সরকারি চাকরিতে ৩ লাখ ২ হাজার ৯০৪টি পদ শূন্য রয়েছে

Logo govt
Share Button

 

নতুন গ্রেড অনুযায়ী মোট ৩ লাখ ২ হাজার ৯০৪টি সরকারি চাকরির পদ শূন্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

দশম সংসদের নবম অধিবেশনে রবিবার প্রশ্নোত্তর পর্বে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য বেগম ওয়াসিকা আয়শা খানের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, নতুন গ্রেড অনুযায়ী ১৮-২০ গ্রেডের (৪র্থ শ্রেণী) ৬৯ হাজার ৫০১টিসহ সর্বমোট ৩ লাখ ২ হাজার ৯০৪টি পদ শূন্য রয়েছে। এই তথ্য ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে ২০১৫ সালের তথ্য এখনো যোগ করা হয়নি। বিগত ২০১৫ সালে নিয়োগ দেওয়ার পর কতগুলো পদ শূন্য রয়েছে তার হালনাগাদ তথ্য এই মুহূর্তে নেই। সংসদে মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, নবম গ্রেডে (১ম শ্রেণীর) ৩৯ হাজার ৫৬৪টি, ১০-১২ গ্রেডের (২য় শেণী) ৩০ হাজার ৪২২টি, ১৩-১৭ গ্রেডের (তৃতীয় শ্রেণীর) ১ লাখ ৬৩ হাজার ৪১৭টি।

সৈয়দ আশরাফুল জানান, শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারি অফিসগুলোতে শূন্য পদে লোক নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে ৮ম, ৯ম ও ১০-১২ গ্রেডের (১ম ও ২য় শ্রেণীর) শূন্য পদে জনবল নিয়োগ করার হচ্ছে। এ ছাড়া ১৩-২০তম গ্রেড (৩য় ও ৪র্থ শ্রেণী) পদে স্ব-স্ব দফতর ও সংস্থার নিয়োগবিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দফতর জনবল নিয়োগ দেবে।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা প্রথা শিথিল

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য বেগম নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরীর প্রশ্নের উত্তরে জনপ্রশাসনমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা প্রথা শিথিল করা হয়েছে। এরই মধ্যে নিয়োগে কোটা পদ্ধতি দুইবার শিথিল করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করলেই শাস্তি

সরকারি দলের সংসদ সদস্য ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল এবং বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির পৃথক প্রশ্নের উত্তরে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধকে কোনো ব্যক্তি অবমাননা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মুক্তিযুদ্ধ অবমাননা আইন নামের নতুন একটি আইন প্রণয়নের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। এ ছাড়া সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচার করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) এ্যাক্ট, ১৯৭৩-এর সংশোধনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধ ও তৎকালীন সময়ের ইতিহাস বিকৃত করার প্রবণতা কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন রাজনীতিবিদদের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কোনো ব্যক্তি যদি মুক্তিযুদ্ধ এবং তৎকালীন সময়ের ইতিহাস বা স্বীকৃত ঘটনাবলী সম্পর্কে অযাচিত বা অসত্য তথ্য পরিবেশন করেন বা এ সম্পর্কে কোনো অসত্য বক্তব্য প্রদান করেন বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করেন অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধকে কোনো ব্যক্তি যদি অবমাননা করেন, তাহলে উক্ত ব্যক্তির কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে মুক্তিযুদ্ধ অবমাননা আইন প্রণয়নের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।

আবুল কালাম আজাদের প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী জানান, প্রতিটি অপরাধের বিচার নির্দিষ্ট আইন দ্বারা নির্ধারিত। আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে যারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে, তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িতদের বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। এ ধরনের অপরাধের বিচারকার্য দ্রুত শেষ করা হবে মর্মে আশা করা যায়।

মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভুঁইয়ার প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার নিমিত্তে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। দারিদ্র্য/অসহায় জনগোষ্ঠীকে আইনের সহায়তা দেওয়ার জন্য ৬৪টি জেলায় লিগ্যাল এইড অফিস স্থাপন করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে এবং এর বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির লক্ষ্যে উচ্চতর ও নিম্ন আদালতে বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও ঢাকায় একটি সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে বিশেষভাবে আলোচিত মানবপাচার রোধে দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে ট্রাইব্যুনালে গঠনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। উপরন্তু, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য মানবাধিকার কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট অপরাপর সংস্থাও এ কার্যে ব্যাপৃত রয়েছেন। এসব কার্যক্রম গ্রহণ করার ফলে সকল শ্রেণীর মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সুবর্ণ সুযোগের সৃষ্টি হয়েছে। সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণে বন্ধপরিকর।

গঙ্গা ব্যারেজে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করতে চায়

এস এম আবুল কালাম আজাদের সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকার আশীর্বাদ গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণের নকশা প্রণয়ন শেষ পর্যায়ে। এই ব্যারেজ নির্মাণে অর্থায়ন খোঁজা হচ্ছে। তবে বিশ্বব্যাংকসহ অনেকেই ব্যারেজ নির্মাণে অর্থায়ন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেলেই এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, গঙ্গা ব্যারেজ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি স্থাপনা। এই ব্যারেজ নির্মাণ হলে দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাগুলো লবণাক্ততা থেকে মুক্ত হবে। একইসঙ্গে এই অঞ্চলের মানুষ দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকেও বাঁচবে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment