কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ, বাবাকে পিটুনি

crime-logo
Share Button

মামলা তুলে না নেওয়ায় কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে গত রোববার রাতে ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাবাকে পিটিয়েছেন আসামি ও তাঁর সহযোগীরা। মিরপুর থানায় করা সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) ওই কিশোরীর বাবা ও মামলার বাদী এ কথা উল্লেখ করেছে।

ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাবাকে পেটানো ওই আসামির নাম শাফকাত হোসেন। এদিকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাইদুল ইসলাম ওরফে তপুকে পুলিশ তিন মাসেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
জিডি অভিযোগ করা হয়, ধর্ষণ মামলার ২ নম্বর আসামি শাফকাত হোসেন সম্প্রতি কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে আসেন। এরপর থেকে শাফকাত ও তাঁর সহযোগীরা ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাবাকে মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। গত রোববার রাতে শাফকাত ও তাঁর সহযোগীরা পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় কিশোরীর বাবাকে ডাবের দোকানে বেধড়ক পেটান।

গত এপ্রিলে স্থানীয় শাফকাত হোসেন ওরফে সিয়াম ও সাইদুল ইসলাম ওরফে তপু নামের দুই বখাটে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে ধরে সাইদুলের পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ওই দুজনকে আসামি করে মিরপুর থানায় ধর্ষণের মামলা করা হয়। শাফকাত গ্রেপ্তার হলেও কিছুদিন আগে জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান।

কিশোরীর বাবা প্রথম আলোকে বলেন, ধর্ষণ মামলার আসামিদের ভয়ে তিনি দোকান খুলছেন না। বাসা থেকে বের হতেও ভয় পান। তাঁর মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। শাফকাতের উত্ত্যক্ত ও ভয়ভীতির কারণে দুই মাস আগে মেয়ের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করতে তিনি বাধ্য হয়েছেন। বখাটেদের ভয়ে তাঁর মেয়ে এখন এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছে। মামলার প্রধান আসামি সাইদুলকে পুলিশ তিন মাসেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর থানার (এসআই) রফিকুল ইসলাম আজ শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, তিন দিন আগে জিডির কপি তিনি হাতে পেয়েছেন। এরপর ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাবাকে তিনি ফোন করে থানায় আসতে বলেছিলেন। কিন্তু কিশোরীর বাবা এত সমস্যার কথা তাঁকে বলেননি।

জানতে চাইলে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কিশোরীর স্কুল যাওয়া বন্ধ হওয়া ও তার বাবাকে মারধর করার বিষয়টি কেউ আমার নলেজে দেয়নি। এখন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহজাহান আলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।’

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts