কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি? নির্বাচন ১৯ ফেব্রুয়ারি

বঙ্গভবন
Share Button

আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি নতুন মেয়াদের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২৩ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি পদে মেয়াদের পাঁচ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছেন মো. আবদুল হামিদ। ইতোমধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

২২ জানুয়ারি সোমবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, ১৯ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. আবদুল হামিদ। সে হিসাবে ২৩ এপ্রিল তার পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

সংবিধানের ১২৩ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ অবসানের কারণে উক্ত পদ শূন্য হইলে মেয়াদ সমাপ্তির তারিখের পূর্ববর্তী নব্বই হইতে ষাট দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।’

সংবিধান অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি, সোমবার থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় গণনা শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদে বলা আছে যে, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে ৫ বছর মেয়াদে স্বপদে আসীন থাকবেন এবং মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরও পরবর্তী রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি স্বপদে বহাল থাকবেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি দুটি মেয়াদের অধিককাল এই পদে থাকতে পারবেন না, তা ধারাবাহিক হোক বা না-ই হোক। অর্থাৎ সংবিধান অনুয়ায়ী মো. আবদুল হামিদ এর পুনর্বার রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার এখতিয়ার আছে।

ইতোমধ্যে, কে হচ্ছেন ২১তম রাষ্ট্রপতি তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও নানা আলাপচারিতায় বিভিন্ন ব্যক্তির নাম উঠে আসছে।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮(৪) অনুসারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা নিম্নরূপ : অন্যূন ৩৫ বছর বয়স; সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা; এবং সংবিধানের আওতায় তিনি কখনো ওই পদ থেকে অপসারিত হননি। রাষ্ট্রপতি তার কার্যকালের মেয়াদে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না এবং কোনো সংসদ-সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার্যভার গ্রহণের দিনই তিনি তার সদস্য পদে ইস্তফা দেবেন। অধিকন্তু, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে তিনি মুনাফাজনিত অন্য কোনো কাজ, পদ বা দায়িত্ব গ্রহণ করতে অথবা কোনো ব্যবস্থাপনায় যোগ দিতে কিংবা লাভ বা মুনাফা অর্জনকারী কোনো কোম্পানি বা সংস্থা পরিচালনা করতে পারবেন না।

অর্থাৎ সংবিধান অনুযায়ী শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং রাজনীতিক যেকোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা রাখেন।

বিভিন্ন সংসদ সদস্য ও রাজনীতিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অতীতে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তথা নানা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যক্তির কথাই ভাবছে সংশ্লিষ্টরা।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ১০ জন নেতার সঙ্গে কথা বলতে গেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, ‌মো. আবদুল হামিদ রাজনৈতিক জীবনে জনপ্রিয়, ব্যক্তিগত জীবনে নির্মোহ ও সজ্জন ব্যক্তি। বর্তমান সরকার যে উন্নয়নের রূপরেখা দিয়েছে তা বাস্তবায়নের জন্য যে ব্যক্তিটি অনিবার্য তিনি আবদুল হামিদ।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর আলোচনায় রয়েছেন। তবে তারা যে যে পদে আছেন সেখানেও তারা অনিবার্য বলে ধরে নিচ্ছে সরকার। সে কারণে বর্তমান সরকারের পূর্ণ মেয়াদে তাদেরকে স্ব-স্ব অবস্থানেই রাখা হবে বলে এই নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসি কর্মকর্তারা জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে শিগগিরই স্পিকারের সঙ্গে আলাপ করবে নির্বাচন কমিশন। পরে তফসিল ঘোষণা করা হবে। কারণ নির্বাচন হবে সংসদ অধিবেশন কক্ষে। ভোট দিয়ে দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন সংসদ সদস্যরা।

মো. আবদুল হামিদ সম্পর্কে সরকারের নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য হচ্ছে, মো. আবদুল হামিদ দলের সংকটে কাজ করেছেন। সে কারণেই বর্তমান রাষ্ট্রপতিকেই পুনর্বার মনোনয়ন দিবে জাতীয় সংসদ।

আবদুল হামিদ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত সংসদ সদস্য হয়ে পরবর্তীতে সাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতি হন। রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি দলীয় চিন্তার ঊর্ধ্বে উঠে সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন। সুতরাং তার কথাই ভাবছে বর্তমান সংসদ, বলেছেন তারা।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ১৯৯১ অনুযায়ী একাধিক প্রার্থী হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাতে নির্বাচনী কর্তা হিসেবে কাজ করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, একাধিক প্রার্থী হলে সংসদের অধিবেশন কক্ষে নির্বাচনী কর্তার সামনে নির্ধারিত ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নাম ও নিজের স্বাক্ষর দিয়ে তা জমা দিতে হবে। ভোটের দিন গ্যালারিসহ সংসদ কক্ষে প্রার্থী, ভোটার, ভোট নেওয়ায় সহায়তাকারী কর্মকর্তা ছাড়া সবার প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করবেন নির্বাচনী কর্তা। ভোট শেষে নির্বাচন কমিশনার প্রকাশ্যে ভোট গণনা করবেন। সর্বাধিকসংখ্যক ভোটপ্রাপ্তকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর সমান ভোট পেলে প্রার্থীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে।

জানা গেছে, সংসদের চলমান ১৯তম অধিবেশন শেষ হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি। এর পর আবার অধিবেশনের মধ্যে এই নির্বাচন করতে হবে। সে অনুসারে স্পিকার ও সংসদ সচিবালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যে সংসদ সচিবালয় ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে ইসি সচিবালয়কে সরবরাহ করবে।

এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় একবারই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন সংসদ সদস্যরা। পরবর্তী সময়ে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এবারও তার ব্যত্যয় হবে না বলে জানান এই নেতারা।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts