কে এই আসলাম চৌধুরী?

Aslam+BNP Leader (5)
Share Button

মাত্র এক যুগ। এ সময়ের মধ্যে বিস্ময়কর উত্থান ঘটে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর। মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি কার্যকর হওয়া বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর হাত ধরেই তার এ উত্থান। স্বল্প সময়ে বিশাল বিত্তবৈভবের মালিক ও বিএনপির বড় নেতা বনে যান এ আসলাম চৌধুরী।

জিয়া পরিষদ চট্টগ্রামের সভাপতির পদ দিয়ে তার বিএনপির রাজনীতি শুরু। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক ও সম্প্রতি যুগ্ম মহাসচিবের পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। তার এমন উত্থানে স্বয়ং চট্টগ্রামের অনেক সিনিয়র বিএনপি নেতাও হতবাক।

কোন জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে চলে গেলেন তার উত্তর মেলাতে পারছেন না অনেকেই। ২০০৪-০৫ সালেও যিনি রয়েল সিমেন্টের সিইও (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) হিসেবে চাকরি করতেন, সেই আসলাম চৌধুরী এ ক’বছরে এক ডজনেরও বেশি কোম্পানির মালিক হন।

বিভিন্ন ব্যাংক থেকে স্ব-নামে বে-নামে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আসলাম চৌধুরী গড়ে তোলেন এসব কোম্পানি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণের বোঝা রয়েছে তার মাথায়। খেলাপি হওয়ায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিলামে উঠেছে। আবার দুর্নীতি দমন কমিশনও বিভিন্ন ব্যাংকের টাকা না দিয়ে পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে।

অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেয়া হাজার কোটি টাকার ঋণের একটি অংশ তিনি ব্যয় করেছেন সরকারিবিরোধী আন্দোলন তথা নাশকতার পেছনে। এসব করতে গিয়ে তার কোন কোন প্রতিষ্ঠান হয়ে পড়েছে দেউলিয়া।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করা আসলাম চৌধুরী বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কিন্তু তিনি সরকরি চাকরিতে যোগ না দিয়ে সিএ কোর্স সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। ২০০২ সালে জিয়া পরিষদ চট্টগ্রামের সভাপতি নির্বাচিত হন।

বিগত ওয়ান ইলেভেনের আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সীতাকুণ্ড আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন লাভের মধ্য দিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

২০০৯ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল কাশেম মাস্টারের কাছে পরাজিত হন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এ কমিটিতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে সভাপতি করা হয়।

কিন্তু গিয়াস কাদের চৌধুরীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়ায় এ কমিটি ভেঙে দিয়ে আসলাম চৌধুরীকে উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়। রাজনীতিতে প্রবেশের ১০ বছরেরও কম সময়ে কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ায় দলের অনেক নেতাকর্মীও বিস্মিত, হতবাক হন।

২০০৫-০৬ সালের দিকে বিএনপির মনোনয়ন লাভের আগেই জোট সরকারের আমলে আদমজী জুটমিল ভাঙার কাজ পান আসলাম। বেশ কয়েকটি রুগ্ণ কারখানাও কিনে নেন তিনি। এ সময়েই তিনি চাকরি ছেড়ে গড়ে তোলেন চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্প পরিবার ‘রাইজিং গ্রুপ অব কোম্পানিজ’।

গত বছরের ৫ জানুয়ারি কাজীর দেউড়ি এলাকা থেকে একটি ভাংচুর মামলায় আসলাম চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। সে সময় তিনি ৬ মাস কারাগারে আটক থাকেন।

চট্টগ্রাম বিএনপি নেতাদের নিন্দা : কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম চৌধুরীকে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে চট্টগ্রাম বিএনপি নেতারা বলেছেন, ‘ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর বৈঠকের বিষয়টি সম্পূর্ণ অবাস্তব, কল্পনাপ্রসূত ও হাস্যকর। আসলাম চৌধুরীর ব্যক্তিগত সফরের কিছু ছবি নিয়ে সরকার তিলকে তাল করে জনগণের মাঝে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।’

বিবৃতিতে বিএনপি নেতারা বলেন, ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকার বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আসলাম চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে। প্রকৃতপক্ষে সরকার যে কোনো মূল্যে অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে একের পর এক শুধু বিরোধী দলের নেতাকর্মীই নয়, ভিন্নমত ও ভিন্নপথের লোকজনকেও মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে গ্রেফতার করছে। তারা বলেন, আসলাম চৌধুরী একজন উচ্চশিক্ষিত পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। মেধা ও মননের মাধ্যমে তিনি দলকে সুসংগঠিত করেছেন, কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত নন। তারা অবিলম্বে আসলাম চৌধুরীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts