জামায়াতের হরতাল চলছে

জামায়াতের হরতাল চলছে

সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় বহাল থাকায় সারা দেশে জামায়াতের হরতাল চলছে।

বুধবার সকাল ৬টায় এই হরতাল শুরু হয়ে চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।তবে অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ও সংবাদপত্র সংশ্লিষ্ট গাড়ি হরতালের আওতামুক্ত রয়েছে।

এদিকে জামায়াতের ইসলামীর ডাকা আজকের হরতালকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নাশকতার খবর পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে ১৪ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য নামানো হয়েছে। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়ও বিজিবি নামানো হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে আরও বিজিবি সদস্য। বাড়ানো হয়েছে পুলিশ ও র‌্যাবের টহল এবং তল্লাশি।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তায় মোতায়েন রয়েছে র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ। জোরদার করা হয়েছে গোয়েন্দা কার্যক্রমও।

মঙ্গলবার সকালে মীর কাসেম আলীর আপিলের রায় ঘোষণার পর জামায়াত বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হরতাল আহ্বান করে। আপিলের রায় ঘোষণার পর জামায়াত ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর মগবাজার, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর ও বাড্ডায় ঝটিকা মিছিল করে। মগবাজারে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশের শর্টগানের গুলিতে দুই জামায়াত কর্মী সুমন ও আল আমিন আহত হন। সুমনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আল আমিনকে রাজধানীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়াও সারা দেশে সতর্ক ছিল পুলিশ।

বিশেষ করে জামায়াত অধ্যুষিত চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, সাতক্ষীরা, গাইবান্ধা, বগুড়া, জয়পুরহাটসহ যেসব স্থানে আগে নাশকতা বেশি হয়েছে ওইসব জেলায় পুলিশকে সতর্ক রাখা হয়। আজ হরতালের সময়ও এসব জেলায় সতর্ক থাকবে নিরাপত্তা বাহিনী।

বিজিবির সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহসীন রেজা যুগান্তরকে জানান, রাজধানীতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য নামানো হয়েছে। প্রয়োজনে আরও সদস্য নামানো হবে। জেলা প্রশাসকদের চাহিদার আলোকে বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিরাপত্তা প্রস্তুতি ঢেলে সাজানো হয়েছে। যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য পুলিশ প্রস্তুত আছে। মীর কাসেম আলীর মামলার রায়-পরবর্তী যে কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটতে পারে- বিষয়টি মাথায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমরা মানুষের অবাধ ও শান্তিপূর্ণ চলাচল এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতে যাবতীয় ব্যবস্থা করেছি। আমাদের গোয়েন্দা উইং এবং অপারেশন অ্যাক্টিভ আছে। আশা করছি যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। যে কোনো ঝুঁকি বা শান্তিভঙ্গের আশংকা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা। এদিকে পুলিশের পাশাপাশি এলিট ফোর্স র‌্যাবও নিরাপত্তায় যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান যুগান্তরকে বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার এই রায়কে কেন্দ্র করে র‌্যাব যাবতীয় নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে। কোনো গোষ্ঠী যাতে জনজীবনে বিশৃংখলা সৃষ্টি, নাশকতার অপচেষ্টা বা আইনশৃংখলাবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড না ঘটাতে পারে সেজন্য র‌্যাব সক্রিয় আছে। স্পর্শকাতর এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজনে তল্লাশি করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকেও র‌্যাবের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আনা হয়েছে। কেউ আইনশৃংখলায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জামায়াতের হরতাল ও এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নাশকতার আশংকায় রাজধানীকেও নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আনা হয়েছে। রাজধানীর ৪৯টি থানার পুলিশ সতর্ক পাহারা দিচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, স্থাপনা ও ভিআইপিদের আবাসস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মারূফ হোসেন সরদার বলেন, রায় ঘোষণার আগে থেকেই রাজধানীতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment