তারেককে ফিরে পেতে আন্দোলনের আহবান বিএনপির

মির্জা ফখরুল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমরা দেখছি যে, আমাদের তরুণ-উদীয়মান নেতা তারেক রহমান, যিনি ভবিষ্যতে আমাদের নেতৃত্ব দেবেন এবং সম্মিলিত বাংলাদেশে প্রতিনিধিত্ব করবেন, তিনি আমাদের মাঝে আসতে পারেননি। তিনি নির্বাসিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। আসুন, তার মুক্তি ও তাকে ফিরে পাওয়ার জন্য আমরা আন্দোলন শুরু করি।’

শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে র‌্যালিপূর্ব এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান। দলটির পক্ষ থেকে এ র‌্যালির আয়োজন করা হয়।

এসময় তিনি স্বাধীনতা দিবসের বিজয় র‌্যালির মধ্য দিয়ে হারানো গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার শপথ নিতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা ও ন্যায়বিচার ভিত্তিক রাষ্ট্র পাব বলে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। কিন্ত দুর্ভাগ্য, স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরেও আমাদের সেই গণতন্ত্রের জন্য সোচ্চার হতে হচ্ছে, চিৎকার করতে হচ্ছে। গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য প্রাণ দিতে হচ্ছে আমাদের ছেলেদের।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘আজকে আমাদের মা-বোনেদের নিরাপত্তা নেই। গোটা সমাজে কোনো মানুষেরই কোনো নিরাপত্তা নেই। আমাদের বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হচ্ছে। দেশের অর্থনীতিকে বর্গিদের মতো লুট করে নেয়া হচ্ছে। এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে আমরা স্বাধীনতা দিবস পালন করছি।’

বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, ‘বিজয় র‌্যালির মধ্য দিয়ে আমরা সমগ্র পৃথিবীকে এ বার্তা পৌঁছাতে চাই যে, ‘একাত্তর সালে আমরা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করেছিলাম। অথচ আজকে সেই গণতন্ত্র দেশে অনুপস্থিত।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একাত্তর সালে যে চেতনা নিয়ে যুদ্ধ করেছিলাম, সেই চেতনাকে বাস্তবায়ন এবং গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারসহ আমাদের অধিকারগুলোকে ফিরিয়ে আনার জন্য আজকে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের ছোট-খাট বিভেদগুলো ভুলে গিয়ে আমরা যখন ঐক্যবদ্ধ হব, তখন দেশের সব মানুষকেও আমরা ঐক্যবদ্ধ করতে পারব। সব রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্রপ্রেমি সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা আমাদের অধিকারগুলোকে ফিরিয়ে নিয়ে আসব, ইনশাল্লাহ।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, তিনি আমাদেরকে বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছিলেন। এছাড়া বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ নয় বছর আন্দোলন করে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং এখনো তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছেন। আসুন, তাদের আদর্শ অনুসরণ করে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার সংগ্রামে আমরা সবাই শরিক হই। একইসঙ্গে আমাদের বন্দি মানুষগুলোকে মুক্ত করি।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম তার বক্তব্য শেষে বিজয় র‌্যালির উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং র‌্যালির নেতৃত্ব দেন।

র‌্যালিতে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবুল, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল প্রমুখ।

বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে স্বাধীনতা দিবসের এ বিজয় র‌্যালিটি শুরু হয়। এরপর সেটি কাকরাইল মোড় ও শান্তিনগর হয়ে মালিবাগ মোড়ে গিয়ে ৪টা ২৫ মিনিটে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। মিছিলের অগ্রভাগে ও শেষ অংশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।

র‌্যালিতে দলের নেতাকর্মীরা জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা, পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি, সুসজ্জিত পিকআপ ভ্যান, রং-বেরংয়ের বেলুন, জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়া-তারেক-আরাফাত রহমান কোকোর ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড-ব্যানার-ফেস্টুন এবং কেন্দ্রীয়, মহানগর ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের ছবি সম্বলিত ব্যানার বহন করেন। এ সময় নেতাকর্মীরা বাদক দলের বাজনার তালে তালে রাজপথে আনন্দে মেতে ওঠেন।

লাল-সবুজ রঙয়ের পোশাকে দলের নারী নেতাকর্মীদের র‌্যালির অগ্রভাগে সরব উপস্থিতি ছিল।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment