যে কারণে গোয়েন্দা নজরদারীতে ঢাবি ছাত্রলীগের নেতারা

BCL Logo BDLatest24
Share Button

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের হল কমিটিতে যাতে অনুপ্রবেশকারীরা ঢ়ুকতে না পারে সেজন্য গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় পদ প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ইতিমধ্যেই তদের হাতে চলে এসেছে পদ প্রার্থীদের তালিকা। আর গোয়েন্দা রিপোর্ট বিরুদ্ধে গেলে উল্টে যেতে পারে কয়েকজন প্রার্থীর ভাগ্য। বিলম্ব হতে পারে কমিটি ঘোষণার সময়।

প্রথম বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের হল সম্মেলন। এ সম্মেলনের মাধ্যমেই উঠে আসবে হল ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব। আগামী দিনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব উঠে আসাসহ নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ ঢাবি ছাত্রলীগের এ সম্মেলন। তাই সম্মেলনের উত্তাপ এখন বিশ্ববিদ্যলয় ক্যাম্পাসের সর্বত্র।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল থেকে যাত্রা শুরু করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ছয়দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতীম এ সংগঠন।

সময়ের পরিক্রমায় শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির পতাকাবাহী এ সংগঠন পরিচিত পায় ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ হিসেবে। আর ছাত্রলীগের অন্যতম জেলা শাখা মর্যাদার ইউনিট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্বের অধিকাংশ দেশের ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ বলে খ্যাত শীর্ষ বিদ্যাপীঠটির ছাত্র। আর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো উপজেলা শাখার মর্যাদাপ্রাপ্ত।

সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১ এপ্রিল ঢাবি ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। হল কমিটি এক বছর মেয়াদী হলেও সাড়ে তিন বছর পর ডাকা হলো এ সম্মেলন।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দফতর সূত্র জানায়, আগামী ২৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অনুষ্ঠিত হবে হল সম্মেলন। লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী আওয়ামী ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি হিসেবে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন।

আর মাত্র দু’দিন বাদেই অনুষ্ঠিত হবে ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন। সম্মেলনের প্রস্তুতি বিষয়ে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, ‘সম্মেলনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ সম্মেলন সফলতার সাথেই সম্পন্ন করতে চাচ্ছি। আমরা চেষ্টা করছি সম্মেলনের দিনই কমিটি ঘোষণা করতে।

‘কেমন নেতৃত্ব আসছে?’- এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাবি ছাত্রলীগের এ নেতা বলেন, ‘ত্যাগী, পরিচ্ছন্ন রাজনীতিতে বিশ্বাসী ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে এমন পদপ্রত্যাশীদের নেতৃত্বে আনতে চাই। এক্ষেত্রে যারা নিয়মিত ছাত্র, তাদের গুরুত্ব দেয়া হবে।’

অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকাতে গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে হল সম্মেলনকে ঘিরে সব আবাসিক হলসহ পুরো ক্যাম্পাসেই উদ্দীপনা বিরাজ করছে। রাজনীতির আতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত মধুর ক্যান্টিনে সকাল থেকে রাত অবধি উপস্থিত হচ্ছেন হল কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা। সেখানে প্রিয়নেতাদের নজরে আসতে স্লোগান দিয়ে জানান দিচ্ছেন নিজেদের সরব উপস্থিতি। রাতের বেলা ক্যাম্পাসের টিএসসি, ডাস, শাহবাগ ও মুধর ক্যান্টিনেও নেতাদের সান্নিধ্যে আসার চেষ্টা করছেন তারা। এছাড়া ক্যাম্পাসে নিয়মিত শোডাউনও করছনে তারা।

অপরদিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্পটের পাশাপাশি হলগুলোতে সাঁটা হয়েছে ব্যানার। সর্বত্র চলছে আলোচনা। কর্মসূচেিত উপস্থিতি বাড়াতে অতিথিকক্ষে নিয়মিত ডাকা হচ্ছে ‘গেস্টরুম’। প্রত্যেক কর্মী হিসাব কষছেন তার ‘নেতা’ কমিটিতে কাঙ্ক্ষতি পদ পাচ্ছেন কিনা।

সম্মেলনকে ঘিরে নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়ে পদপ্রত্যাশী এক নেতা বলেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে যারা রাজনীতি সক্রিয় ছিল, যারা ত্যাগী, স্বচ্ছ ও বঙ্গবন্ধুর আদশের ধারক তাদের মধ্য থকেে নীতিনির্ধারকরা সর্বোচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যাক্তিকে বেছে নেবেন এটাই প্রত্যাশা।’

কমিটি চূড়ান্ত করতে ছাত্রলীগের নীতিনির্ধারণী দুই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজ নিজ অনুসারীদের নিয়ে বৈঠক করে চলেছেন। আঞ্চলিকতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে এসব বৈঠকে। এই সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ টি হলের নেতৃত্ব চূড়ান্ত করা হবে। তবে মাস্টারদা সূর্যসেন হল, হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল, জিয়াউর রহমান হল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ও জগন্নাথ হল নিয়ে চলছে শেষমুহূর্তের জটিল সমীকরণ।

অনুপ্রবেশকারীদের বিষযে ‘জিরো টলারেন্স’ উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘যারা অতীতে সংগঠনের জন্য রাজপথে ছিল, যারা নিয়মিত ছাত্র, ২০১৩-১৪ সালে বিএনপি জামায়াতের জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনের কঠিন সময়ে দলে সক্রিয় ছিল তাদের মধ্যে যারা এগিয়ে থাকবে তাদের মধ্যে থেকে বাছাই করা হবে।’

সম্মেলনের দিন কমিটি ঘোষণা করা হবে কি না জানতে চাওয়া হলে জবাবে তিনি বলেন, ‘দুটোর ই সম্ভবনা আছে।’

পদপ্রত্যাশীদের এগিয়ে থাকারা হলেন: মাস্টারদা সূর্যসেন হলের পূর্বের কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম সরওয়ার, সহ-সভাপতি রুবেল আহমেদ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক বেনজির আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সুমন মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন খান ও গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক তন্ময়।

হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের পূর্বের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহীম রাজু, সরকার রায়হান জহির, আল-আমিন, হোসাইন, তামিম, ইমরান ও সোহাগ।

শহীদ সার্জেন্ট জহরুল হক হলের আনিসুল ইসলাম জুয়েল, নজরুল ইসলাম, সোহানুর রহমান, আসিফ তালুকদার ও শাকিল ভুইঞা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের মেহেদী হাসান, বাঁধন, আওলাদ খান, রাকিবুল হাসান, পিপাস ও নাঈমুর রহমান।

স্যার এফ রহমান হলের মাহমুদুল হাসান তুষার, নাজমুল, জুয়েল, শাহরিয়ার, রাসেল, সুজন ও হাফিজ।

জিয়াউর রহমান হলের আবদুল্লাহ আল মাসুদ লিমন, ইউসুফ উদ্দীন খান অপূর্ব, সাইফুল, শেখ সাগর আহমেদ ও নাজমুল হোসাইন ।

কবি জসীম উদ্দীন হলের রবি, মো.শাহেদ খান ইয়াকুব, মো. আসিফ জরদার, রহমান, রানা ও আল মাসুদ সজীব।

সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের তাপস, আসিফ, তাহসান, মিজানুর রহমান পিকুল।

বিজয় একাত্তর হলের ফকির রাসেল আহমেদ, আরিফুল ইসলাম শেখ, সাইফুল ইসলাম জুয়েল , ফারহান ফারুখ, নয়ন হাওলাদার ও তৌকির আহমেদ তপু।

জগন্নাথ হলের উৎপল বিশ্বাস, কৃষ্ণ মজুমদার, শ্যামল সরকার, সঞ্জিত চন্দ্র দাস, শেখর পাল, শান্ত ধর, অভিজিৎ কুমার বিশ্বাস, সৌমিত্র সাহা ও সজীব সাহা।

ফজলুল হক মুসলিম হলের নূরে আলম চৌধুরী শাওন, শিশিম, হাবিব ও আরিফ।

শহীদুল্লাহ হলের নাজিউর রহমান রকি, কবির, তুহিন ও কাজল।

অমর একুশে হলের তানজির, ওসমান গণি, লিমন (ভূগোল) ও এহসান।

মেয়েদের ৫ হলে এগিয়ে থাকারা হচ্ছনে:

বেগম রোকেয়া হলের শ্রাবণী, সাবরিনা ও লিপি আক্তার।

শামসুন্নাহার হলের ইসরাত জাহান মুন, জিয়াসমিন শান্তা, নিপু ইসলাম তন্বী ও ফারজানা হাবিব লাবণ্য।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের বেনজির হোসেন নিশি ও শিরিন।

কুয়েত মৈত্রী হলের ফরিদা পারভীন ও সুস্মিতা সেন।

বেগম সুফিয়া কামাল হলের রিমঝিম, নুরুন্নাহার সোমা, ইফফত জাহান ইশা, নাজমুন সালেহিন তৃষা ও সম্পা।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকদের অনেকেই হল কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সেজন্য কমিটিতে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে এমন কাউকে পদ দেয়া হবে না বলে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন বলেন, ‘নিয়মিত ছাত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে জনপ্রিয়, সংগঠনের জন্য ত্যাগ এবং ৫ জানুয়ারির আগের ভূমিকা আমরা অবশ্যই দেখব। যাদের বিষয়ে আসলেই বিতর্ক আছে তাদেরকে আমরা নেতৃত্বে আনব না।’

সম্মেলনের দিন কমিটি ঘোষণা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।

সম্মেলনে ‘চমক’ থাকবে বলে জানিয়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘ছাত্রলীগের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো হল সম্মেলন হচ্ছে। এবারের সম্মেলনে অবশ্যই চমক থাকবে। সম্মেলনের মাধ্যমে সবকিছু পরিবর্তন করে আমরা নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসব। যাদের বিরুদ্ধে কখনো কোনো অভিযোগ ছিল না তাদের আনব।’’

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts