‘ক, জীবনে আর শিবির করতাম নায়…!’

murder kupia

হাতের একাংশ, পা ও ঘাড়ের দিক দিয়ে রক্ত ঝরছে। দা দেখিয়ে চলছে হুংকার, ‘ক, জীবনে আর শিবির করতাম নায়…!’ সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী সাবেক শিবির নেতা আসাদ চৌধুরীকে মারধরের পর এভাবে শিবির না করার সবক দিয়েছেন। মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সজল দাশের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা আসাদকে এ সবক দেন।

আজ শনিবার বেলা দুইটার দিকে কলেজের ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একটি ভিডিও করা হয়েছে।
আসাদ চৌধুরী সিলেট নগরের তালতলা এলাকার ব্রিটানিয়া উইমেন্স কলেজের শিক্ষক।

১৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, মারধরে কাহিল অবস্থার মধ্যে আসাদ চৌধুরীকে প্রথম দফায় বলা হয়, ‘ক, জীবনে আর শিবির করতাম নায়।’ আসাদ এ কথা বলেন। পরে আবার জিজ্ঞাসার সুরে বলা হয়, ‘জীবনে আর করবে শিবির?’ তখন আসাদ ‘না, আর করতাম নায়’ বলেন। বেধড়ক পিটুনির পর আসাদের মুখের কাছে দা নিয়ে এসব কথা বলা হয়। একপর্যায়ে পায়ে একবার আঘাত করা হলে আসাদ চিৎকার করে ওঠেন।

এরপর ঘটনাস্থল থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসাদকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, আসাদের পায়ে ও হাতে তিনবার কোপ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, কাঠের রোলার দিয়েও পেটানো হয়।

যোগাযোগ করা হলে ছাত্রলীগ নেতা সজল দাশ প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, আসাদ চৌধুরী কলেজশিক্ষক হলেও শিবিরের ক্যাডার। তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে জামায়াত ও শিবিরের নানা রকম প্রচার ও প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে নানা রকম মন্তব্য প্রচার হয়। এ বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায় আসাদের ফেসবুকের প্রোফাইল ছবিতে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের স্থলে ‘ইসলামী শিক্ষা দিবস’ উল্লেখ করা। এতে নেতা-কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে ধরে এনে পেটান।

সজল দাশের দাবি, আসাদকে মারধরে সময় তিনি ছিলেন না। ছাত্রলীগের ক্ষুব্ধ কর্মীদের হাত থেকে রক্ষা করতে জীবনে আর শিবির না করা ও ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো কটূক্তি না করার অঙ্গীকারের পর আসাদকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আসাদ চৌধুরীর ফেসবুক আইডিতে দেখা গেছে, তাঁর প্রোফাইল ছবি ‘১৫ আগস্ট ইসলামী শিক্ষা দিবস’ লোগোযুক্ত। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় জামায়াত-শিবিরের প্রচারণাও তাঁর ওয়ালে দেখা গেছে। সর্বশেষ সিলেটে ৭ আগস্ট সোবহানীঘাট এলাকায় জালালাবাদ কলেজের সামনে ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে কুপিয়ে জখম হওয়ার ঘটনায় শিবিরের বিবৃতি আসাদের ফেসবুক থেকে শেয়ার করা হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে আসাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন বলেন, ‘তালতলায় একজনকে মারধরের খবর শুনেছিলাম। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছু পাইনি। হাসপাতালেও আহত হয়ে কেউ ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।’

ফেসবুকে ‘১৫ আগস্ট ইসলামী শিক্ষা দিবস’ উল্লেখ করার ব্যাখ্যায় মহানগর শিবিরের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট তৎকালীন ‘ইসলামী ছাত্রসংঘের’ নেতা আবদুল মালেকের ওপর হামলা হয়, ১৫ আগস্ট তিনি মারা যান। এরপর থেকে ওই দিনটি শিবির ‘ইসলামী শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করে। শিবিরের প্রকাশনা ‘ছাত্র সংবাদ’-এ ঘটনাটির উল্লেখ রয়েছে।

বিকেলে যোগাযোগ করলে ব্রিটানিয়া উইমেন্স কলেজের অধ্যক্ষ গ ফ ম আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় দুই বছর থেকে দর্শনের প্রভাষক পদে চাকরি করছেন আসাদ চৌধুরী। ঠিক কী কারণে তাঁর ওপর হামলা হয়েছে, তা তিনি জানেন না। আসাদ এখন কোথায় আছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। আসাদের ফেসবুক প্রোফাইলে জামায়াত-শিবিরের প্রচারণা থাকলেও কলেজ অধ্যক্ষ বলেন, ‘চাকরিকালে তাঁকে রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে কোনো কথা বলতে কেউ শোনেনি। আমিও শুনিনি। তাই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারব না।’

সুত্র : প্রথম আলো

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts