যে কারণে খালেদাকে সতর্ক করলো আদালত

যে কারণে খালেদাকে সতর্ক করলো আদালত
Share Button

নাইকো দুর্নীতি মামলায় অসুস্থতার কোনো সনদ ছাড়াই আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে সময়ের আবেদন করায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সতর্ক করেছেন আদালত।

বুধবার ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ এম আমিনুল ইসলাম খালেদা জিয়ার সময় আবেদন মঞ্জুর করলেও পরবর্তীতে অপূর্ণাঙ্গ আবেদন গ্রহণ করবেন বলে সতর্ক করেন।

বিচারক বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ, কিন্তু সময় আবেদনে এর কোনো সার্টিফিকেট নেই। তিনি অসুস্থ হলে তার জন্য প্রযোজনীয় কাগজ-পত্র দাখিল করতে হবে। আমি আজকের মতো গ্রহণ করলাম। অপূর্ণাঙ্গ সময়ের আবেদন পরবর্তী সময়ে গ্রহণ করা হবে না।

খালেদা জিয়ার পক্ষে বুধবার ওই আবেদন জানিয়ে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া ও জয়নাল আবেদীন মেজবাহ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল।

খালেদা জিয়ার সময় আবেদন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সানাউল্লাহ মিয়া যুগান্তরকে বলেন, আদালত আবেদনটি কনসিডার করেছেন। আগামী ১২ এপ্রিল এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালতে দুদকের প্যানেলভুক্ত আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘আমরা কাজ করতে চাই। তিনি (খালেদা জিয়া) একটি দলের (বিএনপি) প্রধান। তিনি যদি এভাবে বিচারিক কাজ বিলম্ব করেন, তাহলে আমরা কোন দিকে যবো। তিনি (খালেদা জিয়া) যে অসুস্থ এর কোনো কাগজ-পত্র সময় আবেদনের সঙ্গে নেই।’

মামলার আরেক আসামি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদষ্টো ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদও অদালতে উপস্থিত না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন।

এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘আমি (মওদুদ) অপরের মামলা করার জন্য প্রতিদিন উচ্চ আদালতে যাচ্ছি, কিন্তু নিজের মামলায় আদালতে হাজির হচ্ছি না, এটা কেমন হলো?’

মওদুদ আহমদের সময় আবেদন যুক্তিসঙ্গত নয় বলে মন্তব্য করেন আদালত। এ সময় আদালতের উদ্দেশে কাজল বলেন, ‘আপনি যদি কঠোর না হন, তাহলে হবে না।’

২০১৫ সালের ১৮ জুন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা নাইকো দুর্নীতি মামলা স্থগিত করে দেয়া আদালতের আদেশ বাতিল করেন বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালতের এ রায় পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে নিম্ন আদালতে খালেদা জিয়াকে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দেয়া হয়।

হাইকোর্ট থেকে ২০১৫ সালের ৩০ জুন মামলার নথি ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে আসে। হাইকোর্টের নির্দেশের আলোকে আদালত গত ৩০ নভেম্বর আত্মসমর্পণের দিন ধার্য করেন। ওই দিন আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর খালেদা জিয়াসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় নাইকো দুর্নীতি মামলা করে দুদক। ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment