রোজা রেখে কী করবেন কী করবেন না

সেহরি খাওয়ার বিধান
Share Button

রমজানের রহমতের দশকের ছয়দিন অতিবাহিত হচ্ছে আজ। রহমতের দশকে যারা রহমত অর্জনে ব্যর্থ হবে, তারা মাগফিরাত লাভেও ব্যর্থ হবে। যারা মাগফিরাত লাভে ব্যর্থ হবে, তারা রমজানের শেষ দশক নাজাত থেকেও বঞ্চিত হবে। (নাউজুবিল্লাহ) সুতরাং মুসলিম উম্মাহর উচিত রমজানের রোজা পালন এবং তার হক আদায় করা। তাই রমজানের বিশেষ করণীয় কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো-

>> দিনের বেলায় পানাহার ও স্ত্রী-সম্ভোগ ত্যাগের নামই রোজা নয়। সারাদিন অন্যায় কাজ করে, মিথ্যা বলে, গবীত করে, হারাম উপার্জনসহ আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নিষিদ্ধ কাজ করে রোজা পালনে উপবাস করার মধ্যে কোনো ফায়েদা নেই। সুতরাং রোজা পালন করে সকল প্রকার অন্যায় থেকে বিরত থাকা।

>> পবিত্র রমজান মাসের আমল-ইবাদাতে কুরআনের বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। কেননা এ মাসেই মানবতার মুক্তির মহাসনদ আল-কুরআন নাজিল হয়েছে। ঈমানের দাবি হচ্ছে, ‘বান্দার প্রতিটি আমল হবে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক।

>> রোজা মানুষকে কষ্ট সহিষ্ণু শিক্ষা দেয়। অভুক্ত মানুষের অবস্থা মূল্যয়ন করতে শিখায়। সারাদিন উপবাস করে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে উদ্বুদ্ধ করে। তাই সেহরি ও ইফতারে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকা। রমজানের অতিরিক্তি খাবার বর্জন করা জরুরি।

>> অযথা গল্প-গুজবে সময় ব্যয় না করে ইফতার পরবর্তী সময়ে ইশা এবং তারাবি নামাজ আদায়ের ব্যাপারে প্রস্তুতি গ্রহণ করা। তারাবি পরবর্তী সময়ে শেষ রাতে নফল নামাজ, জিকির-আজকারসহ দোয়া-ইস্তিগফার করা যায় এবং সবচেয়ে বরকতপূর্ণ এবং কল্যাণকর কাজ সেহরি গ্রহণ করা যায়, সেদিকে বিশেষ নজর দেয়া।

>> রমজানে সকল প্রকার অশ্লীল ও বেহায়াপনা কাজ থেকে বিরত থাকা রোজা অন্যতম শিক্ষা। রোজা পালন করে অশ্লীল-বেপর্দার কাজ করা, অযথা সময় নষ্ট করে সিনেমা-টেলিভিশন দেখা, বেহায়াপনা সমৃদ্ধ মাধ্যমগুলোতে বিচরণ করা রমজানের রোজার আদর্শের পরিপন্থী কাজ। সুতরাং সকল প্রকার খারাপ মাধ্যমগুলো পরিত্যাগ করা রোজার অন্যতম দাবি।

>> রমজানের ইবাদাতের সবচেয়ে বড় বাধা হলো ভোগ-বিলাসী জীবন-যাপন। রমজানের প্রথম সপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় কেনা-কাটা তথা বিভিন্ন শপিংমলে সময় ব্যয় করা। এ সময়টা ব্যয় হয় ইশা এবং তারাবির নামাজের মতো ইবাদাতের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। সুতরাং ইবাদাতের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কেনা-কাটায় সময় ব্যয় না করা।

সর্বোপরি রমজান মাস অন্যান্য মাসের চেয়ে নীতি-নৈতিকতার শিক্ষার অন্যতম মাস। এ মাসেই মানুষ নৈতিক ও দ্বীনি শিক্ষায় নিজেদেরকে আত্ম-নিয়োগ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

সুতরাং মুসলিম উম্মাহর উচিত, রমজান মাসে কুরআনের শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে যত্নবান হওয়া। পাশাপাশি পরিবারের সবাইকে রমজানের নৈতিক ও দ্বীনি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করাও ঈমানের অন্যতম দাবি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উপরোল্লিখিত গ্রহণীয় ও বর্জনীয় কাজগুলো যথাযথ আদায়ের মাধ্যমে রমজানের রহমত মাগফিরাত ও নাজাত লাভে এগিয়ে আসার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts