অপসংস্কৃতির স্রোত- মুক্তি কোন পথে : মুফতী ফয়জুল্লাহ

মুফতী ফয়জুল্লাহ

ইসলামী সংস্কৃতির মূল ভিত্তি হলো পবিত্র কুরআন এবং সুন্নাহ। কুরআন-সুন্নাহর ভাবধারার সাথে সাংঘর্ষিক কোন সংস্কৃতিই ইসলামী সংস্কৃতি হতে পারে না। ইসলামের দৃষ্টিতে মানবতাবিরোধী সব কিছুই অপসংস্কৃতি।

বিকারগ্রস্থ অতি ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠীর সংস্কৃতির উৎস হচ্ছে শয়তানের প্ররোচনা, বিদ্রোহ ও অবিশ্বাস। সাংস্কৃতিক বিভ্রান্তি, সাংস্কৃতিক বিকার ও অপসংস্কৃতি সবই শয়তানের প্ররোচনা থেকে উৎসারিত। ইসলামী সংস্কৃতির পাশাপাশি শয়তানী চক্রের এ অপসংস্কৃতি চর্চাও আবহমান কালের।

ইসলামী সংস্কৃতিতে বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ব, স্রষ্টার একত্ব ও মিল্লাতের অভিন্নতার ভিত্তিতে এক ব্যাপকতর ঐক্য ও সম্মিলিত ভাবধারা গড়ে ওঠে। এর ফলে মানব সমাজ থেকে সবরকমের জোর-জবরদস্তি, স্বেচ্ছাচারিতা, যুলুম-শোষণ ও হিংসা-বিদ্বেষ দূরীভুত হয়ে যায় এবং পরস্পরের আন্তরিক ও নিঃস্বার্থ ভ্রাতৃত্ব গড়ে ওঠে।

ইসলামী সংস্কৃতি তার আপন মহিমায় ভাস্বর। ইসলামী সংস্কৃতিতে বেহায়পনা ও নিলর্জ্জতার কোন স্থান নেই। এতে লজ্জা-শরমকে ঈমানের অঙ্গ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তাকওয়া বা আল্লাহ ভীতিকে সম্মানের মানদন্ড নিরুপণ করা হয়েছে। এ সংস্কৃতির লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে পরিচ্ছন্ন, সুস্থ, মার্জিত, ভদ্র এবং আদর্শবান ও সুরুচিসম্পন্ন চরিত্রবান রূপে গড়ে তোলা। শুধু চিত্ত বিনোদনই ইসলামী সাংস্কৃতির লক্ষ্য নয়। আবার একে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষাও করা হয়নি, বরং যে সব চিত্ত বিনোদনে শরীয়তের সীমা লংঘিত হয় এবং যা মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হয়, তাই ইসলামে নিষিদ্ধ।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, শয়তানের বন্ধুরা সংস্কৃতির লেবাসে অপসংস্কৃতির বেড়াজালে মানুষকে আল্লাহর অবাধ্যতার দিকে ধাবিত করছে। বাংলাদেশে ইসলামের উপর জঘন্যতম হামলা আসছে এই অপসাংস্কৃতিক কর্মীদের পক্ষ থেকেই। আজ সংস্কৃতি-অপসংস্কৃতি একাকার করে ফেলেছে। আগ্রাসী নাস্তিক্যবাদী, চরমপন্থী মুরতাদ অপশক্তি ইসলামী সংস্কৃতি বিনষ্ট করে মুসলিম সমাজেও পৌত্তলিকতার ভাবধারার সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছে। যেমন, তারা প্রতিষ্ঠা করেছে অশ্লিল নাচগান, অশ্লীল যাত্রা, ইসলাম বিনাশী নাটক, নির্লজ্জ সিনেমা, মদ্যপান, বেশ্যাবৃত্তি ও নানান অশ্লীলতা। বৃদ্ধি করছে উলঙ্গতা, বাড়াচ্ছে অশ্লীলতা, বাড়াচ্ছে নেশাগ্রস্ততা। ফলে পাড়ার বখাটে ছেলেটি ধর্ষণে উৎসাহ পাচ্ছে। পাড়ায় পাড়ায় বেড়ে চলেছে অসুস্থ্ মানুষের ভিড়। এই ইসলাম বিনাশী, নাস্তিক্যবাদী চক্রের কারণে ২০ বছর পূর্বেও নীতিনৈতিকতা ও মূল্যবোধের মানদণ্ড বিরাজমান ছিল তার চেয়ে অনেক নীচে নামিয়ে এনেছে। ফলে মুসলমানদের চেতনা যেমন অসুস্থ্ হচ্ছে, তেমনি কদর্যতা পাচ্ছে তাদের রুচীবোধ ও আচার-আচরন। চেতনার এ রোগাগ্রস্থতার কারণেই মানুষ চুরি-ডাকাতি, খুণ-ধর্ষন, দুর্নীতি, পাপাচার ও রাহাজানিতে লিপ্ত হচ্ছে।

সাংস্কৃতিক ভিন্নতাই রাজনৈতিক ভিন্নতার জন্ম দেয়। সেটি বিলুপ্ত হলে আমাদের(ওদের থেকে) পৃথক থাকার যুক্তি বা ভিত্তিই বিলুপ্ত হবে। ফলে বিপর্যস্ত হবে আমাদের স্বাধীনতা ও জাতীয় অস্তিত্ব। বাংলাদেশের বিদেশপন্থী সাংস্কৃতিক কর্মীরা বস্তুত সে কাজেই দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। এদের প্রতিপালনে দেশটির বিপুল বিণিয়োগ। বাংলাদেশের অপসাংস্কৃতিক ক্রিয়াকর্মে ও মিডিয়াতে এরা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। একাজে তাদের একনিষ্ট সেবকদের তারা পুরস্কৃতও করছে।

জাতিকে বাঁচাতে হলে চেতনার দূষিতকরণ প্রক্রিয়া থেকে জাতিকে বাঁচাতে হবে। আমাদের বাঁচবার তাগিদে অতিশয় প্রয়োজন হলো অপসংস্কৃতির আগ্রাসন রুদ্ধ করা।

তাই আজ আমাদের সংস্কৃতিকে বিদেশী ও বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রভাব থেকে মুক্ত করে ইসলামী আদর্শের মানে উত্তীর্ন সংস্কৃতি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ইসলামী আদর্শবাদীদের সংগ্রাম চালাতে হবে। এ সংগ্রাম কঠিন কিন্তু দুঃসাধ্য নয়। এ পথে পদে পদে নানাবিধ বাধা বিপত্তি, প্রতিবন্ধক ও অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে বটে। কিন্তু পরিপূর্ণ নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সাথে এ সংগ্রাম চালাতে পারলে ইসলামী আদর্শের মানে উত্তীর্ন সংস্কৃতির জয় হবেই ইনশাআল্লাহ। বর্তমান বিশ্ব এমনি ভারসাম্যপূর্ণ, মানবতাবাদী ও সকল মানুষের জন্য কল্যাণকর এক সংস্কৃতির প্রতীক্ষায় উদগ্রীব।

মুফতী ফয়জুল্লাহ

যুগ্ম মহাসচিব, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ

(মতামত বিভাগের লেখা একান্তই লেখকের নিজের মতামত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নয়)

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts