কুরবানির অর্থ বন্যার্তদের দিলে কুরবানি আদায় হবে না: শীর্ষ মুফতিয়ে কেরাম

khalid-hossen-o-faijullah

ওমর শাহ : সারাদেশ বন্যায় কবলিত। বন্যার্তরা মানবেতর জীবন পার করছে। এসব এলাকায় খাদ্যে সঙ্কট, বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট। অসহায় মানুষদের সহায়তায় প্রয়োজন কোটি কোটি টাকার ত্রাণ সামগ্রী। অপরদিকে সামনে মুসলমানদের বৃহৎ ধর্মীয় বিধান ঈদুল আযহা। ঈদুল আযহা উপলক্ষে কুরবানি করা হবে হাজার কোটি টাকার পশু। তাই এসব অর্থ কুরবানির পেছনে ব্যায় না করে বন্যাদুর্গতদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার আহ্বান করছেন দেশের খ্যাতিমান টিভি তারকা ও শিল্পীরা। সেই সঙ্গে তারা কুরাবানি না করে এসব অর্থ বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তারও ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বিষয়টি ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছেন দেশের শীর্ষ মুফতিয়ে কেরাম। মুফতিয়ে কেরামের মতে কুরবানি না দিয়ে কুরবানির অর্থ বন্যার্তদের মাঝে বিলিয়ে দিলে কুরবানি আদায় হবে না। তবে দানের সওয়াব পাওয়া যাবে। কিন্তু কুরবানির ওয়াজিব বিধান লঙ্গন হবে।

এ বিষয়ে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো যেমন ইসলামের দাবি কুরবানি করাও ইসলামের দাবি। দু,টিই ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটির জন্য অপরটি ছেড়ে দেওয়া পরোক্ষ অপরটির বিরোধিতার শামিল। ফলে কুরবানি না করে কুরবানির টাকা অসহায় বন্যার্তদের মাঝে দিলেই কুরবানি পালন হবে না। দু,টি দায়িত্ব পালন করাই সামর্থ্যবানদের উচিত। কুরবানিও করতে হবে অসহায়দের সহযোগিতাও করতে হবে। দু,টির মাঝে সমন্বয় করাই ইসলামের দাবি।

এ বিষয়ে চট্রগ্রাম ওমর গণী কলেজের অধ্যাপক ও মাসিক আত-তাওহীদ এর সম্পাদক মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, একদিকে বন্যা অপরদিকে ঈদুল আযহা। একদিকে মানবতার আর্তনাদ অপরটি সৃষ্টিকর্তার নির্ধারিত বিধান পালন। কুরবানি একটি ওয়াজিব বিধান। সামর্থ্যবানদের জন্য এটি পালন করা জরুরি। কেউ যদি কুরবানি না করে সেই টাকাটা বন্যার্তদের জন্য দান করেন এতে কুরবানি আদায় হয়ে যাবে এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। যদি আপনার উপর কুরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে তবে বন্যার্তদের দান করার দ্বারা আপনার কুরবানি করার দায়িত্ব পালন হবে না। কুরবানি ও বন্যাদুর্গতদের সহায়তা এ দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ, দুটি বিষয়েই মানুষের সম্পৃক্ত থাকা উচিত।

যার ওপর যাকাত ফরজ তার ওপর কুরবানিও ওয়াজিব। অতএব, যার ওপর কুরবানি ওয়াজিব তাকে অবশ্যই কুরবানি দিতে হবে বা এই বিধান পালন করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, সর্বনিম্ন পরিমাণ অর্থ খরচ করে কোরবানির ওয়াজিব হুকুম আদায় করতে হবে। এর বাইরে যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যাগ্রস্ত বা অভাবী মানুষকে সহযোগিতা করবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কারো নিয়ম তিনি প্রতি বছর এক লাখ টাকা মূল্য মানের গরু কুরবানি করেন, তার উচিত হবে এবার তিনি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে কোরবানির ওয়াজিব হুকুম আদায় করবেন এবং বাকি টাকাটা বন্যাগ্রস্ত বা অভাবীদের দান করে দেবেন। এই দানকে ইসলাম শুধু অনুমোদনই করেননি বরং ভালো বলেছে। এছাড়া যিনি দুটি বা তিনটি গরু কোরবানি করতেন, তিনি এবার একটি গরু কোরবানি করবেন এবং বাকি টাকা দান করে দিবেন।

 

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts