জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে না দিলে, টিকফা কখনোই কার্যকর হবে না : বানিজ্যমন্ত্রী

Share Button

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘আমরা বারবার বলেছি, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন। জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে না দিলে, টিকফা কখনোই কার্যকর হবে না।’ দশম সংসদের নবম অধিবেশনে বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী সংসদে এ তথ্য জানান।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘পোশাকশিল্পের উন্নয়নের জন্য আমাদের যা যা করণীয় আমরা তাই করেছি। কিন্তু পোশাকশিল্প নিয়ে যত মিটিং হয়, তাদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলে, আরও করো। আমার আর কী করব তা খুঁজে পাচ্ছি না।

আমরা এত কিছু করার পরও কেন তারা জিএসপি ফিরিয়ে দিচ্ছে না? বিষয়টি রাজনৈতিক।’ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ৮ গুণ লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহর এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত থেকে বাংলাদেশ গত পাঁচ মাসে মোট পণ্য আমদানি করেছে ১৭ হাজার ১৫২ কোটি টাকার (দুই হাজার ১৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। আর বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে দুই হাজার ৭৪ কোটি টাকার (২৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) পণ্য।

এই হিসাবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৮ গুণ বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।’ অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যান্য দেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ৭৩ হাজার ৮৬ কোটি টাকা (৯৩৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মোট ৪৮টি দেশের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি আছে। এ ছাড়া তিন দেশের সঙ্গে চুক্তি করা হলেও তার কার্যকারিতা নেই।

আরও সাতটি দেশের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যের পাশাপাশি সম্প্রসারণের চুক্তি রয়েছে।’ মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষের এক প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৮টি দেশসহ মোট ৫২টি দেশে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পায়।’ তিনি বলেন, ‘ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত ২৮টি দেশ, সার্কভুক্ত দেশসমূহ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, জাপান, তুরস্ক, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, চিলি, ভুটান, রাশিয়া, বেলারুশ ও কাজাকিস্তানে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পায় বাংলাদেশ।’ অপর এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশীয় শিল্প সংরক্ষণ, উৎপাদনে উৎসাহ প্রদান, আমদানি ব্যবস্থা অধিকতর সহজীকরণ এবং শিল্পের কাঁচামাল সহজলভ্য করে আমদানিনীতি আদেশ প্রণীত হয়েছে।

সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানি ব্যবধান ক্রমান্বয়ে কমে আসছে।’

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment