মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার জট খুলছে

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার জট খুলছে
Share Button

অবশেষে বড় পরিসরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। সরকারের (জিটুজি) পাশাপাশি বেসরকারিভাবে মালয়েশিয়ায় বিপুল সংখ্যক লোক পাঠাতে ‘জিটুজি প্লাস’-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের খসড়া প্রস্তাব সোমবার মন্ত্রিসভায় উঠছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবারের মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘জিটুজি প্লাস’ সমঝোতা স্মারকটির অনুমোদন হলে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার মালয়েশিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে সমঝোতা স্বাক্ষরে আর বাধা থাকবে না। এ চুক্তি সম্পন্ন হলে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো কনস্ট্রাকশন, ফ্যাক্টরি ও সেবা খাতসহ সব খাতে বিপুল সংখ্যক কর্মী পাঠাতে পারবে।

এ ব্যাপারে রবিবার সন্ধ্যায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার ইফতেখার হায়দার দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘কাল (সোমবার) মন্ত্রিসভায় উঠবে কি না তা কাল সকালেই বোঝা যাবে। তবে আপনার মতো আমিও শুনেছি যে কাল (সোমবার) ‘জিটুজি প্লাস’ প্রস্তাবের খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উঠছে।’

এর আগে বিদায়ী বছরের ৯ নভেম্বর দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ‘জিটুজি প্লাস’ সমঝোতা স্মারকের খসড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলেও সেটি ফেরত নেয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে কিছু কিছু বিষয়ে সমঝোতা না হওয়ায় সমঝোতা স্মারকের খসড়া ফেরত নিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বার বার বলে আসছেন, ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে কর্মী পাঠাতে উভয় দেশের মধ্যে প্রস্তুতি শেষের দিকে রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন সাপেক্ষে উভয় দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হবে। এটি হলে ক্লিন ইমেজের রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে পারবেন।

২০০৯ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। এরপর প্রায় তিন বছর দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে কয়েক দফা আলোচনার পর ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর জিটুজি (সরকার হতে সরকার) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাত্র ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা অভিবাসন ব্যয়ে ৫ বছরে ৫ লাখ কর্মী মালয়েশিয়ায় যাওয়ার কথা ছিল। এ ঘোষণায় সারাদেশে ১৪ লাখ কর্মী মালয়েশিয়া যেতে নিবন্ধন করেন। কিন্তু নানা কারণে সফলতার মুখ দেখেনি জিটুজি। গত তিন বছরে এ পদ্ধতিতে বনায়ন খাতে মাত্র ১০ হাজার কর্মী কাজ নিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ পান। আরও ২০ হাজার কর্মী গিয়েছেন পেশাজীবী ভিসায়।

বৈধভাবে যাওয়ার পথ বন্ধ সংকুচিত হওয়ায়, সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রবণতা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। হাজার হাজার মানুষ মানবপাচারের শিকার হন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরসিএইচ) গত তিন বছরে সাগরপথে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ পাচার হয়েছেন। নিহত হয়েছেন কয়েক হাজার। গত বছরের এপ্রিলে তাদের গণকবর আবিষ্কৃত হয় থাইল্যান্ডের বিভিন্ন জঙ্গলে। এ ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করে।

মালয়েশিয়ার বাজার উন্মুক্ত করতে গত জুনে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় (বিটুটি পদ্ধতি) কর্মী পাঠাতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। মালয়েশিয়া তিন বছরে ১৫ লাখ কর্মী নেওয়ার ঘোষণা দেয়। কর্মীদের সমস্ত ব্যয় বহন করবে মালয়েশিয়ার জনশক্তি আমদানিকারকরা। গত আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরে দুই দফা বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয় ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে ঘোষিত ১৫ লাখ কর্মী মালয়েশিয়ায় যাবে।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভায় ‘জিটুজি প্লাস’ সমঝোতার খসড়াটির অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশে এর অনুমোদন না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি ঝুলে ছিল। সোমবার বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় এটি অনুমোদন দেওয়া হলে দিনক্ষণ ঠিক করে চুক্তিটি সই হবে উভয় দেশের মধ্যে।

ইতোমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে থেকে বিভিন্ন সময়ে জানানো হয়, মালয়েশিয়ায় ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে যেসব কর্মী যাবে তাদের অভিবাসন ব্যয় হবে খুবই কম। তবে একজন কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে ঠিক কত টাকা খরচ হবে চূড়ান্তভাবে তা এখনো কিছু জানা যায়নি।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment