জিজ্ঞাসাবাদে যা স্বীকার করলেন আসলাম চৌধুরী

Aslam+BNP-Leader-755-422
Share Button

দ্রুত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা করেছিল বিএনপি। এ লক্ষ্যে অরাজকতার মাধ্যমে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে নামেন আসলাম চৌধুরী। দ্রুত কাজ সারতে তিনি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা যোগাযোগ করেন।

ইসরাইলের এ সংস্থার সহায়তায় প্রশিক্ষিত জঙ্গি তৈরির  উদ্যোগ নেন বিএনপির এ যুগ্ম মহাসচিব। পরে এদের দিয়েই বাংলাদেশে হামলা চালানোর লক্ষ্য স্থির করেন এ নেতা। রোববার সন্ধ্যায় গ্রেফতারের পর গোয়েন্দাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বর্তমান সরকারের পতন ঘটানোর এ দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন আসলাম চৌধুরী।

জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আসলাম চৌধুরী দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল, দেশে একের পর এক জঙ্গি হামলা চালানোর পরিকল্পনা। এজন্য তিনি মোসাদের অস্ত্র ও বিস্ফোরকের সরবরাহ চান। একই সঙ্গে  প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান।

ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা তার অনুরোধে সাড়া দিয়ে কাজ শুরু করে বলে আসলাম চৌধুরী গোয়েন্দাদের জানান। ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মোসাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে আসলাম সংস্থাটির এজেন্টদের সঙ্গে বিভিন্ন দেশে দফায় দফায় বৈঠক করেন। ব্যবসার আড়ালে ওইসব দেশ ভ্রমণের সময় পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

এ ধরনের কোনো একটি বৈঠকে বিএনপিকে সব ধরনের সহায়তা করার আশ্বাস দেয় গোয়েন্দা সংস্থাটি। বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানো এবং বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য যে কোনো ধরনের সহযোগিতা দেয়ার জন্য তারা সম্মত হয়।

বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী মোসাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছেন এ ধরনের খবর বিভিন্ন দেশী-বিদেশী সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হলে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে নজরদারির আওতায় আনে। এরপর রোববার সন্ধ্যায় কুড়িল বিশ্বরোড তিনশ’ ফুট রাস্তার একটি চেকপোস্ট থেকে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা হয়।

সেখান থেকে তাকে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার আসলাম চৌধুরীকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ।  আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন বলেছেন, আপাতত আসলাম চৌধুরীকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হলেও আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার প্রস্তুতি চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর ওই মামলা করা হবে বলে তিনি জানান।

মোসাদের এক এজেন্টের সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর প্রায় ১৫ বছর আগে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জাহাজে অস্ত্র পরিবহনের সময় ওই গোয়েন্দা সংস্থাটির সম্পর্ক হলেও মাঝে দীর্ঘদিন যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু সম্প্রতি আবারও সম্পর্ক গড়ে উঠে গোয়েন্দা সংস্থাটির সঙ্গে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts