ড. আতিউরকে নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে সরকার ‘বিব্রত’

ড. আতিউরকে নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে সরকার ‘বিব্রত’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য সাবেক গর্ভনর ড. আতিউর রহমানকে নিয়ে গণমাধ্যমে দেওয়া অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বক্তব্যে সরকার ‘বিব্রত’ বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অনেক নেতা।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে রবিবার রাতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এমনটাই বলেছেন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা বিষয়টি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, দলটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বৈঠকে বলেন, ‘রিজার্ভ ব্যাংক থেকে টাকা লুটের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশকে দোষারোপ করলে ঠিক হবে না।

এটা আমেরিকার রির্জাভ ব্যাংক। কোনো টাকা রির্জাভ ব্যাংক থেকে উঠছে, তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি না নিয়ে এত টাকা দিল কেন?’

দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত হওয়ার আগেই কাউকে দোষী করা ঠিক না। সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা বক্তব্য দিয়ে ক্রাইসিস সৃষ্টি করছেন। কেউ কেউ কোর্টের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে কাঠগড়ায়ও দাঁড়াচ্ছেন।

এতে একদিকে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী দলের কাছে ইস্যু চলে যাচ্ছে। এটা বন্ধ হওয়া দরকার।’

আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য সাবেক গর্ভনর ড. আতিউর রহমানকে নিয়ে গণমাধ্যমে যে সব কথা বলেছেন তা অনেকটাই ব্যক্তি আক্রমণ।

পদত্যাগ করার পর ড. আতিউর রহমানকে নিয়ে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যও সেই ব্যক্তি আক্রমণ ফুটে উঠেছে।

নেতারা বলেন, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। বিষয়টি নিয়ে শুধু গর্ভনরকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেওয়াটা দায়িত্বশীলতার পরিচয় বহন করে না।

এ প্রসঙ্গে দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বৈঠকে বলেন, ‘দায়িত্বশীল পদে থেকে আমাদের আরও সংযত হয়ে কথা বলা উচিত। সব বিষয়ে সকলে কথা বললে, বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।’

বৈঠকে কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, বাগেরহাট, পাবনা, টাঙ্গাইল, লক্ষীপুরসহ ৯টি জেলা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়াও আগামী ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে দলের পক্ষ একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়।

সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকেই বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে রাষ্ট্র ও দলগতভাবে বঙ্গবন্ধুর স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। জাতীয় সম্মেলন করতে বিভিন্ন উপ-কমিটিও গঠন করা হয়। জাতীয় কাউন্সিলের আগে রাজধানীতে আরও কয়েকটি সেমিনার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, ওবায়দুল কাদের, কাজী জাফর উল্লাহ, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ড. হাছান মাহমুদ, এইচএন আশিকুর রহমান, কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, আবদুর রহমানসহ অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতাই বক্তব্য দেন।

সুত্র: দ্য রিপোর্ট

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment