জাতীয় পার্টিতে পদ পেতে চাঁদা দিতে হবে

Jatiya parti
Share Button

জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় পদে আসতে হলে নতুন করে ফরম পূরণ করতে হবে। জাপার চেয়ারম্যান, দুই কো-চেয়ারম্যান এবং মহাসচিব ব্যতিত ইতোপূর্বে দলের প্রেসিডিয়াম, ভাইস-চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা, সম্পাদকীয়সহ কেন্দ্রের বিভিন্ন পদে যারা ছিলেন তাদের নতুন কমিটিতে আসতে হলে ফরম সংগ্রহ করে জমা দিতে হবে।

আর ফরম জমা দেয়ার সময় বকেয়া মাসিক চাঁদা সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে হবে। বকেয়া পরিশোধ না করলে ফরম গ্রহণ করা হবে না।

দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বকেয়া পরিশোধের জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। আর এটা করতে পারলে কয়েক কোটি টাকা দলীয় তহবিলও সংগ্রহ হবে। বিগত কেন্দ্রীয় কমিটির পদধারী ৮০ ভাগ নেতাই মাসিক চাঁদা পরিশোধ করেননি। কিন্তু তারা পদ পদবীর জন্য দৌঁড় ঝাপ করছে।

বকেয়া পরিশোধের বিষয়টি স্বীকার করে দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘সব রাজনৈতিক দলের নেতারা নির্দিষ্ট হারে মাসিক চাঁদা দিয়ে থাকেন। ওই চাঁদার টাকা দিয়ে দল পরিচালিত হয়। অথচ যারা জাপার পার্টির গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন, কিন্তু মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে দলের মাসিক চাঁদা পরিশোধ করছেন না, আশা করি, তারা এবার বকেয়া পরিশোধ করবেন। এতে দলের নিজস্ব তহবিলও শক্তিশালী হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সম্মেলনের আগে দলের প্রেসিডিয়াম সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, নতুন পদে আসতে হলে বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। আর যারা দলে ত্যাগী, কিন্তু আর্থিক সমস্যায় তাদের বিষয় পার্টির চেয়ারম্যান আলাদা ভাবে দেখবেন বলে আশা করি।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ২৯৯ সদস্য বিশিষ্ট। এর মধ্যে ৪১ জন প্রেসিডিয়াম, ৪১ জন ভাইস-চেয়ারম্যান, ৩৪ উপদেষ্টা, ১৬ যুগ্ম-মহাসচিব, ৩৬ সাংগঠনিক সম্পাদক, ২৩ বিভাগীয় সম্পাদক, ২৩ যুগ্ম-সম্পাদক এবং ৯৯ জন সদস্য। এই পদে যারা দায়িত্বে আছেন তাদের প্রত্যেকের জন্য মাসিক চাঁদা ধার্য আছে। এর মধ্যে প্রেসিডিয়াম এবং সংসদ সদস্য ৩ হাজার টাকা, উপদেষ্টা ২ হাজার ৫০০ টাকা, ভাইস-চেয়ারম্যান ২ হাজার, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ১ হাজার এবং সদস্যদের ৫০০ টাকা করে দলীয় ফান্ডে জমা দেয়ার কথা।

চাঁদার টাকা পরিশোধের জন্য দলের চেয়ারম্যান বিভিন্ন সময় বলে এলেও তা করছেন না কেন্দ্রীয় নেতারা। দলের অনেক সভাতেই দলের চেয়ারম্যান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে থাকেন, ‘কয়েকজন ছাড়া কেউ দলের নির্ধারিত টাকা দিচ্ছে না। এই দলের জন্য আমার সব কিছুই শেষ করে দিয়েছে। অফিসের ভাড়াও আমার দিতে হয়, অফিসের স্টাফদের টাকা আমার দিতে হয়। সবাই আমার দিতে হচ্ছে, কেউ টাকা দেয় না।’

সূত্র জানায়, দলের এমন প্রেসিডিয়াম সদস্য, সংসদ সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা, যুগ্ম-মহাসচিব আছে, ২০১০ সালের অনুষ্ঠিত সপ্তম সম্মেলনের পর দলে মাসিক টাকা পরিশোধ করেনি। এরকম প্রেসিডিয়াম সদস্যও আছেন যাদের কাছে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা বকেয়া দাঁড়িয়েছে। আর নির্বাহী সদস্যদের কাছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা বকেয়া দাঁড়িয়েছে।

বিগত কমিটির এক প্রেসিডিয়াম সদস্য নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের পার্টির সম্মেলন গত ১৪ মে অনুষ্ঠিত হয়। তার দুই দিন আগে অর্থাৎ ১২ মে প্রেসিডিয়াম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায়ই সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী কমিটিতে যারাই আসবে, তাদের বকেয়া পরিশোধ করেই পদে আসতে হবে। আপনি পদে থাকলে, দলের নামে সুযোগ সুবিধা নিতে পারবেন, মাসিক চাঁদা দিবেন না, সেটা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গত ১৪ মে সম্মেলনে চেয়ারম্যান, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান, কো-চেয়ারম্যান এবং মহাসচিব ডেলিগেটের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।’

পার্টির বনানী চেয়ারম্যান কার্যালয় সূত্র জানায়, নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে হলে আগের বকেয়া টাকা পরিশোধ করতেই হবে। নতুন কমিটিতে আসতে গত ১৮ মে জাপার বনানী কার্যালয় থেকে ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে, ১ হাজার টাকার বিনিময়ে ফরম বিতরণ আগামী ২৪ মে পর্যন্ত চলবে। আর ওই দিনই ফরম জমা শেষ দিন। দলের যে কেউ এই ফরম নিতে পারবেন। তবে বিগত কমিটিতে কোনো পদে ছিলেন, আর এবার কোনো পদের প্রত্যাশা করেন তা উল্লেখ করতে হবে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts