রাজাকারদের তালিকা করা হবে, মুক্তিযোদ্ধা-বিষয়ক মন্ত্রী

রাজাকারদের নামসহ তালিকা করার উদ্যোগ
Share Button

সরকার প্রথমবারের মতো রাজাকারদের নামসহ তালিকা করার উদ্যোগ নিয়েছে। সংসদে রবিবার এমনটি জানিয়েছেন ম মোজাম্মেল হক।

দশম সংসদের নবম অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে রবিবার বিকেলে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী সংসদে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলশামস এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের সঠিক নামের পূর্ণ তালিকা সরকারিভাবে তৈরি করা হয়নি। এমনকি সংরক্ষণও করা হয়নি। তবে রাজাকারদের নামসহ তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ সরকারের রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, রাজাকারদের তালিকা তৈরিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযোদ্ধা-বিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। যারা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে রাজাকাদের ভাতা দিত সেই তালিকাও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, একসময় এসব রাজাকার-আলবদর-আলশামসদের মাসিক ভাতা দেওয়া হতো। সে কারণে তৎকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি সংরক্ষিত ছিল নিশ্চয়ই। কিন্তু ২০০১ সালের পর দেখা গেছে, সেই তালিকা উধাও। কিন্তু কোনো না কোনোখানে এ তালিকা রয়েছে নিশ্চয়। সেটি খুঁজে বের করে তাদের নামের তালিকা তৈরি করার কাজ চলছে। এ ছাড়া উপজেলাভিত্তিক খোঁজখবর নিয়ে এসব রাজাকার-আলবদর-আলশামসদের তালিকাও সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পরও যেন চিনতে পারা যায়, সে লক্ষ্যে তাদের কবর একই ডিজাইনে করা হবে। যাতে কবর দেখলেই বোঝা যায় এটি মুক্তিযোদ্ধার কবর।

খালেদা জিয়া প্রভুদের বুলি আওড়াচ্ছেন

খালেদা জিয়ার সম্প্রতি শহীদের সংখ্যা নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছেন, সে বিষয়ে অ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, উনি যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন তার বাণীতে বলেছিলেন, ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে এবং দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কিন্তু পাকিস্তান যখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অস্বীকার করার কথা বলছে, ‘৭১-এ যুদ্ধে শহীদের সংখ্যাকেও অস্বীকার করছে ঠিক তখনই পাকিস্তানের শেখানো বুলি আওড়ে খালেদা জিয়াও এখন মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।’

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ‘মুক্তিযোদ্ধাপল্লী’

লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ আউয়ালের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, অসহায় ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ঢাকার মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এলাকায় জমির উপর ‘মুক্তিযোদ্ধাপল্লী’ নির্মাণ করার পরিকল্পণা সরকারের রয়েছে এবং এটি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জন্য তার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ শীর্ষক’ ২২৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকার একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণার্থে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পে দেশের সকল উপজেলায় মোট দুই হাজার ৯৭১টি ইউনিট নির্মাণের সংস্থান রয়েছে। প্রকল্পে সংস্থানকৃত দুই হাজার ৯৭১টি ইউনিটের মধ্যে এ পর্যন্ত মোট দুই হাজার ৩৮৮টি ইউনিট নির্মাণের জন্য অনুমোদিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে এক হাজার ৪৫টি বাসস্থান নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এক হাজার ১৫৮টির কাজ চলছে এবং ১৮৫টি বাসস্থান নির্মাণের জন্য দরপত্র বিজ্ঞপ্তি জারির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি জেলা-উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যানুপাতে তাদের আবাসনের নিমিত্তে ১০ হাজার ফ্লাট নির্মাণ প্রকল্প প্রণয়নের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।

গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলনের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, এ মন্ত্রণালয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট/মুক্তিবার্তা সংরক্ষিত রয়েছে। সংরক্ষিত মুক্তিবার্তার (লালবই) চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা এক লাখ ৫১ হাজার ৮৬১ জন এবং গেজেট অনুযায়ী প্রায় দুই লাখ। একই মুক্তিযোদ্ধার নাম উভয় তালিকাতেই রয়েছে। তবে সারাদেশে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা নিরূপণের লক্ষ্যে ইতোপূর্বে যারা নাম অন্তর্ভুক্ত করেননি তাদের নাম ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বরাবর অনলাইনে আবেদন করতে বলা হয়েছিল। তবে বর্তমানে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। ইতোমধ্যে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি নিষ্পত্তি হলে সরেজমিন যাচাই-বাছাই পূর্বক অচিরেই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বনিম্ন বয়স ১৩

বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নার অপর এক প্রশ্নের উত্তরে মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধার বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকার) ষষ্ঠ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সর্বনিম্ন বয়স ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চে ১৩ বছর ধার্য করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক ও কটাক্ষকারীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন আছে।

যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলামের অপর এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মূল সনদ প্রদানের জন্য বর্তমান সরকার কর্তৃক আধুনিক পদ্ধতিতে মুক্তিযোদ্ধাদের একক তালিকা প্রকাশের জন্য ডাটাবেজ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এই ডাটাবেজ কর্মসূচিতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নয়টি নিরাপত্তা বারকোডসহ মূল সনদপত্র দেওয়া হবে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment