জঙ্গি সন্দেহে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আটক!

arrest logo

জঙ্গি সন্দেহে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম ইব্রাহীম ইবনে মোল্লা মোশাররফ বলে জানা গেছে। তার ফেসবুক আইডির নাম ইব্রাহীম আদহাম (বাংলায়)। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের (আইআইটি) তৃতীয় বর্ষ (৪৩ তম ব্যাচ) ও মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
গতকাল শনিবার বেলা দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বিভাগের ক্লাস চলাকালীন অবস্থায় তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তার সহপাঠীরা জানায়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গণিত ও পরিসংখ্যান ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে (ল্যাব-২) ক্লাস চলছিল। এসময়ে সাদা পোশাকে কয়েকজন লোক ইব্রাহীমের খোঁজ করছিল। তারা কোর্স শিক্ষককে বলেন ওকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর তারা ওকে (ইব্রাহীম) গাড়িতে তুলে নেয়। তার নাম মোশাররফ ছাড়া আর কোনো পরিচয় আইআইটির শিক্ষকরা জানাতে পারেননি। সহপাঠীরা জানান, তাকে তারা ইব্রাহীম ইবনে মোল্লা মোশাররফ নামে চিনতেন। সে নিয়মিত ঢাকা থেকে এসে ক্লাস করতেন।

আইআইটির সহকারী অধ্যাপক আবু ইউসুফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার ক্লাস চলাকালীন সময়ে কয়েকজন প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে মোশাররফ (আটককৃত শিক্ষার্থী) কে খোঁজ করে বলেন, ওকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। তারপর তারা ক্লাস থেকে ওই শিক্ষার্থীকে নিয়ে বাহিরে চলে গেল। এর বেশি কিছু আমি জানি না’।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য সিলেট লিডিং ইউনিভার্সিটির এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। রিমান্ডে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোশাররফের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায় পুলিশ। গত সপ্তাহ থেকে নজরদারিতে রাখার পর শনিবার দুপুরে ক্লাস চলাকালীন সময়ে তাকে আটক করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোশাররফ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আইআইটি বিভাগে ভর্তি হয় সে। সিলেটে অবস্থান কালে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আটককৃত দুই সদস্যের সাথে তার সঙ্গ গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ইনফরমেশন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের (আইআইটি)’র ভারপ্রাপ্ত পরিচালক কে এম আক্কাছ আলী বলেন, ‘আমি আমার অফিসে ছিলাম। এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না’।

মোশাররফের সহপাঠীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ‘কারো সাথে কখনো তাকে খারাপ ব্যবহার করতে দেখিনি। ক্লাস শেষ হওয়ার পরপরই সে ঢাকায় চলে যেত।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসি মোহসি কাদেরের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমরা ওই শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে আসিনি। পুলিশের বিশেষ শাখা তুলে নিয়ে গেছে কিনা তাও জানি না।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. তপন কুমার সাহা বলেন, “এরকম সন্দেহভাজন একজন শিক্ষার্থীকে পুলিশ খুঁজছিল বলে জানি। তবে কাউকে আটক করা হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে এখনো কিছুই জানি না। আমরা এই বিষয়ে খোঁজখবর নেয়ার চেষ্টা করছি।”
এ বিষয়ে উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, “আমাকে অবহিত করা হয়েছে, তবে অনুমতি চাওয়া হয়নি। দুই-তিনদিন আগে পুলিশের বিশেষ শাখা (এস.বি) থেকে ফোন করে বলা হয়েছিল তারা একজন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান। কিন্তু তারা কবে কিংবা কখন আসবেন সে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। নিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে জানানো হয়নি। আমি পরে জেনেছি।”

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts