এবার সংসদে জাপার তোপে ইনু ও জাসদ

ইনু ও ফিরোজ
Share Button

রাজনৈতিক অতীত নিয়ে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ফের তোপের মুখে পড়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। তীর্যক এ সমালোচনা জাসদের কর্মকাণ্ড ঘিরে হলেও বক্তাদের কথার ফোকাল পয়েন্টে ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশিদ জাসদের অতীত রাজনীতির সমালোচনা করেন। সংসদ টিভিতে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের দেখানো হয় না অভিযোগ করে অনির্ধারিত বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও তার দল জাসদের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলেন জাপার এ সংসদ সদস্য।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কয়েকঘণ্টা পর জাতীয় সংসদে দলটির অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করলের জাতীয় পার্টির এ সংসদ সদস্য।

সোমবার (১৩ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ছাত্রলীগের বর্ধিত সভায় জোট সদস্য হিসেবে জাসদের হাসানুল হক ইনুকে মন্ত্রী করায় আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকদের কড়া সমালোচনা করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক। বক্তব্যে দলের জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, ‘জাসদ হচ্ছে সেই রাজনৈতিক দল যাদের হঠকারী কর্মকাণ্ডে বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা হত্যার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল।’

অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ‘হটকারি’ এ দলের সংস্পর্শ থেকে দুরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের। বলেছেন, ভবিষ্যতের প্রয়োজনে রাজনীতির ময়দানে শত্রু-মিত্র চিনে রাখতে হবে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের।’

অনির্ধারিত আলোচনায় জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তো নীলকণ্ঠ, যিনি বিষ খেয়ে হজম করতে পারেন। উনি সমস্ত বিষ খেয়ে হজম করেছেন। আমার তো মনে হয় এখন যারা গুপ্ত হত্যা করছে, ভবিষতে তাদেরও না জানি সংসদে নিয়ে আসেন।’

সংসদ টিভিতে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের দেখানো হয় না এই অভিযোগ করে জাসদের সমালোচনার সূত্রপাত করেন কাজী ফিরোজ রশিদ। সমালোচনার শুরুতেই বলেন, ‘সংসদে বিরোধী দলের এমপিদের সংখ্যা অত্যন্ত কম, মাত্র ৪০ জন। কিন্তু টিভিতে আমাদের মুখটা দেখানো হয় না। এর কারণ হচ্ছে এই সংসদে যিনি তথ্যমন্ত্রী তিনি জাসদ করেন। প্রবলেমটা (সমস্যাটা) ওইখানে না, প্রবলেমটা ছিল আমরা ছাত্রলীগ করেছি, উনি জাসদ করেছেন। এই জাসদ যদি সেদিন গণবাহিনী করে নির্বিচারে মানুষ হত্যা না করতো তাহলে বঙ্গবন্ধুর মত জাতীয় নেতাকে আমরা হারাতাম না।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গত সোমবার যথার্থই বলেছেন। এই বিষয়টা জাসদ করেছে। এসময় জাসদের একাংশের নেতা মঈনুদ্দিন দ্দিন খান বাদল প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে তিনি ডেপুটি স্পিকারের প্রটেকশন চান।’

এসময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সদস্য, আপনি টিভিতে মুখ দেখানোর কথা বলতে গিয়ে কিছু স্পর্শকাতর কথা বলেছেন সেগুলো প্রসিডিউর থেকে বাদ দেয়া হল। এরপর জাসদের বাদল কথা বলার সুযোগ চাইলেও তাতে সায় দেননি ডেপুটি স্পিকার।’

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts