দেশ এখন অগ্নিগর্ভ : রুহুল কবির রিজভী

দেশ এখন অগ্নিগর্ভ : রুহুল কবির রিজভী
Share Button

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘সরকার নিষ্ঠুর, নির্দয় রক্তপাতের মাধ্যমে গোটা জাতিকে স্থির, নিস্তব্ধ গোরস্তানে পরিণত করতে চাচ্ছে। কবরের নিস্তব্ধ যুদ্ধের চেয়েও আরও বেশি ভয়ঙ্কর।’
রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুক্রবার সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘দেশবাসী অপেক্ষা করছে প্রধানমন্ত্রীর আত্মম্ভরী প্রগলভতার যবনিকাপাতের খবর শোনার জন্য। গোটা দেশ এখন অগ্নিগর্ভ। যদি জনগণের মনের কথা, বেদনার কথা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উপলব্ধি করতে না পারেন, তাহলে জনগণের ক্ষোভ যে কোন মূহুর্তে সুনামীর ন্যায় আছড়ে পড়ে দস্যুদলের ন্যায় আচরণকারী বর্তমান সরকারকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।’
‘ভোটারবিহীন গদি আটকে রাখা শাসকগোষ্ঠী দেশকে চরম অরাজকতার লীলাভূমিতে পরিণত করেছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে বিরোধী দল নির্মূল করার অভিযানে লেলিয়ে দিয়ে তাদের বুকের মাপটা বড় করে দেয়া হয়েছে।’
‘‘বিগত কয়েক বছর বিচার বহির্ভূত হত্যা, বে-আইনী গুম ও গুপ্তহত্যা সংঘটিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে যে ছাড়পত্র দিয়েছিল সরকার, তাতে তারা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে এখন বিবেকহীন অবিশ্বাস্য রকম বেপরোয়া ‘আউট ল’-তে পরিণত হয়েছে,’’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সদা তৎপর র্যা ব-পুলিশ কর্তৃক এখন সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করা যেন গা-সওয়া করে দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘চাঁদাবাজী, জুলুম, প্রহার, নিরীহ মানুষকে আটক করে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে মামলা দেওয়া বা ভয় দেখানো, ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, আদায় না হলে হত্যা করা ইত্যাদি পৈশাচিক অপকর্মে লিপ্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সদস্যরা।’
‘সম্প্রতি মিরপুরের ১ নং গগুদারাঘাট এলাকায় পুলিশ কর্তৃক গরীব চা বিক্রেতা বাবুল মাতব্বরের মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের’ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি। দলের পক্ষ থেকে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোষীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান রিজভী।
তিনি বলেন, ‘জনগণের ঘাম নিংড়ানো পয়সার সেই অস্ত্র শেখ হাসিনার র্যাষব-পুলিশ প্রয়োগ করছে বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর। যার কারণে মা ও স্ত্রীর কাছ থেকে ছাত্রদল নেতা জনি’র মতো অসংখ্য সন্তান ও স্বামীকে তারা হত্যা করেছে। ইলিয়াস আলী, সাইফুল ইসলাম হীরু, চৌধুরী আলম, হুমায়ুন কবির ও ঢাকা তেজগাঁও কলেজের ছাত্রদল নেতা জাকিরসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্যকে গুম করা হয়েছে।’

‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর বেআইনী ও দায়িত্বহীন আচরণের কারণে গত জানুয়ারী মাসে গড়ে প্রায় প্রতিদিন একজন করে শিশু নিহত হয়েছে। এছাড়াও রাজনৈতিক ও সামাজিক দূর্বৃত্তায়নে মানুষের গলা কাটা হচ্ছে, কুপিয়ে হত্যা করা হচ্ছে, পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, এমনকি পেটের শিশু পর্যন্ত দূর্বৃত্তদের আক্রমণ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এদেশে সাধারণ মানুষের কাছে এখন আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ডিভাইস’টা হয়ে পড়েছে আইনের রক্ষকরা ভক্ষকে পরিণত হওয়া,’ বলেন তিনি।
অপরিণামদর্শী অপকর্মই এইসব সরকারের প্রধান বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘এরা গোটা দেশটাকে অপরাধ জগতে পরিণত করেছে। এদের কাছে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবিক অধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কোন মূল্য নেই। এরা নিজেদের ক্ষমতায় থাকতে প্রয়োজনে দেশের স্বাধীনতাকে বিকিয়ে দিতেও দ্বিধা করে না।’

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment