রেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

রেলে অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ
Share Button

আজ শনিবার থেকে কার্যকর হয়েছে রেলের বাড়তি ভাড়া । সব শ্রেণির যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ক্ষেত্রে ভাড়া বেড়েছে ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ। নতুন ভাড়ায় প্রতি কিলোমিটার ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে রেল যাত্রীদের অভিযোগ, রেলে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০টাকার স্থলে আজ যাত্রীদের কাছ থেকে ১৫ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-এয়ারপোর্ট-টঙ্গী রেল রুটে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীরা এ অভিযোগ করেছেন। এসময় তাদের সরবরাহ করা টিকিটে যাত্রীদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।এছাড়া আন্তরুটের যাত্রী ও ইন্টারসিটি সার্ভিস ট্রেনের যাত্রীরাও ৭ ভাগের স্থলে ৪০/৫০ ভাগ ভাড়া বেশী নেয়ার অভিযোগ করেছেন।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশের ৩৬ দিন পর শুক্রবার রাত ১২টা থেকে বাড়তি ভাড়া কার্যকর করা হয়।

শনিবার সকালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেল রুটের এক যাত্রী অভিযোগ করেন, গতকাল নারায়ণগঞ্জ থেকে ১০ টাকায় ঢাকা এসেছি। যদিও ৫০ ভাগ বৃদ্ধির ফলে ভাড়া হওয়ার কথা ছিল ৯টাকা। তারা এতোদিন ১০ টাকা করে নিয়েছে। আর আজ ভাড়া দিতে হলো ১৫ টাকা।

বছর বছর রেলের ভাড়া না বড়িয়ে যাত্রী সেবার মান বাড়ানোর কথা বলেন তিনি।

 

রেলওয়ে স্টেশন কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সমরেন্দ্র ভট্টাচার্য বলেন, রেলের ভাড়া খুব একটা বাড়েনি। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহের ভাড়া ১৩৫ টাকা, সেখানে বেড়ে ১৪৫ টাকা হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে আজ তলাফুটো কলসিতে পরিণত হয়েছে। ভাড়া বৃদ্ধি করে রেলের লোকসান কমানো বা লাভজনক করা যে কোনো ভাবেই সম্ভব নয় তা ২০১২ সালে ব্যাপক ভাড়া বৃদ্ধির পর প্রমাণিত হয়েছে। তিনি রেলের ভাড়া না বড়িয়ে যাত্রী সেবার মান বাড়ানোর কথা জানান।

এ বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, লোকসান কমানোর জন্য এখন থেকে প্রতিবছর ট্রেনের ভাড়া বাড়ানো হবে।

চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি নতুন ভাড়ার হার অনুমোদন করেন প্রধানমন্ত্রী। আর ৭ ফেব্রুয়ারি ভাড়া বৃদ্ধিসংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) জারি করে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

বর্ধিত হার অনুযায়ী, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে শোভন শ্রেণির ভাড়া ২৬৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৮৫ টাকা, শোভন চেয়ার ৩২০ থেকে ৩৪৫, এসি চেয়ার ৬১০ থেকে ৬৫৬, এসি সিট ৭৩১ থেকে ৭৮৮ ও এসি বার্থ ১ হাজার ৯৩ থেকে ১ হাজার ১৮৯ টাকা হয়েছে।

ঢাকা-খুলনা রুটে শোভন শ্রেণির ভাড়া ৩৯০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪২০ টাকা, শোভন চেয়ার ৪৬৫ থেকে ৫০৫, এসি চেয়ার ৮৯১ থেকে ৯৬১, এসি সিট ১ হাজার ৭০ থেকে ১ হাজার ১৫৬ ও এসি বার্থ ১ হাজার ৫৯৯ থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৭৩১ টাকা।

ঢাকা-সিলেট রুটে শোভন শ্রেণির ভাড়া হয়েছে ২৬৫ টাকা, শোভন চেয়ার ৩২০, এসি চেয়ার ৬১০, এসি সিট ৭৩৬ ও এসি বার্থ হাজার ৯৯ টাকা। ঢাকা-রাজশাহী রুটে উল্লিখিত শ্রেণিগুলোর ভাড়া হয়েছে যথাক্রমে ২৮৫, ৩৪০, ৬৫৬, ৭৮২ ও ১ হাজার ৬৮ টাকা। অর্থাৎ ভাড়া বাড়ছে সাড়ে ৭ থেকে ৯ শতাংশ।

এছাড়া ট্রেনের প্রতিটি শ্রেণিতে ন্যূনতম ভাড়া ৫-১০ টাকা হারে বাড়ানো হয়েছে।

এর আগে ২০১২ সালের অক্টোবরে ৫০ শতাংশ হারে বাড়ানো হয় রেলের ভাড়া। তার প্রায় ২০ বছর আগে একবার রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment