সিইসি হচ্ছেন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক?

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক
Share Button

সার্চ কমিটি গঠনের পর এবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কারা নিয়োগ পাবেন তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথা চালাচালি থেকে জানা গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার করার ক্ষেত্রে পাঁচজনের নাম গুরুত্ব পাচ্ছে। ওই পাঁচ ব্যক্তি হলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব এবং জনতা ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ ওয়াহিদ উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান ও নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব হুমায়ুন কবির। এর বাইরেও কিছু নাম নিয়ে গুঞ্জন চলছে। তবে চূড়ান্ত চমক দেবেন রাষ্ট্রপতি নিজে।

এদিকে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে নাম সুপারিশের দায়িত্ব পাওয়া সার্চ কমিটির প্রথম সভা হবে শনিবার। আহ্বায়কের ‘সম্মতিতে’ শনিবার বেলা ১১টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে বসবেন বলে সার্চ কমিটির দুই সদস্য জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ছয় সদস্যের কাছে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, আহ্বায়কের সম্মতির পর সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেব আমরা।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি এবারের নির্বাচন কমিশন গঠনকে খুবই গুরুত্ব দিচ্ছে। গত কয়েক মাস ধরে বিষয়টি নিয়ে বেশ সজাগ দলটির হাইকমান্ড। নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে ১৯ নভেম্বর দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১৩ দফা প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু ২৫ জানুয়ারি বুধবার রাষ্ট্রপতি যে সার্চ কমিটি গঠন করেছেন, তা দলটির মনঃপূত হয়নি। দলীয় লোকদের দিয়ে কমিটি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের নেতারা। ইসি গঠনের ক্ষেত্রে একই চিত্র দেখা গেলে এটি ইস্যু করে রাস্তায় নামার চিন্তা করছে বিএনপি। এ নিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠকও হয়েছে। অবশ্য আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, যেসব নাম আসছে, সবই অনুমাননির্ভর। এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় সার্চ কমিটি নিয়ে বিএনপি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করবে। দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, সার্চ কমিটিতে সাবেক ইসি সচিব মোহাম্মদ সাদিক ‘আনুগত্যের পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি’।
সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া অন্য সব দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে চলতে হয়। যদিও সংবিধানের ১১৮-এর বিধানমতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন। কিন্তু সংবিধানমতে রাষ্ট্রপতি ১১৮-এর বিধানমতে এককভাবে চলতে পারবেন না। তাকে সংবিধানের ৪৮(৩) এবং ১৯৯৬ সালের রুলস অব বিজনেসের বিধান মনে রাখতে হবে। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী, ১১৮-এর বিধান মোতাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দিতে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর মতামত নিতে হবে।
সেদিক থেকে স্পষ্ট বলা যায়, সরকারের উচ্চপর্যায়ে এ ব্যাপারে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক ও আলোচনা চলছে। গঠিত সার্চ কমিটি আজকালের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবে বলে জানা গেছে। তবে এ ব্যাপারে কমিটি কী নির্দেশনা পেয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।

সুজন সভাপতি বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এমনিতেই সার্চ কমিটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যাদের নাম সিইসি হিসেবে আলোচনায় আছে বলে আপনারা বলছেন, তাদের নিয়োগ দেওয়া হলে যে লক্ষ্যে সার্চ কমিটি গঠিত হয়েছে, তা সফল হবে না। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। বরং সামনের নির্বাচনগুলো বিতর্কিত হবে।’
ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি নতুন নির্বাচন কমিশনের জন্য নাম প্রস্তাব করবে; তার মধ্য থেকে অনধিক পাঁচ সদস্যের ইসি গঠন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বুধবার সার্চ কমিটি গঠিত হওয়ার পর ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের আশা করা হচ্ছে, যাতে প্রথমবারের মতো একজন নারীও অন্তর্ভুক্ত হবেন। কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিদায় নেবে। তারপরই সাংবিধানিক সংস্থাটিতে দায়িত্ব নেবেন নতুন ব্যক্তিরা, যাদের অধীনে হবে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন।

কূটনীতিক সূত্র বলছে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখছে পশ্চিমা কয়েকটি দেশসহ দাতা সংস্থাগুলো। বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছে দেশগুলো। গত কয়েক মাস ধরে বিএনপিসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে ইসি গঠন নিয়ে আলোচনাও করেছে তারা। পশ্চিমা কূটনীতিকরা নির্বাচন কমিশন গঠন ও তার সক্ষমতা বাড়াতে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রস্তাব রেখেছেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সম্প্রতি মার্কিন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত, কানাডা, ব্রিটিশ ও অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে আবেদন করেছেন। তবে এখনো এতে সাড়া পাননি।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাট বাংলাদেশে অবস্থানের দুবছর পূর্তি উপলক্ষে বুধবার এক ফেসবুক লাইভে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলকে আমরা সমর্থন করি না। আমরা রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও অংশগ্রহণমূলক করাকে সহযোগিতা করতে সব বাংলাদেশির সঙ্গে কাজ করি।’
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করে। ঢাকা সফরকালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধি দল এবং ডিসেম্বরে ব্রাসেলসে বাংলাদেশ-ইইউ উপকমিটির বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষম নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।

১৯৯৬ সালের রুলস অব বিজনেসে দেখা যায়, এটি ২০১২ সালের জুলাইতে সর্বশেষ সংশোধিত হয়েছিল। এই রুলসের ৭ বিধির অধীনে চতুর্থ তফসিলে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কাছে কী কী বিষয়ক নথি পেশ করতে হবে, সে ব্যাপারে একটি তালিকা দেওয়া আছে। ওই তালিকায় দেখা যায়, বিগত সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রুলস অব বিজনেসে ৮ক, ৮খ ও ৮গ হিসেবে তিনটি দফা সংযোজন করা হয়েছে। ৮ক-তে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের ১, ৫ ও ৬ উপদফার আওতায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগ, পদত্যাগ এবং চাকরির শর্তাবলি; ৮খ মতে ১১৮(৫) ও ৯৬(২) অনুচ্ছেদের আওতায় সিইসি এবং নির্বাচন কমিশনারদের অপসারণ এবং ৮গ মতে সংবিধানের ১২০ অনুচ্ছেদের আওতায় নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে প্রয়োজনীয়সংখ্যক সরকারি কর্মচারী সরবরাহ করা সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করতে হবে। ২০০৮ সালের ২৫ নভেম্বর ৩১৯ নম্বর এসআরও জারি করার মাধ্যমে রুলস অব বিজনেসে ওই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই বিধানে উল্লিখিত বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে নথিপত্র চালাচালির দায়িত্ব মন্ত্রিসভা বিভাগকে দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র বলছে, সার্চ কমিটির মধ্য দিয়ে এবারও নির্বাচন কমিশন গঠিত হতে যাচ্ছে এমন খবর শোনার পর পরই উচ্চাকাক্সক্ষী অনেক সাবেক আমলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে দায়িত্ব নিতে নিজেদের আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন কেউ কেউ। শুধু তাই নয়, কয়েকজন আমলা নিজ উদ্যোগে কিছু নামের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

বুধবার রাতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠকে আলোচনায় নেতারা বলেন, এ কমিটি দলীয় লোক দিয়ে গঠিত। এটি দিয়ে কোনো নিরপেক্ষ ইসি গঠন সম্ভব নয়।
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেন, দলীয় লোকদের দিয়ে গঠিত সার্চ কমিটি আমরা মানি না। নির্বাচন কমিশন গঠনও দলীয় ব্যক্তিদের দিয়ে করা হলে তা রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিহত করা হবে।
দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এটি সার্চ কমিটি নয়, ফার্স কমিটি। এর মাধ্যমে আবার প্রমাণিত হয়েছে, তারা ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন করতে চায়।
আলোচনায় থাকা নামের মধ্যে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক অবসরের আগে ১৬০ মামলার রায় লিখে যাননি। এ নিয়ে তখন ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। জিয়াউর রহমান এবং বিএনপির বিরুদ্ধে সরাসরি বক্তব্য দিয়ে কঠোর সমালোচনার মধ্যে পড়েন তিনি।

সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দুদকের কমিশনার থাকাবস্থায় বলেছিলেন, খালেদা জিয়ার শাসনামলে বিএনপি চারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। খালেদা জিয়াকে কথা বলার আগে নিজের চেহারা আয়নায় দেখার পরামর্শ দিয়ে সমালোচনায় আসেন তিনি। চুপ্পু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন।
শেখ ওয়াহিদ উজ-জামান ও মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের কারো নাম উল্লেখ না করে বিএনপি নেতারা বলেছেন, এ দুটি পদে ‘রাজনৈতিক নিয়োগ’ হয়ে থাকে। তারা কোনোভাবেই নিরপেক্ষ হতে পারেন না।

হুমায়ুন কবির ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশন সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি স্বাস্থ্য সচিব হিসেবে নিয়োগ পান। তার কিছুদিন পর তাকে ওএসডি করা হয়। এর পর ভূমি সংস্কার বোর্ডের সদস্য করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। তার নাম যতটা না সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনায়, তার চেয়ে বেশি আলোচনায় কূটনীতিক ও সুশীল সমাজের মধ্যে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) পদে আলোচিত কিছু নামের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ আমাদের সময়কে বলেন, যেসব নাম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এগুলো সব গুজব। কারণ এখনো পর্যন্ত সার্চ কমিটিরই কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। সার্চ কমিটির বৈঠকের পরেই নাম নিয়ে আলোচনা হবে।
দলটির সভাপতিম-লীর আরেক সদস্য লে. কর্নেল (অব) মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, সিইসি পদে যেসব নামের কথা শোনা যাচ্ছে, সেগুলো সব অনুমাননির্ভর। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে, সার্চ কমিটি যে নাম দেবে সেভাবেই নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান এ বিষয়ে আমাদের সময়কে বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় ফোরামে এখনো নাম নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে আমরা এটুকু বলতে পারি, সার্চ কমিটির কাছ থেকে নাম নিয়ে রাষ্ট্রপতি যে বা যাকেই সিইসি নিয়োগ দেবেন আমরা তাকেই স্বাগত জানাব।
গতবারের সার্চ কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার এবং সাবেক সচিব কাজী রকিবউদ্দীনের নাম প্রস্তাব করেছিল। পাশাপাশি চারজন কমিশনার হিসেবে একজন নারীসহ আটটি নাম সুপারিশ করে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts