার সঙ্গে জড়িত কিনা তা তদন্ত করে দেখতে চায় পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তাদের এলাকায় দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশের একটি সূত্র।

এছাড়া এ হত্যাকাণ্ডের কারো উচ্চাকাঙ্খা কাজ করেছে কী না তাও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts