তনু হত্যা: চার সেনা সদস্যকে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদ

তনু হত্যা: চার সেনা সদস্যকে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদ
Share Button

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় চার সেনা সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৫টা থেকে শুরু হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।

তনু হত্যা মামলা তদন্ত সহায়ক দলের প্রধান সিআইডি ঢাকার বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ পিপিএম সেনা সদস্যদের জিজ্ঞাসা করেন। তার সঙ্গে ছিলেন, কুমিল্লা ও নোয়াখালী বিভাগের সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান, সিআইডি ঢাকার সিনিয়র এএসপি এহসান উদ্দিনসহ আরো একাধিক কর্মকর্তা।

এর আগে, তনুর পরিবারের সদস্য এবং এক সেনাকর্মকর্তার ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রথমবার সিআইডি তদন্ত সহায়ক দল ঢাকায় ফিরে যায়। সিআইডির উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত সহায়ক দলটি বৃহস্পতিবার দুপুরে দ্বিতীয়বারের মতো কুমিল্লায় পৌঁছান।

এ ব্যাপারে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে তনুর লাশ পাওয়ার সময় পর্যন্ত ওই সড়কে কারা কখন কীভাবে দায়িত্বে ছিলেন সে বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা নিতে এবং তারা কীভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এ বিষয়ে জানার চেষ্টা করা হয়েছে। আরো অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তনুর লাশ পাওয়া যায়। তাকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় পরদিন তনুর বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) থেকে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তারাই তদন্ত করছে।

এদিকে, ঘটনা তদন্তে র‌্যাব ও পুলিশসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে নামে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় হওয়াতে বেশি স্পর্শকাতর হয়ে পড়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে সারাদেশে চলছে বিক্ষোভ। তবে সপ্তাহখানেক পরে সেনা সদরদপ্তর থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, তারাও তনুর ঘটনায় অত্যন্ত মর্মাহত। এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করারও আশ্বাস দেয়া হয়।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অনুমান করলেও তনুর প্রথম ময়নাতদন্ত রিপোর্টে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে কিছু না বলায় প্রতিবেদন নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ তুলে নমুনা নেয়া হয়েছে। এখন অপেক্ষা সেই তদন্ত প্রতিবেদনের।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts