মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী আর নেই

mohammad ali
Share Button

সর্বকালের সেরা মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী আর নেই। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার একটি হাসপাতালে শুক্রবার কিংবদন্তী এ ক্রিড়াবিদ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

পরিবারের মুখপাত্র বব গানেল সংবাদমাধ্যমকে জানান, আলীর জন্মস্থান কেনটাকির লুইসভিলে শেষকৃত্য অনুষ্ঠান হবে।

বৃহস্পতিবার (০২ জুন) ‘শ্বাসকষ্টজনিত’ সমস্যা দেখা দিলে মোহাম্মদ আলীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগেও বেশ কয়েক দফায় অসুস্থতায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাকে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ফুসফুসের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আলী। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে মূত্রঘটিত সংক্রমণের জন্য হাসপাতালে আনা হয়েছিল তাকে।

১৯৪২ সালের ১৭ জানুয়ারি আলী আফ্রিকান-আমেরিকান মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ক্যাসিয়াস মার্কাস ক্লে সিনিয়র ছিলেন সাইনবোর্ড বিলবোর্ড পেইন্টার, আর মা গৃহিণী।

কিংবদন্তী এ বক্সারের বক্সিংয়ে আসাটা কিন্তু অনেকটাই নাটকীয়। ১২ বছর বয়সে আলী এক সাইকেল চোরকে ধরে ঘুসি মেরেছিলেন। আর এটা দেখেই মুগ্ধ হয়েছিলেন লুইসভিল থানার পুলিশ অফিসার জো মার্টিন। তিনিই আগ্রহী হয়ে আলীকে বক্সিংয়ের কোচিং দেন।

১৯৬০ সালের ২৯ অক্টোবর ১৮ বছর বয়সে বক্সিং রিংয়ে অভিষেক হয় আলীর। শুরুতেই প্রতিপক্ষ টানি হানসেকার। বেশ ভালোভাবেই জেতেন ম্যাচটা। তারপর ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত ১৯টি ম্যাচ খেলে সবগুলোতেই জেতেন। সে সময় আলী জিম রবিনসন, হেনরি কুপার, জর্জ লোগান, আলন্সো জনসন ও জনি ফ্লি ম্যানের মতো বক্সারদের হারান। ১৯৬২ সালে হারান আর্চি মুরকেও। ১৯৬৩ সালে আলী ও ডাগ জোন্সের ম্যাচটি ছিল ‘ফাইট অব দি ইয়ার’।

১৯৬০ সাল ছিল আলীর জীবনের স্মরণীয় একটি বছর। রোম অলিম্পিকে বক্সিংয়ে সোনা জেতেন। অলিম্পিকে স্বর্ণ পদক জয়ী খেলোয়াড় হওয়ার পরও রোমের একটি রেস্টুরেন্টে তাকে খাবার দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। ‘অপরাধ’ তিনি ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ! রাগে, দুঃখে, অপমানে আলী অলিম্পিক মেডেলটি টাইগ্রিস নদীতে ফেলে দেন। ১৯৬১ সালে আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গ নেতা মালেক এল শাহাবাজের (ম্যালকম এক্স) অনুপ্রেরণায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তারপর থেকে পরিচিত হন ‘মোহাম্মদ আলী’ নামে।

নতুন পরিচয় সবাই সহজভাবে নিতে পারল না। বড় বড় স্পনসর মুখ ফিরিয়ে নিল। ১৯৬৭ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধে যাওয়ার ডাক এল, কিন্তু তিনি মানবতার পক্ষে থেকে যুদ্ধে যেতে অস্বীকার করেন। তাকে জেলে পাঠানো হয়।

‘শতাব্দীর সেরা ক্রীড়াবিদ’ হিসেবে পরিচিত আলি শুধু বক্সিংয়ের রিংয়েই দুর্দান্ত ছিলেন না, ম্যাচের আগে-পরে কথাবার্তাতেও ছিলেন পটু। তিনি ছিলেন একজন মানবাধিকার কর্মী যিনি খেলা ও জাতীয়তার সীমা ছাড়িয়ে পুরো বিশ্বে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts