ধর্ষণরোধে মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদফতর কী করছে

শাহনেওয়াজ দিলরুবা খানম
Share Button

 শাহনেওয়াজ দিলরুবা খানম

ধর্ষণ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে, মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা তা জানতে পারছি। সমাজে এরকম আরও অনেক ঘটে যা মিডিয়ায় প্রকাশ না পেলে আমাদের নজরেও আসত না। ধর্ষণ কেন বাড়ছে? এর অনেক কারণ আছে। আজকাল ফেসবুক, ইন্টারনেটসহ তথ্য প্রযুক্তির অনেক অপব্যবহার হচ্ছে। আমাদের যে নতুন প্রজন্ম তারা এগুলোর অপব্যবহার করছে। আমাদের সচেতনতার অভাব আছে। মহিলা অধিদফতরের পক্ষ থেকে আমাদের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অনেক উঠান বৈঠক আমরা করি।

আমরা নারীদের প্রশিক্ষণ দিই জীবনমানের উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সচেতনতাবোধ সৃষ্টির জন্য যে, একটা বাচ্চা যেন পরিবার থেকে সব শিক্ষা নিয়ে থাকে যে, তার বিপরীত লিঙ্গের প্রতি কী ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে? কিশোর-কিশোরীদের জন্য আমাদের ৫৭৯টি ক্লাব আছে, ৪৮৩টি পরিকল্পনার জন্য পরিকল্পনা কমিশনে এটা পিপি দেওয়া আছে, সামনের মাসে এটা কার্যকরি হবে বলে মনে হচ্ছে।

ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত এই কিশোর-কিশোরীদের ক্লাবের মধ্যে ৩০ জন সদস্য থাকবে, যেখানে ২০ জন হলো মেয়ে, ১০ জন হলো ছেলে। এখানে উদ্দেশ্য হলো যে, ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করা, যাতে আমাদের এই কিশোররা তার বয়সী কোনো মেয়েকে দেখে তার বোন বা তার সহপাঠি, তার বন্ধু হিসেবে তাকে গ্রহণ করতে পারে। তার প্রতি যেন কোনো

নেতিবাচক মনোভাব না আসে সেই বোধ সৃষ্টি করার জন্য বিভিন্ন সৃষ্টিশীল, সৃজনশীল কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সমাজে চলমান বিভিন্ন খারাপ অভ্যাস যেমন: মাদকসেবন, জুয়া, নারী নির্যাতন, পর্নোগ্রাফি, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং প্রভৃতি বিষয়ে যেন তাদের সচেতনতাবোধ ও তাদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয় তার প্রয়াস।

শিশুকে যৌন নির্যাতন বিকৃত মানসিকতা ছাড়া আর কিছু নয়। এটার জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টি করা, মানুষের মধ্যে যে পশুত্ব সেটা দূর করার জন্য তার চেতনাকে শক্তিশালী করা দরকার। এক্ষেত্রে মোটিভিশনের মাধ্যমে সচেতনতাবোধ সৃষ্টি করার চেষ্টা করি। আমরা গ্রামে-গঞ্জে যেখানে যাই, সেখানে আমরা এই সমাবেশের আয়োজন করি। আমরা ‘মা’ সমাবেশের আয়োজন করি। পাশাপাশি নারী নির্যাতনকারী, ধর্ষকদের যাতে আইনের আওতায় নিয়ে আসা যায়, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া যায় তা নিয়েও কাজ করছি আমরা।

লেখক: মহাপরিচালক, মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts