টাইগারদের ব্যাটিং ধসের বছর ২০১৬!

বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস
Share Button

প্রথম উইকেট জুটিতে ১০২ রান। ১৭৯ রানে ৭ উইকেট। এটি  নেলসনে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং চিত্র। গত দশ মাসে এমন আটটি ব্যাটিং ধসে শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোয়াইট ওয়াশ করেরে দলকে। দুই দিন আগে মাত্র ৭৯ রানে শেষ ৯ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের পরিসংখ্যান করলে এক কথায় বছরটি টাইগারদের ব্যাটিং ধসের বছর বলা যায়।

বছরের প্রথম ব্যাটিং ধস ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। যার গন্ডি থেকে  সারা বছরেও বের হতে পারেনি টাইগাররা। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ অপ্রয়োজনীয় স্টোক খেলতে গিয়ে আউট হন। ফলে দলকে তার চরম মূল্য দিতে হয়।

এক নজরে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস

০ রানে ৩ উইকেট, প্রতিপক্ষ ভারত, টিটোয়েন্টি ২য় ইনিংস, ব্যাঙ্গালোর

৬২ রানে ৭ উইকেট, প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান, ওয়ানডে ১ম ইনিংস, ঢাকা

৫৪ রানে ৭ উইকেট, প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান, ওয়ানডে ১ম ইনিংস, ঢাকা

৬৭ রানে ৬ উইকেট, প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান, ওয়ানডে ২য় ইনিংস, ঢাকা

১৭ রানে ৭ উইকেট, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ওয়ানডে ২য় ইনিংস, ঢাকা

৪৯ রানে ৯ উইকেট, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, টেস্ট ১ম ইনিংস, ঢাকা

৭৯ রানে ৯ উইকেট, প্রতিপক্ষ নিউজল্যান্ড, ওয়ানডে ২য় ইনিংস, নেলসন

৭৭ রানে ৭ উইকেট, প্রতিপক্ষ নিউজল্যান্ড, ওয়ানডে ১ম ইনিংস, নেলসন

 

২০১৫ সালটি টাইগারদের স্বর্ণালী বছর হিসেবে কেটেছে। মুশফিক-সৌম্যর ব্যাটিং গড় ছিল ৫০ এর বেশি। তামিম-মাহমুদুল্লাহ দুই’শর বেশি রান করেছে।  দলের পাচ জন ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইক রেট ছিল ৯০এর বেশি। সাকিব খুব কমই বড় ইনিংস খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন।

কিন্তু ২০১৬ সালে সৌম্য চার ইনিংসে মাত্র ৩২ রান করেছেন। মুশফিক প্রথম ম্যাচে ভাল খেলতে শরু করলেও ইনজুরিতে পড়েন। তামিমের স্ট্রাইক রেট কমলেও তার ব্যাটিং গড় ৪৫। ইমরুল খুব ভাল না খেললেও যেসব ম্যাচে দল জয়ী হয়েছে তাতে তার গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা ছিল।

সাব্বির ৩ নাম্বার পজিশনে এখনো নিজেকে প্রমান করতে পানেন নি। মাহমুদুল্লাহ ব্যাটিংয়ে সেই ২০১৪ সালের চিত্র।

নতুনদের মধ্যে ঘরোয়া ম্যচের মত আন্তর্জাতিকে মোসাদদ্দেক চাপের মুখে ভাল খেলতে পারছেন না। সে তুলনায় নুরুল ভাল করছেন। তানভীরকে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত মনে হচ্ছে না।

 

টাইগারদের ব্যাটিং ধস শুধু অপরিচিত কন্ডিশনেই হচ্ছে এমন নয়। ঘরের মাঠ মিরপুর কিংবা চট্রগ্রামে এমন একাধিক ধস দেখা গেছে। যদিও ব্যাটিং ধসের পর তারা একাধিক ম্যাচ বের করে নিতে সক্ষম হয়েছে।

মিরপুরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ধসের পরও ম্যাচ জেতে টাইগাররা। কিন্তু পরের ম্যাচে আর ধস অতিক্রম করে ম্যাচ বের করতে পারেনি তারা। তৃতীয় ম্যাচেও ৬৭ রানে ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জেতে টাইগাররা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচে ইমরুল-সাকিবের ১১৮ রানের ৫ম উইকেট জুটির পর মাত্র ১৭ রানে ৬ উইকেট হারায় মিরপুরের মাঠে।একই দলের বিপক্ষে তামিম-মুমিনুলের একটি বড় জুটির পর টেস্টে মাত্র ৪৯ রানে হারায় ৯ উইকেট।

তবে ব্যতিক্রম মাশরাফি। তিনি ব্যাটে বলে সমানভাবে পারফরম করেছেন বছরজুড়ে। তার অধিনায়কত্বও প্রশ্নাতীত।

সুত্র : ক্রিকইনফো।

 

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts