রওশনের কাছে এরশাদের আত্মসমর্পন!

রওশনের কাছে এরশাদের আত্মসমর্পন!
Share Button

আপন ছোট ভাই জিএম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করার পর প্রবল আপত্তির মুখে পড়ার তিন মাসের মাথায় স্ত্রী রওশন এরশাকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

বুধবার বিকেলে রংপুরের গঙ্গাচরায় এক জনসভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘আজ থেকে জাতীয় পার্টিতে কোনো ভেদাভেদ নেই। নির্ধারিত সময়েই দলের কাউন্সিল হবে। এই কাউন্সিল ভণ্ডুল করার অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার মৃত্যুর পর রওশন দলের দায়িত্ব নিলে আমি খুশি হবো।’

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংসদে এক অনির্ধারিত বৈঠক করেন রওশন এরশাদ। প্রায় ৩০ মিনিটের বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয় দু’জনের মধ্যে। ওই বৈঠকের একদিন পরই রওশনকে কো-চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হলো।

এর ক’দিন আগেই সংবাদ সম্মেলন করে দলের এরশাদের একক আধিপত্যের কঠোর সমালোচনা করেন রওশন এরশাদ। এরপর গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে সেসব অভিযোগের জবাবও দেন এরশাদ।

এইসব নাটকীয়তার পর এরশাদের পিছু হটা এবং রওশনকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ঘোষণার পর বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় পার্টির চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এরশাদের প্রেস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভ রায়।

তিনি জানান, প্রেসিডিয়ামের অভিমতের ভিত্তিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পার্টির গঠনতন্ত্রের ৩৯ ধারা মোতাবেক এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন- যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি এরশাদ রংপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ছোট ভাই গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে (জিএম কাদের) কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পরদিনই অর্থাৎ ১৮ জানুয়ারি রওশনকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন ঘোষণা করে তার পন্থি হিসেবে পরিচিত জাপার একাংশ।

এ নিয়ে এরশাদ-রওশন দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। তারা এতদিন একে অপরের সব কর্মসূচি বর্জন করে আসছিলেন। কো-চেয়ারম্যান না করা হলে কাউন্সিল করতে না দেয়াসহ পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন রওশনপন্থিরা। সেকারণে দলের অষ্টম জাতীয় সম্মেলনের তারিখ দফায় দফায় পেছাতে থাকে। অবশেষে সম্মেলনটি তৃতীয়বারের মতো পিছিয়ে আগামী ১৪ মে নির্ধারণ করা হয়।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts