এমসিসির সভায় জোরালো বক্তব্য সাকিবের!

এমসিসির সভায় সাকিব

সিডনিতে যাওয়ার আগে বলে গিয়েছিলেন, সভায় স্রেফ দর্শক হয়ে থাকবেন না। সাকিব আল হাসান ভূমিকা রাখলেন সেভাবেই। এমসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কমিটির সভায় বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক রেখেছেন জোরালো বক্তব্য। তুলে ধরেছেন বেতন বৈষম্যের কথা। শুনিয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ে শঙ্কার কথা।

মঙ্গল ও বুধবার এমসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কমিটির সভা হয় সিডনিতে। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে সম্মানজনক এই কমিটিতে জায়গা পাওয়া অলরাউন্ডার প্রথম সভায় রেখেছেন সক্রিয় ভূমিকা।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের আয়ে এত বৈষম্য থাকলে দেশের হয়ে খেলার আগ্রহ কমে যাবে ক্রিকেটারদের। তারা ঝুঁকবে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগের দিকে। তাছাড়া আয় কম হলে স্পট ফিক্সারদের সহজ শিকারেও পরিণত হবেন ক্রিকেটাররা।

সাকিব বাংলাদেশের উদাহরণ টেনে বলেছেন, বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটারদের অনেকেরই টেস্ট ক্রিকেটে খেলার লক্ষ্য নেই। আর্থিক নিরাপত্তার কথা ভেবে তারা চায় টি-টোয়েন্টি খেলতে।

ক্রিকেটের ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বোর্ডের পারিশ্রমিক থেকে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথের আয় ছিল প্রায় ১৫ লাখ মার্কিন ডলার। সেখানে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রিমারের বার্ষিক আয় ছিল ৮৬ হাজার ডলার।

গত বছর বেতন বাড়ানোর আগে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বেতন ছিল জিম্বাবুয়ে-আফগানিস্তানেরও কম। বেতন ও ম্যাচ ফি বাড়ানোর পর গত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সাকিবের আয় ক্রিমারের চেয়ে বেশি ছিল। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আয় বেশিরভাগ দেশের তুলনায় এখনও অনেক কম; বিশেষ করে মধ্যম ও তার পরের ধাপের ক্রিকেটারদের আয়।

এমসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান মাইক গ্যাটিং। কমিটিতে আছেন রিকি পন্টিং, কুমার সাঙ্গাকারা, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, সুজি বেটস, কুমার ধর্মসেনা, টিম মে, রমিজ রাজার মত ক্রিকেট ব্যক্তিত্বরা।

ক্রিকেটাররা যেন আরও বেশি আয় করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আইসিসিকে আরও ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়েছেন রিকি পন্টিং।

“আইসিসিকে আরও সম্পৃক্ত হয়ে নিশ্চিত করতে হবে, অর্থ যাদের কাছে যাওয়া উচিত, তাদের কাছেই যেন যায়-ক্রিকেটারদের কাছে। এটা বুঝতে হবে, ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগগুলো ক্রিকেটারদের কাছে সহজ বিকল্প এনে দিচ্ছে যে দেশকে প্রতিনিধিত্ব না করলেও চলবে, ওসব লিগে আরও বেশি অর্থ মিলবে।”

পন্টিংয়ের দাবি, সব দেশের ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক যেন ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার কাছাকাছি কিছু হয়।

“ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা আইপিএলের দিকে বেশি ঝুঁকবে না, কারণ তাদেরকে ভালো পারিতোষিক দেওয়া হয়। এজন্য নিশ্চিত করতে হবে সেরা ক্রিকেটাররা যেন বছরের বেশিরভাগ সময় টেস্ট ক্রিকেট খেলে। তাই তাদেরকে এমন ভাবে দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় চুক্তিতে রাখতে হবে যেন অন্য প্রলোভনে তারা না ঝুঁকে এবং জীবনের পরের ধাপে যেন তাদের আর্থিক নিরাপত্তা থাকে।”

“নিশ্চিত করতে হবে, চুক্তি যেন অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের কাছাকাছি হয়। তাহলে তাদের চলে যাওয়া ও জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করতে না চাওয়ার সুযোগ কমবে।”

জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারা কতটা গর্বের, সেই কথা বলেছেন সাকিব। পাশাপাশি তুলে ধরেছেন সময়ের বাস্তবতাও। সেটিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন পন্টিং।

“বাংলাদেশে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা কিছু প্রসঙ্গ ও ঘটনার কথা বলেছে সাকিব। পাশাপাশি সে এটিও বলেছে, টাকা কোথায় যাচ্ছে, সেটির নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে আইসিসিকে। কারণ সে জানে, অনেক অর্থই সঠিক জায়গায় যাচ্ছে কিন্তু ক্রিকেটারদের কাছে যেভাবে যাওয়া উচিত, সেভাবে যাচ্ছে না।”

মেয়েদের ক্রিকেটে আয়ে বৈষম্য নিয়েও আলোচনা হয়েছে কমিটির সভায়। ধনী ক্রিকেট বোর্ডগুলো আরও ধনী হচ্ছে, অন্যরা তাল মিলিয়ে এগোতে পারছে না, এটি নিয়ে শঙ্কার কথাও আলোচনা হয়েছে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts