টেস্টে সিনিয়রদের না থাকার কারণ টাকা: স্যামুয়েলস

স্যামুয়েলসের ‘উদ্ধতা’য় অস্ট্রেলিয়ায় ক্ষোভ
Share Button

ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট ঐতিহ্য অসাধারণ। খুব বেশিদিন আগের কথা না যখন টেস্টে বিশ্ব শাসন করতো তারাই। লম্বা সময় এমন গেছে। কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই। কমবেশি সবাই জানেন টেস্টে তাদের কেন এই অবস্থা। খেলোয়াড়রা টেস্টে আগ্রহী হতে পারছেন না।

কারণটা অর্থনৈতিক। আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল হিরো মারলন স্যামুয়েলস বলছেন, বেতনের সমস্যাই সিনিয়র খেলোয়াড়দের টেস্ট থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

স্যামুয়েলস নিজেও সিনিয়র খেলোয়াড়। কিন্তু টেস্ট খেলেন। তবে পরিস্থিতি যা তাতে তিনি নিজেও টেস্ট থেকে অবসর নেয়ার কথা ভাবছেন, “বিষয়টা এখন যেমন তাতে এটা (টেস্ট) ছেড়ে দেওয়ার উপক্রম আমারও। যতোদিন সম্ভব খেলে যেতে চাই যদিও। উন্নতি হয় কি না সংশয় আছে।”

স্যামুয়েলস এই পরিস্থিতির নেতিবাচক ব্যাপারটাও তুলে ধরেছেন, “সিস্টেম দেখলে দেখবেন আমাদের দলে এখন তরুণই বেশি। অথচ দলে বেশি সিনিয়র খেলোয়াড় এবং কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড় থাকার কথা ছিল। তার মানে বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে আমরা সঠিক পথে নেই।”

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটের উন্নতিতে অর্থ বিনিয়োগ করছে। তা করতে গিয়ে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বেতন কমিয়েছে। তাতে অনেক ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার বিশ্বের বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে তাদের আয়ের উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছে।

টেস্ট ক্রিকেটে আর আগ্রহ নেই তাদের। স্যামুয়েলস বলছিলেন, “উদাহরণ দিচ্ছি। অনেক খেলোয়াড় এখন কেবল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলছে। যদিও টেস্টে ভালো করার দারুণ সামর্থ্য আছে তাদের। কিন্তু তারা উৎসাহিত হচ্ছে না।”

এছাড়া ক্রিকেট বোর্ডের ওপর খেলোয়াড়দের আস্থাহীনতার সমস্যাও আছে। বিশ্ব ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়দের দারুণ দাম। কিন্তু কেবল তাদের বোর্ডের কাছেই মূল্য পাচ্ছেন না। নতুন পেমেন্ট নীতিতে ৭৫ শতাংশ ম্যাচ ফি কমেছে তাদের।

কিন্তু ক্রিকেট তো তাদের জীবিকা। খেলোয়াড়রা তাই কেউ খুশি না। স্যামুয়েলস জানিয়েছেন, “এই পরিস্থিতি আমাদের সিনিয়র খেলোয়াড়দের লম্বা দৈর্ঘ্যের ক্রিকেট খেলতে উৎসাহিত বা উজ্জীবীত করার মতো না।” ২০০০ সালে টেস্ট অভিষেক স্যামুয়েলসের।

৩৫ বছরের এই ব্যাটসম্যান ৬৪ টেস্ট খেলেছেন। ৭ সেঞ্চুরিতে ৩৩.৫৩ গড়ে করেছেন ৩৬২৪ রান।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts