ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহীদের দাপটে কোণঠাসা আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা

al

বিদ্রোহীদের দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। মনোনয়নবঞ্চিত হয়েও বিপুল উদ্যমে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তারা। রাজনীতির নানা সমীকরণে এসব বিদ্রোহী নৌকা প্রতীক হারালেও অনেক নেতাকর্মী রয়েছেন তাদের পক্ষে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা চেয়ারম্যানসহ প্রভাবশালী নেতা এবং সহযোগী সংগঠনের নেতারাও তাদের নেপথ্যে সমর্থন জোগাচ্ছেন। বিপুল সমর্থন রয়েছে সাধারণ ভোটারেরও। দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি দল আওয়ামী লীগের এমন বিদ্রোহী প্রার্থীর খোঁজ মিলেছে। তারা দল মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীকে সোজা হয়ে দাঁড়াতেই দিচ্ছেন না।

দলীয় নেতাদের বিরোধিতা, স্বজনপ্রীতি, মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে এসব বিদ্রোহী স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন। যদিও তারা দীর্ঘ সময় ধরে যে কোনো প্রয়োজনে, সুখ-দুঃখে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে তাদের আস্থা অর্জন করেছেন। তাই এমন একটা দুঃসময়ে সমর্থকরা ছেড়ে যাননি তাদের নেতাকে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে, বহিষ্কারের খক্ষ মাথায় নিয়েই বিদ্রোহীদের সঙ্গে রয়েছেন ওইসব নেতাকর্মী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, বিদ্রোহীরা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন- বিষয়টি সে রকম নয়। বিভিন্ন কারণে তা হয়। এক্ষেত্রে অন্য আদর্শের লোকজন সুযোগ নিতে পারে। এগুলো আমরা আমলে নিচ্ছি না। তাদের আমরা ‘ওন’ করছি না। বিদ্রোহীদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। যারা তাদের সহযোগিতা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বরিশাল ব্যুরো থেকে শাওন খান জানান, সংসদ সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নেপথ্য সহযোগিতার কারণে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে দক্ষিণের বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের দলীয় মনোনয়ন নৌকা প্রতীক পাওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। এমনকি বিদ্রোহী প্রার্থীদের চাপের মুখে প্রচার প্রচারণা চালাতে পারছেন না দলীয় প্রার্থীরা। বিদ্রোহী প্রার্থীরা নিজেকে মারমুখী ভূমিকায় মাঠ দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। এসব বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের আশীর্বাদ রয়েছে বলেও জানা গেছে।

এর মধ্যে পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের হীরালাল বড়াল বিদ্রোহী প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। এখানে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট কানাই লাল বিশ্বাস ও সৈয়দ শহীদুল আহসানসহ প্রভাবশালী বেশ ক’জন নেতা হীরালাল বড়ালের পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সারেংকাঠি ইউপিতে জেলা আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. সায়েম শেখের নামে কেন্দ্রে প্রস্তাব পাঠানো হয়। মনোনয়ন বোর্ড নজরুল ইসলামকে মনোনয়ন দিলে সায়েম সেখ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতার অনুসারীরা। এখানে দলীয় প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিদ্রোহী প্রার্থী সায়েমের লোকজন হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন দলীয় প্রার্থী নজরুল ইসলাম।

দৈহারী ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীর ধাক্কা সামলাতে পারছেন না দলীয় প্রার্থী। দৈহারীতে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় প্রগতি মণ্ডলকে। ওই ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিন্টু বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার দখলেই রয়েছে নির্বাচনী মাঠ।

কাউখালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুর রশিদ মিল্টন। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়ালের সঙ্গে বিরোধিতার কারণে তার নাম প্রথমে কেন্দ্রে যায়নি। পরে অবশ্য কেন্দ্রীয় নেতারা সবদিক বিবেচনা করে নৌকা প্রতীক দেয় তাকে। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী নামে বিদ্রোহী হিসেবে আছেন এমপি আউয়ালের ভাগ্নে। নেপথ্যে নানাভাবে তাকে সহায়তার গুঞ্জনও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। খোদ মিল্টনও বললেন তার আশংকার কথা।

যুগান্তরকে মিল্টন বলেন, আমার মনোনয়ন বাতিলে মানববন্ধন থেকে শুরু করে সবকিছুই করিয়েছেন এমপি আউয়াল। আর এখন শুনছি যে নৌকা ডোবাতে প্রয়োজনে নেপথ্যে থেকে এখানকার বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে পর্যন্ত নাকি কাজ করবেন তিনি। এমপি আউয়াল অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, কেন্দ্র থেকে যাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে এবং যারা নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছে, তাদের পক্ষেই কাজ করছি আমি। দলীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে বেইমানি করার প্রশ্নই ওঠে না।

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক এমপি মরহুম গোলাম সবুর টুলুর ভাই গোলাম নাসির। শুরু থেকেই এই মনোনয়নের বিরুদ্ধে ছিলেন আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি শওকত হাসানুর রহমান রিমন। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন পাথরঘাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হোসেন আকনের ভাতিজা আকন মো. শহীদ। গোলাম নাসির অভিযোগ করে বলেন, দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে ভাতিজার পক্ষে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন মেয়র আনোয়ার আকন। এমপি রিমন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শহীদ আকনকে বসিয়ে দেয়ার জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। বিষয়টি গোলাম নাসিরও জানে। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।

খুলনা ব্যুরো থেকে শেখ আবু হাসান জানান, বিদ্রোহী প্রার্থী ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এখানকার আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। খুলনা জেলার ৬৭ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ৪২ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। দলীয় প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে মাঠে নেমেছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। দাপিয়ে বেড়িয়ে মাঠ দখলে রেখেছেন কোনো কোনো বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, জেলার শীর্ষ কয়েকজন নেতার আধিপত্য ধরে রাখা এবং মনোনয়ন বাণিজ্যে তাদের সুপারিশে ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, কয়রা, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, দিঘলিয়া ও তেরখাদাসহ বেশকিছু উপজেলার ইউপি নির্বাচনে হাইব্রিড নেতাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তৃণমূলের নেতারা যাদের জন্য সুপারিশ করেছিলেন, তাদের অনেককে মনোনয়ন না দিয়ে দেয়া হয়েছে ‘অযোগ্য’ নেতাদের।

লস্কর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন বলেন, ইউনিয়ন ও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী তার বিরোধিতা শুধু নয় বরং তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষেও কাজ করছেন বলে অসংখ্য তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। চাঁদখালী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুনছুর আলী গাজী ও দেলুটী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রিপন মণ্ডলও একই সুরে বলেন, দলীয়ভাবে তাদের মনোনয়ন দেয়া হলেও স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগে গ্র“পিংয়ের কারণে অনেক নেতাকর্মী প্রকাশ্যে ও গোপনে তাদের বিরোধিতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন, যা তাদের বিজয়ের ব্যাপারে অন্তরায় হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক গাজী মোহাম্মদ আলী বলেন, স্থানীয়ভাবে নিজেদের ভেতরে নানা কারণে মতবিরোধ থাকতেই পারে। দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কোনো নেতাকর্মী কাজ করছেন এমন অভিযোগ তার জানা নেই। যদি কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বটিয়াঘাটা উপজেলার সব ক’টি ইউপিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জোরেশোরে মাঠে নেমেছেন। এর ফলে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের জয়লাভের ব্যাপারে আশংকা প্রকাশ করেছেন দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। উপজেলার বটিয়াঘাট সদর ইউপিতে দলীয় প্রার্থী (নৌকা) সমীর কুমার মণ্ডল। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মনোরঞ্জন মণ্ডল। জলমা ইউপিতে দলীয় প্রার্থী অনুপ কুমার গোলদার, অপরদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন ভগবতি গোলদার (নারী)। গংগারামপুর ইউপিতে দলীয় প্রার্থী শেখ হাদী উজ্জামান। এই ইউপিতে দু’জন বিদ্রোহী প্রার্থী রামপ্রসাদ রায় ও রণজিৎ কুমার মণ্ডল। সুরখালী ইউপিতে দলীয় প্রার্থী আবদুল হাদী সরদার আর বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন জেলা ছাত্রলীগের সম্পাদক মুশফিকুর রহমান সাগর। ভান্ডারকোট ইউপিতে দলীয় প্রার্থী অহিদুল ইসলাম। এই ইউপিতে বিদ্রোহী আছেন ইসমাইল হোসেন বাবু। বলিয়াডাঙ্গা ইউপিতে দলীয় প্রার্থী আসাবুর রহমান আসাব। আর বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন শেখ রাসেল এবং আমীরপুর ইউপিতে দলীয় প্রার্থী মিজানুর রহমান মিজান। অপরদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন হুজ্জাত হোসেন।

দলের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এই উপজেলার গংগারামপুর ইউপি ছাড়া বাকি ৬টিতে জেলা সাধারণ সম্পাদক সুজার অনুসারীরা দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। ফলে জেলা সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদের অনুসারীরা মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সুপারিশে অধিকাংশরাই মনোনয়ন পাননি বলে স্থানীয় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন। ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই উপজেলার নেতাকর্মীরা স্পষ্টত দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এর ফলে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। তারা জয়লাভের ব্যাপারেও শংকিত বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো থেকে নাসিরুদ্দিন রকি জানান, দ্বিতীয় ধাপে চট্টগ্রাম জেলার তিনটি উপজেলায় ৩০টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে অন্তত ৯টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর পাশাপাশি মনোনয়ন বঞ্চিত একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। কোনো কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী দলীয় প্রার্থীর চেয়ে জনসমর্থনে এগিয়ে রয়েছেন। দলের থানা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী এমনকি দলের স্থানীয় এমপিরাও বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে ভেতরে ভেতরে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ কারণে ওইসব ইউনিয়নে বেকায়দায় রয়েছেন দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

সন্দ্বীপ প্রতিনিধি মিজানুর রহমান জানান, সারিকাইত ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী জাফরুল ইসলাম। এ ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক সাহেদ সারোয়ার শামিম। জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, উপজেলার ১২ ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত ৬টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা শক্তিশালী। তাদের পক্ষে ভেতরে ভেতরে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন স্বয়ং দলীয় এমপিসহ উপজেলা পর্যায়ের নেতারা। বিদ্রোহী প্রার্থীরাও দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় তাদের বিপক্ষে কেউ অবস্থান নিতে সাহস পাচ্ছেন না। বলতে গেলে এ ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীদের দাপটে অনেকটা নাস্তানাবুদ দলীয় প্রার্থীরা।

মিরসরাই প্রতিনিধি মাহবুব পলাশ জানান, মিরসরাইয়ে ৯টি ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে জোরারগঞ্জ ইউনিয়নে দু’জন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন করছেন। এ ইউনিয়ন বর্তমান চেয়ারম্যান মকছুদ আহম্মদ চৌধুরী নৌকা প্রতীকে মনোনয় পেলেও মনোনয়নবঞ্চিত দু’জন বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন ও উপজেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি আশরাফ ভূঁইয়া নির্বাচন করছেন। এ দু’প্রার্থী দলীয় প্রার্থীর চেয়ে শক্তিশালী। তাদের পক্ষে উপজেলা ও জেলার একাধিক নেতা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে দলের নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি ফোরকান আবু জানান, সীতাকুণ্ড উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে দুটি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হয়েছেন এ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রায়হান উদ্দীন রেহান। এ ইউনিয়নে দলীয় প্রতীক বঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন দলের সাবেক সহ-সভাপতি এসএম আবদুল করিম, আওয়ামী লীগ কর্মী ইলিয়াছ আলী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাজহারুল হক চৌধুরী। এখানে এসএম আবদুল করিম দলীয় প্রার্থীর চেয়ে শক্তিশালী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। একইভাবে মুরাদপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জাহেদ হোসেন নিজামী। এ ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বাহার। তিনিও নির্বাচনে লড়াইয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। মনোনয়নবঞ্চিত হলেও তার পক্ষে উপজেলা পর্যারে অনেক নেতা দিন-রাত কাজ করছেন। দলীয় শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে তারা প্রকাশ্যে না হলেও ভেতরে ভেতরে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।

সিলেট ব্যুরো থেকে আবদুর রশীদ রেনু জানান, সদর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। টুলটিকর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল মছব্বিরকে চ্যালেঞ্জ করে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন এসএম আলী হোসেন। খাদিমপাড়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বেলালের বিজয়ের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী অ্যাডভোকেট আফছার আহমদ। মোগলগাঁও ইউনিয়নে হিরন মিয়ার বিপক্ষে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক বলেন, আওয়ামী লীগ প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত নৌকা প্রতীকধারীদের বিজয়ে এসব প্রার্থীরা কোনো বাধা হবেন না।

রাজশাহী ব্যুরো থেকে আনু মোস্তফা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের ৬ ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতেই আওয়ামী লীগের বিদ্র্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই প্রচার ও জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ৬ ইউনিয়নে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বিদ্রোহী হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪টি ইউনিয়নে মনোনীতদের চেয়ে এগিয়ে বিদ্রোহীরা। দলীয় নেতাকর্মীদের বড় অংশও তাদের সঙ্গে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

গোমস্তাপুরের দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, চৌডালায় দল মনোনীত আনসারুল ইসলামের পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ভোটে নেমেছেন গোলাম কিবরিয়া হাবিব। আলীনগরে বিদ্রোহী হয়েছেন আজবারুল ইসলাম বিপ্লব। আলীনগরে দলের মনোনয়নে প্রার্থী হয়েছেন তরিকুল ইসলাম। বাঙ্গাবাড়ীতে সাদরুল ইসলামের বিপরীতে বিদ্রোহী হয়েছেন আজাহার আলী। বোয়ালিয়াতে জিল্লুর রহমানের বিপরীতে শফিকুল ইসলাম ও রাধানগরে মামুনুর রশীদের বিপরীতে দেলোয়ার হোসেন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

দলীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, গোমস্তাপুরে দলীয় মনোনয়ন সঠিক প্রার্থীকে না দেয়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে মাঠে ভোটের প্রচারে নেমে পড়েছেন তারা। ফলে প্রচার ও জনপ্রিয়তায় বিদ্রোহীরাই অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন। গোমস্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ নিজেও রাধানগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়নে ভোট করছেন। তিনি দাবি করেন, দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে নেতাকর্মীদের তার জন্যই কাজ করা উচিত। বিদ্রোহীদের সঙ্গে নেতাকর্মীদের না থাকার আহ্বান জানিয়ে একযোগে কাজ করে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।

বগুড়া ব্যুরো থেকে নাজমুল হুদা নাসিম জানান, সারিয়াকান্দি উপজেলার হাট ফুলবাড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ারুত তারিক মোহাম্মদ। এখানে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা অওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুনজিল আলী সরকার। তিনি বয়োজ্যষ্ঠ ব্যক্তি। সামগ্রিকভাবে রয়েছেন শক্তিশালী অবস্থানে। দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী তার পক্ষে অবস্থান নেয়ায় বিপাকে পড়েছেন দলীয় প্রার্থী তারিক।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment