ক্রিকেটার আজমলের লড়াইয়ের গল্প

ক্রিকেটার আজমলের লড়াইয়ের গল্প
Share Button

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ব্যাটসম্যানদের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম ছিল সাঈদ আজমল। কিন্তু অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের কারণে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় পড়তে হয়েছে তাকে। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে জাতীয় দলে ফিরলেও পুরোনো ছন্দ আর ফিরে পাননি এ অফস্পিনার, ফলে ছিটকে পড়তে হয়েছে তাকে। একসময় অবসরের ভাবনা চেপে ধরেছিল আজমলকে, নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রাখতে পারেননি তিনি। কিন্তু দিনের পর দিন পরিশ্রম করে তিনি নিজেকে ফের বিশ্বমঞ্চে আবির্ভাবের জন্য প্রস্তুত করেছেন। দুবাইয়ে পিএসএল খেলতে গিয়ে এ লড়াইয়ের গল্পই তিনি জানিয়েছেন ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে।

৩৮ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের দায়ে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। সেই সময়ের অনুভূতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার নিজের ব্যাপারে খুব সন্দেহ ছিল। মনে হচ্ছিল আমি চাকিং করছি। বহিষ্কারের প্রায় ১ বছর পর এ ভীতি দূর হতে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি। ফিরে আসার আগে নিজেকে স্বচ্ছ করতে আমি কমপক্ষে ১২ হাজার ডেলিভারি করেছি। প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০ বল করেছি।’

দীর্ঘ পরিশ্রমের পর জাতীয় দলে ফিরে আসলেও তেমন কার্যকর বল করতে পারেননি আজমল। ২০১৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ টোয়েন্টি২০ ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন তিনি, ৩.২ ওভারে ২৫ রান দিয়ে কোনো উইকেট সংগ্রহ করতে পারেননি আজমল। ওই সফরে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি ওয়ানডেতে তিনি ১৯.১ ওভার বল করে ১২৩ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। এরপর আর জাতীয় দলে ফিরতে পারেননি তিনি।

তবে দল থেকে বাদ পড়ার পর পাকিস্তানের কিংবদন্তি অফস্পিনার সাকলায়েন মুশতাকের কাছে ফিরে আসার লড়াইয়ের দীক্ষা নিয়েছেন। আর এখন তার নিজের কাছেই নিজেকে ভিন্ন বোলার মনে হয়। সাঈদ আজমল বলেন, ‘আমি এখন প্রস্তুত। বাংলাদেশের ওই সফরটি ছিল আমার জন্য ভিন্ন। আমি তখন ভেতরে ভীত ছিলাম। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম করে সে ভয় দূর করেছি।’

নিজের পরিশ্রমের ব্যাপারে তিনি বলেছেন, ‘গত ছয় মাসে আমি ১০০-এর বেশি ক্লাব ম্যাচ খেলেছি। তখন অনেক ছক্কার মারও খেয়েছি। তবে আমি বুঝতে পেরেছি যে, কোন অবস্থায় আমাকে ব্যাটসম্যানরা মারছে। সেজন্য ক্লাব, স্থানীয় পর্যায় ছাড়াও বাইরেও অনেক ম্যাচ খেলেছি।’

তিনি বলেন, ‘ধীরে ধীরে আমার আত্মবিশ্বাস ফিরে আসছে। আমার মন ভাবতে শুরু করেছে, এখন আমার নিজের হাতে বলের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, এটিই আমার সঠিক ফ্যাশন।’

দলের বাইরে থাকার সময়ে পাকিস্তানের হার তাকে পোড়ায় জানিয়ে এ অফস্পিনার বলেন, ‘আমি ফিরব, সেদিন বেশি দূরে নয়। অনেক সময় আমি বাইরে থেকে কাটিয়েছি। এটি আমাকে পোড়ায়, যখন পাকিস্তান হারে।’

সাঈদ আজমল পাকিস্তানের এশিয়া কাপ ও টোয়েন্টি২০ বিশ্বকাপের দলেও জায়গা পাননি। তবে পিএসএলে তার পারফরম্যান্সের উন্নতি দেখা যাচ্ছে। ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে তিনি ৫ ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে অনেক চাপ ছিল। কিন্ত ভালো বল করেছি। শেষ ম্যাচে আমি আমার মতো বল করতে চেয়েছি। পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও ফিরে পেয়েছি।’

তবে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলেও বোলিং অ্যাকশন নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। আজমল বলেন, ‘প্রতি ম্যাচেই আমি আমার ভিডিও দেখি। কোনো বল প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে কি না তা দেখতে। তবে আমার শতকরা ৯৯ ভাগ বল ভালো হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি শেষ হয়ে গিয়েছি ভাবছিলাম, ভাবছিলাম আমার অবসর নেওয়া উচিত। কিন্তু আমি ক্রিকেট ছাড়ব নতুন অ্যাকশনে। যদি আমি কার্যকর না হই, তাহলে আমি ক্রিকেট ছেড়ে দেব।’

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment